kalerkantho


হত্যা মামলা প্রত্যাহার ইস্যুতে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য সংসদে

বিএনপির নিবন্ধন বাতিল করার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



রাজনৈতিক বিবেচনায় হত্যা মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়ে জাতীয় সংসদে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য উত্থাপন করেছেন সরকারদলীয় ও বিরোধীদলীয় সদস্যরা। বর্তমান সরকারের আমলে দায়ের করা মামলা রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহার করা হলে ওই হত্যাকাণ্ডের বিচারের কী হবে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান। জবাবে চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ বলেন, এরশাদ সরকারের আমলেও এমন ঘটনা ঘটেছিল। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে আলোচনার সুযোগ নিয়ে দুই সদস্যের এমন পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে নিষ্প্রাণ সংসদে কিছুটা উত্তাপ ছড়ায়।

 

ওই সময় সংসদ অধিবেশন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, সরকার সুপারিশ করলেই মামলা প্রত্যাহার হবে, এটা ঠিক নয়। আদালত সুপারিশ বিবেচনা করে দেখবেন। আর যথাযথ ভিত্তি থাকলে সরকারের যেকোনো মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করার ক্ষমতা রয়েছে। খবরের কাগজে প্রকাশিত সংবাদের ওপর ভিত্তি করে অনুমানভিত্তিক বক্তব্য সংসদে না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এর আগে নির্ধারিত সময়ের প্রায় ৩০ মিনিট পর সংসদের মুলতবি অধিবেশন শুরু হয়। সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে উপস্থিতিও ছিল কম। অধিবেশনের শুরুতে লিখিত প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপন করা হয়।

এরপর দিনের অন্যান্য কার্যসূচি স্থগিত করে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনা শুরু হওয়ার আগ মুহূর্তে অনির্ধারিত আলোচনা হয়। এই আলোচনায় আরো অংশ নেন তরিকত ফেডারেশনের নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী এবং স্বতন্ত্র সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজী।

অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে তরিকত ফেডারেশনের নেতা সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী বিএনপির নিবন্ধন বাতিল করার দাবি জানান। কানাডার ফেডারেল আদালত বিএনপিকে ‘সন্ত্রাসী দল’ আখ্যা দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি এই দাবি করেন। সেই সঙ্গে তিনি অগ্নি-সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ এনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করারও দাবি জানান। নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী বলেন, ‘এই বিএনপি গত নির্বাচনের আগে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছে। তাদের অত্যাচারে নারী-শিশুরা এখনো কাতরাচ্ছে। আমরা বারবার বলেছি, যারা যুদ্ধাপরাধী-সন্ত্রাসীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়, তারাও সন্ত্রাসী। তাদের নিবন্ধন বাতিল করতে হবে। ’ তিনি আরো বলেন, ‘বিদেশের মাটিতে এখন বিএনপিকে সন্ত্রাসী দল হিসেবে সনদ ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাই জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের জন্য যেমন তাদের নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে, বিএনপিরও নিবন্ধন বাতিল করতে হবে। ’

এর আগে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবরের উদ্ধৃতি দিয়ে পীর ফজলুর রহমান বলেন, সরকার আবারও রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার করার উদ্যোগ নিয়েছে। ১৯৯০ সালের পর সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা রাজনৈতিক মামলাগুলো প্রত্যাহার না করা হলেও সম্প্রতি ৩৪টি হত্যা মামলাসহ মোট ২০৬টি মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে মন্ত্রণালয়। এসব মামলার অধিকাংশই আওয়ামী লীগের দুই সরকারের আমলে দায়ের করা। আবার অনেক মামলার বাদী সরকার নিজেই। এর মধ্যে গত বছরে করা মামলাও প্রত্যাহারের তালিকায় রয়েছে।

সরকারের ওই সুপারিশের কঠোর সমালোচনা করে জাপা সংসদ সদস্য বলেন, ‘সরকারের দায়ের করা মামলা, সরকার কিভাবে রাজনৈতিক হয়রানিমূলক বলে? এ নিয়ে সবাই বিস্মিত। এর মধ্যে হত্যার পাশাপাশি ধর্ষণ, ছিনতাই, নাশকতা, ঘুষ লেনদেন, সরকারি টাকা আত্মসাৎ, ডাকাতি ও অস্ত্র মামলা রয়েছে। ’ তিনি বলেন, এর আগে গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাত হাজার ১৯৮টি মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছিল। এরই মধ্যে আদালত থেকে অনেকগুলো প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ‘এভাবে রাজনৈতিক বিবেচনায় হত্যা মামলা প্রত্যাহার করা হলে যাদের পরিবারের সদস্য খুন হয়েছে, তারা কি বিচার পাবে না? এই ৩৪টি হত্যা মামলায় কেউ না কেউ তো খুন হয়েছে। ওই হত্যাকাণ্ডগুলোর বিচারের কী হবে?’

এরপর ফ্লোর নিয়ে সরকারি দলের সদস্য ও চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ বলেন, বিরোধী দলে থাকলে অনেক কথাই বলা যায়। পত্রিকার খবর দেখে অনেক বক্তব্য দেওয়া যায়। কোনটা সত্য, আর কোনটা অসত্য এটা যাচাই করার প্রয়োজন হয় না। তিনি বলেন, ‘হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ যখন রাষ্ট্রপতি ছিলেন, তখন আমাদের গাজীপুরের ময়েজ উদ্দিন ভাইকে হত্যা করা হলো। ওই হত্যা মামলার মূল আসামি আজম খান। তাকে সঙ্গে নিয়ে এরশাদ সাহেব গাজীপুরে গিয়ে তাকে ভাই বলে পরিচয় করিয়ে দিলেন। পরে তাকে হত্যা মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো। ’

বিরোধীদলীয় সদস্যের বক্তব্য সঠিক নয় বলে দাবি করেন আ স ম ফিরোজ। তিনি বলেন, ‘উনি ৩৪টি হত্যা মামলার কথা বলেছেন, কিন্তু কিসের ভিত্তিতে? পত্রিকায় দেখে এই সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করে এ ধরনের বিবৃতি দেওয়া কোনোমতেই গ্রহণযোগ্য নয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আগামীতে এ বিষয়ে সংসদে বিবৃতি দেবেন বলে আশা করি। ’


মন্তব্য