kalerkantho


প্রবাসীদের পাশে চান মাহমুদ উল্লাহ

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



প্রবাসীদের পাশে চান মাহমুদ উল্লাহ

আশা করি, আমরা এখানে মাঠে প্রচুর সমর্থন পাব, কারণ প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটা বড় অংশ এখানে বাস করেন। আশা করছি তারা মাঠে আসবেন, আমাদের সমর্থন করবেন আর তাদের সামনে ভালো ফল করতে পারব।

 

পৃথিবীটা ছোট হয়ে এসেছে মাহমুদ উল্লাহর কাছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর শেষ হতে না হতেই ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে সেন্ট কিটস দলের হয়ে খেলা শুরু। সিপিএল শেষ হতে না হতেই আবার সংযুক্ত আরব আমিরাতে এশিয়া কাপ। সিপিএল খেলার কারণে দেশে কোচ স্টিভ রোডস আর ফিজিও মারিও ভিল্লাভারায়েনের তত্ত্বাবধানে অনুশীলন ক্যাম্পে ছিলেন না। যদিও সেন্ট কিটস প্যাট্রিয়টসের হয়ে খেলা বেশ কিছু ম্যাচ পুষিয়ে দিয়েছে সেই ঘাটতি। দুবাইতে, আইসিসি ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে অনুশীলনের ফাঁকে এই অলরাউন্ডার জানালেন, মাঠে খেলা দেখতে আসা প্রবাসী সমর্থকদের জন্য ভালো কিছু স্মৃতি উপহার দেওয়ার চেষ্টাই থাকবে বাংলাদেশ দলের প্রতিটি সদস্যের।

বিদেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে বাংলাদেশের নিয়মিত মুখ সাকিব আল হাসান। আইপিএল, বিগ ব্যাশে নিয়মিত খেলছেন এই অলরাউন্ডার। ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের প্রতিযোগিতামূলক ভুবনে নিজস্ব একটা জায়গা করে নিয়েছেন মাহমুদ উল্লাহও। বিপিএলে খুলনা টাইটানসের অধিনায়ক মাহমুদ উল্লাহর অলরাউন্ড নৈপুণ্য নজর কেড়েছে ভিনদেশি লিগের ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদেরও। পাকিস্তান সুপার লিগে কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটরসের হয়ে খেলার সুবাদে এশিয়া কাপের দুই ভেন্যু দুবাই ও আবুধাবির উইকেটের সঙ্গে পরিচিত মাহমুদ উল্লাহ জানালেন, ‘এখন বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ অনেক বেশি। পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে আমাকে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে আর সব ধরনের পরিস্থিতিতেই খেলতে হবে। আমরা বরং কন্ডিশনের ব্যাপারটা ইতিবাচকভাবেই দেখছি।’ দুবাই স্পোর্টস সিটিতে, আইসিসির একাডেমিতে ঘাম ঝরানো অনুশীলন শেষে মাহমুদ  জানালেন প্রথম ম্যাচের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কাকে নিয়ে তাঁর ভাবনার কথা, ‘শ্রীলঙ্কার সঙ্গে আমাদের দারুণ কিছু স্মৃতি আছে। তবে শ্রীলঙ্কা শক্তিশালী দল এবং তারা খুব ভালো ক্রিকেট খেলছে। তাদের হারাতে হলে আমাদেরও ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। আমাদের প্রস্তুতি খুব ভালো হয়েছে। আশা করছি ভালো কিছু করতে পারব।’

সবশেষ ওয়ানডে ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৪৯ বলে অপরাজিত ৬৭ রানের ইনিংস আছে। এরপর টি-টোয়েন্টি সিরিজেও রানের দেখা পেয়েছেন, সিপিএলে জ্যামাইকার বিপক্ষে ১১ বলে অপরাজিত ২৮ রানের ইনিংসের স্মৃতিও টাটকা। সেই ধারাবাহিকতাটা মাহমুদ উল্লাহ ধরে রাখতে চান এশিয়া কাপেও, ‘ব্যক্তিগতভাবে ভালো কিছু করতে চাই আর দিন দিন নিজের খেলার মান আরো বাড়াতে চাই।’ চাপের মুখে দলকে জেতানোর স্মৃতি যেমন আছে, তেমনি ম্যাচ শেষ করে না আসার খেসারত দেওয়ার অভিজ্ঞতাও কম নয়। মাহমুদ উল্লাহ সেই হিসাব-নিকাশের জটিলতায় যেতে চান না, ‘দলের জন্য অবদান রাখতে পারলে অবশ্যই ভালো লাগে। আর দল যখন আমার নৈপুণ্যে জেতে তখন আরো ভালো লাগে। আমি ব্যাপারগুলো জটিল করতে চাই না, যতটা পারি দলের জয়ে অবদান রাখতে চাই।’

মাহমুদ উল্লাহর কবজির মোচড়ে খেলা শটগুলো মনে করিয়ে দেয় ভিভিএস লক্ষ্মণকে। শুনে বিনয়ে নুয়ে পড়া এই ডানহাতি ব্যাটসম্যানের উত্তর, ‘এটা খুবই বড় একটা সম্মানের কথা। লক্ষ্মণ তাঁর দেশের সেরা ব্যাটসম্যানদের একজন, তাঁর সঙ্গে তুলনীয় হতে পারাটাও আমার জন্য অনেক সম্মানের।’ তবে লক্ষ্মণ যেমন শুধুই ব্যাটসম্যান ছিলেন, তেমনটা না থেকে নিজের বোলিং দক্ষতাটাও কাজে লাগাতে চান মাহমুদ উল্লাহ, ‘আমি নিজেকে ব্যাটিং অলরাউন্ডার মনে করি। আমার কাছে ব্যাটিংটা আগে, বোলিংটা পরে। আমি সব সময়ই দুটি দক্ষতারই চর্চা করতে পছন্দ করি, কারণ এতে আমাদের মতো দলের জন্য জিততে সুবিধা হয়। আমি জানি আমাকে ব্যাট হাতে অথবা বল হাতে, কোনো একভাবে অবদান রাখতেই হবে কারণ বেশ দারুণ কিছু তরুণ ক্রিকেটার উঠে আসছে।’

এশিয়া কাপের সবশেষ তিনটি আসরই হয়েছে বাংলাদেশে, যার দুটিতেই ফাইনাল খেলেছে বাংলাদেশ। এবারে ভেন্যু বদলে সংযুক্ত আরব আমিরাতে। মাহমুদ উল্লাহর আশা, প্রবাসী বাংলাদেশি সমর্থকরা মাঠে এসে সমর্থন দিয়ে আরব আমিরাতের বুকেই তৈরি করবেন এক টুকরো বাংলাদেশ, ‘আশা করি, আমরা এখানে মাঠে প্রচুর সমর্থন পাব, কারণ প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটা বড় অংশ এখানে বাস করেন। আশা করছি তারা মাঠে আসবেন, আমাদের সমর্থন করবেন আর তাদের সামনে ভালো ফল করতে পারব।’ গালফ নিউজ

 



মন্তব্য