kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো। ধারাবাহিক

গোবর ও রক্ত থেকে বিশুদ্ধ দুধ আল্লাহর কুদরতের নিদর্শন

৬ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



গোবর ও রক্ত থেকে বিশুদ্ধ দুধ আল্লাহর কুদরতের নিদর্শন

৬৬. অবশ্যই গবাদি পশুর মধ্যে তোমাদের জন্য শিক্ষা রয়েছে। তাদের উদরস্থিত গোবর ও রক্তের মধ্য থেকে আমি তোমাদের পান করাই বিশুদ্ধ দুধ, যা পানকারীদের জন্য সুস্বাদু। (সুরা : নাহল, আয়াত : ৬৬)

তাফসির : আগের আয়াতে পানির মধ্যে আল্লাহর কুদরত সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছিল। আলোচ্য আয়াতে মানুষের প্রতি আল্লাহ তাআলার আরেকটি বড় নিয়ামত, অর্থাৎ দুধের কথা বলা হয়েছে। মহান আল্লাহ পশুর হজম হওয়া খাবার ও রক্ত থেকে মানুষের জন্য উত্কৃষ্ট দুধের ব্যবস্থা করেছেন। আল্লাহর কী কুদরত! এই দুধে পশুখাদ্য বা পশুর রক্তের কোনো রং বা গন্ধ নেই। গৃহপালিত পশু প্রকৃতিতে ছড়িয়ে থাকা সবুজ ঘাস ও তরুলতা খাবার হিসেবে গ্রহণ করে মানুষকে সাদা ও বিশুদ্ধ দুধ সরবরাহ করছে। এতে অবশ্যই মানুষের চিন্তার খোরাক রয়েছে।

গোবর ও রক্তের মাঝখান থেকে পরিষ্কার দুধ বের করা সম্পর্কে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘জন্তুর ভক্ষিত ঘাস তার পাকস্থলীতে একত্রিত হলে পাকস্থলী তা সিদ্ধ করে। এ প্রক্রিয়ার ফলে খাদ্যের বিষ্ঠা নিচে বসে যায় এবং দুধ ওপরে থেকে যায়। দুধের ওপরে থাকে রক্ত। এরপর যকৃৎ এই তিন ধরনের বস্তুকে পৃথক করে রগের মধ্যে চালায় এবং আলাদাভাবে জন্তুর স্তনে দুধ ভাগ করে দেয়। এখন পাকস্থলীতে শুধু বিষ্ঠা থেকে যায়, যা গোবর হয়ে বেরিয়ে আসে।’ (মা’আরিফুল কোরআন)

দুধ উৎপাদিত হয় বিস্ময়কর রাসায়নিক প্রক্রিয়ায়। এটি মানুষের জানা সবচেয়ে জটিল দৈহিক রাসায়নিক প্রক্রিয়ার অন্যতম। হিসাব করে দেখা গেছে, এক আউন্স দুধ তৈরির জন্য প্রায় ৪০০ আউন্স রক্ত স্তনে প্রবাহিত হওয়ার প্রয়োজন হয়। অথচ রক্তের উপাদানগুলো দুধের উপাদানের তুলনায় একেবারেই আলাদা, অর্থাৎ রক্তের অ্যামাইনো এসিড দুধের জটিল প্রোটিন বিন্যাস থেকে একেবারেই ভিন্ন। রক্তে গ্লুকোজ বা শর্করা দুধের শর্করা থেকে অনেক ভিন্ন। আর রক্তের স্নেহাম্ল বা ফ্যাটি এসিড দুধের স্নেহপদার্থ থেকে একেবারেই আলাদা।

লন্ডনভিত্তিক স্বাস্থ্য সংস্থা ‘দ্য রিডার্স ডাইজেস্ট অ্যাসোসিয়েশন লিমিটেডে’র গবেষণামতে, গ্রন্থিময় দেহকলা বিন্যস্ত স্তন থেকে দুধ উৎপাদিত হয়। স্তনের তন্তুময় দেহকলা লতিগুলোকে মেদময় দেহকলার সঙ্গে সংযুক্ত করে। স্তনের বাঁট অনেক লতি দিয়ে গঠিত। এগুলোতে রয়েছে বহু লতিকার সমাবেশ, যেগুলো আন্তরকলা, রক্তবাহী নালি সমন্বয়ে গঠিত। প্রতিটি লতিকায় রয়েছে গোলাকার একগুচ্ছ বায়ুস্থলী, যা দুগ্ধোৎপাদক নালিগুলোর ক্ষুদ্রতম শাখার দিকে উন্মুক্ত। এই দুগ্ধোৎপাদী শাখাগুলো একত্র হয়ে একেকটি দুগ্ধোৎপাদক নালি হিসেবে গঠিত হয়, যা গ্রন্থির একটি লতি দিয়ে বেরিয়ে আসে। আর এসব নালি দিয়ে দুধ বাঁটে পৌঁছে।

জীববিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করে দেখেছেন যে গাভি খাদ্যের মাধ্যমে যেসব প্রোটিন খায়, তার তুলনায় গাভির থেকে বেরিয়ে আসা সামষ্টিক দুধের প্রোটিন অনেক বেশি। তাহলে প্রশ্ন জাগে, দুধের এই অতিরিক্ত প্রোটিন কোথা থেকে এলো? অদৃশ্য কোনো মহাক্ষমতাধর কি সেখানে তাঁর মহাকুদরতের চিহ্ন রেখে দিয়েছেন?

 

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ



মন্তব্য