kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো | ধা রা বা হি ক

ঈমানদার হয়েও অনেকে আল্লাহর সঙ্গে শরিক করে

১২ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



ঈমানদার হয়েও অনেকে আল্লাহর সঙ্গে শরিক করে

১০৫. আকাশ ও পৃথিবীতে অনেক নিদর্শন আছে, যার ওপর দিয়ে তারা পথ অতিক্রম করে (এসব প্রত্যক্ষ করে), অথচ তারা এসবের প্রতি উদাসীন।

১০৬. আবার অনেক মানুষ আল্লাহর ওপর বিশ্বাস স্থাপন করে, কিন্তু তারা শিরক করে।

(সুরা : ইউসুফ, আয়াত : ১০৫-১০৬)

তাফসির : আগের আয়াতে বলা হয়েছিল, সত্য প্রতিভাত হলেও বহু মানুষ তা গ্রহণ করে না। আলোচ্য প্রথম আয়াতে নবী করিম (সা.)-কে সান্ত্বনা দিয়ে বলা হয়েছে, মানুষ প্রতিনিয়ত আল্লাহর নিদর্শন প্রত্যক্ষ করছে, অথচ আল্লাহর অস্তিত্ব তাদের বোধগম্য হয় না। কাজেই অবিশ্বাসীরা যদি আপনার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে, তাহলে আপনি দুঃখিত হবেন না। আপনার আহ্বান তো বিশ্ববাসীর কল্যাণের উদ্দেশ্যে। এর পেছনে পার্থিব কোনো স্বার্থ নেই। সুতরাং আপনার চিন্তিত বা উদ্বিগ্ন হওয়ারও কোনো কারণ নেই।

আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টি মহান আল্লাহর অসীম শক্তি ও কুদরতের নিদর্শন বহন করছে। যারা এ ব্যাপারে উদাসীন, তারা সত্য গ্রহণ করার সৌভাগ্য লাভ করতে ব্যর্থ হয়।

এই আয়াতে আল্লাহ তাআলার তাওহিদ তথা একত্ববাদের পক্ষে যুক্তি ও প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে।

আল্লাহ আসমান ও জমিন তথা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সব কিছুর স্রষ্টা। চাঁদ, সূর্য ও তারাগুলোর মধ্যে কিছু আছে স্থির, কিছু চলমান। চলমান তারাগুলোর জন্য আল্লাহ গতিপথ সৃষ্টি করে রেখেছেন। পৃথিবীকেও তিনি বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত করে রেখেছেন। কোথাও পাহাড়, কোথাও সাগর-নদী, কোথাও ফসলি জমি, কোথাও বন-জঙ্গল, কোথাও আবাসভূমি ইত্যাদি রূপ তাঁরই নির্দেশে অস্তিত্ব লাভ করেছে। ফল, ফুল, খাদ্য, জীবজন্তু, গাছগাছালি—সবই তাঁর সৃষ্টি। জীবন ও মৃত্যু তাঁরই এখতিয়ারভুক্ত। আল্লাহ তাআলার গুণগান গেয়ে শেষ করার নয়। আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়। তাঁর কোনো অংশীদার বা সহযোগী নেই। তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন। তিনি চিরন্তন। তাঁর অস্তিত্ব সদাবিরাজমান। তা সত্ত্বেও বেশির ভাগ মানুষ তাঁর এসব গুণ ও ক্ষমতার বিষয়ে চিন্তা-গবেষণা করে না। এসব থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে না। তারা তাঁর প্রতি ঈমানও আনে না।

দ্বিতীয় আয়াতে বলা হয়েছে, যেসব মানুষ আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছে, তাদের বেশির ভাগই মুশরিক। অর্থাৎ এসব মানুষ আল্লাহর অস্তিত্ব ও ক্ষমতায় বিশ্বাসী হলেও আল্লাহর সঙ্গে শরিক করে, তাঁর জন্য অংশীদার সাব্যস্ত করে। শিরক করলে কোনো ঈমানদার প্রকৃত মুমিন থাকে না। সহিহ বুখারি ও মুসলিম শরিফে বর্ণিত হয়েছে, জাহেলি যুগে মুশরিকরাও হজ পালন করত। হজের সময় তারা তালবিয়ার বাক্য পাঠ শেষে বলত, ‘হে আল্লাহ, তোমার কোনো শরিক নেই। আমরা যাদের তোমার শরিক বলে বিশ্বাস করি, তাদের মালিকও তুমিই। ’ মুসলিম শরিফে উল্লেখ রয়েছে, মুশরিকরা যখন বলত, ‘হে আল্লাহ, আমি তোমার দরবারে হাজির। তোমার কোনো শরিক নেই’—এ পর্যন্ত উচ্চারণ করার সঙ্গে সঙ্গে প্রিয় নবী (সা.) বলতেন, ‘ব্যস, এখানেই থেমে যাও। আর কিছু বোলো না। ’

স্মরণ রাখতে হবে, অনেক শিরক আছে, যা খুবই সূক্ষ্ম। অনেকের পক্ষে তা বুঝে ওঠা সম্ভব হয় না। তাই সর্বাবস্থায় আল্লাহর দরবারে নির্ভেজাল ও খাঁটি ঈমান লাভের জন্য দোয়া করতে হবে। আল্লাহর কাছে নিজের দুর্বলতা ও অযোগ্যতা তুলে ধরে তাঁর সাহায্য কামনা করতে হবে। এটিই প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য।

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য