ফ্রান্সের হাতে আটক একটি তেলবাহী জাহাজের রুশ ক্যাপ্টেনকে অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়েছে রাশিয়া। মস্কোর দাবি, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
প্যারিসে অবস্থিত রুশ দূতাবাসের বরাতে এ তথ্য জানায় ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম দ্য হিন্দু।
দূতাবাসের ওই বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা আবারও ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। রুশ নাগরিকটির সঙ্গে অবিলম্বে কনস্যুলার যোগাযোগের সুযোগ ও তার দ্রুত মুক্তি দাবি করেছি।
ফরাসি কর্তৃপক্ষ তাদের জানিয়েছে, আটক জাহাজটির ক্যাপ্টেন একজন রুশ নাগরিক। তাকে তথাকথিত ‘মনগড়া অভিযোগে’ আটক রাখা হয়েছে।
এর আগে ফ্রান্সের নৌবাহিনী জানায়, তারা আটলান্টিক মহাসাগরে রাশিয়ার তেল বাণিজ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নিষেধাজ্ঞাভুক্ত ট্যাংকার ‘ট্যাগর’ নামের একটি জাহাজ আটক করেছে। পরে জাহাজটিকে ফ্রান্সের মূল ভূখণ্ডের দিকে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে মস্কো। রাশিয়ার দাবি, ফ্রান্সের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে এবং এটি ‘আন্তর্জাতিক জলদস্যুতার’ শামিল।
ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে রাশিয়া পুরোনো ও বিভিন্ন দেশের পতাকাবাহী জাহাজ ব্যবহার করে তেল ও গ্যাস রপ্তানি অব্যাহত রেখেছে। পশ্চিমা দেশগুলো এই নেটওয়ার্ককে ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা ছায়া বহর হিসেবে অভিহিত করে।
ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, ইউক্রেনে যুদ্ধ পরিচালনার জন্য রাশিয়ার অর্থায়নের সক্ষমতা দুর্বল করতে ইউরোপীয় কৌশলের অংশ হিসেবে তারা এসব জাহাজের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাবে।
তবে রাশিয়া এই ‘শ্যাডো ফ্লিট’ শব্দটি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, তাদের তেল পরিবহন সম্পূর্ণ বৈধ। একই সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর ট্যাংকার আটকানোর প্রচেষ্টাকে বেআইনি ও জলদস্যুতার সঙ্গে তুলনা করেছে মস্কো।
রুশ কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে বলেছে, নিজেদের জাহাজ ও সামুদ্রিক বাণিজ্য রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার তারা সংরক্ষণ করে।
এই ঘটনাকে ঘিরে মস্কো ও প্যারিসের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা এবং রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানি ঘিরে বিরোধ ইতোমধ্যেই দুই পক্ষের সম্পর্ককে তলানিতে ঠেলে দিয়েছে।




