kalerkantho


চাঁদনীচকে হকারকে কুপিয়ে হত্যা

আরেকজন আশঙ্কাজনক

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



চাঁদনীচকে হকারকে কুপিয়ে হত্যা

আগের বিরোধের জের ধরে গতকাল বুধবার রাজধানীর চাঁদনীচক মার্কেটের সামনে খোকন মোল্লা (৩০) নামের এক হকারকে কুপিয়ে হত্যা করেছে আরেক হকার ও তার লোকজন। এ ঘটনায় বাবুল ব্যাপারী নামের আরেক হকারকে কুপিয়ে আহত করেছে দুর্বৃত্তরা। গুরুতর আহত বাবুলকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনার জের ধরে হকারদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে হামলাকারী কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।

নিহতের পরিবারের সদস্য ও হকারদের অভিযোগ, মাদক সেবনের বিরোধিতা করায় খোকনকে হত্যা করা হয়েছে।

হকাররা জানায়, খোকন ও বাবুল চাঁদনীচকের সামনের ফুটপাতে কসমেটিকসের ব্যবসা করতেন। তাঁদের পাশে ব্যবসা করত সাহাবউদ্দিনসহ কয়েকজন।

রুহুল আমিন নামের এক হকার জানান, গতকাল বিকেল পৌনে ৩টার দিকে সাহাবউদ্দিনসহ কয়েকজন মিলে খোকন ও বাবুলকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে পালিয়ে যায়। তখন অন্য হকাররা তাঁদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক খোকনকে মৃত ঘোষণা করেন।

আহত বাবুল ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনার পর হকারদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।

খোকন নিহত হওয়ার খবরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ছুটে যায় তার স্বজনরা। খোকনের স্ত্রী মিনারা বেগমসহ অন্যরা আহাজারি করতে থাকে।

স্বজনরা জানায়, খোকন ফরিদপুরের শাওতা এলাকার কালু মোল্লার ছেলে। ঢাকায় কামরাঙ্গীরচরে স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে থাকতেন তিনি।

খোকনের স্ত্রী মিনারা কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘তারা কেন আমার স্বামীকে খুন করল? তিনটা মেয়ে নিয়ে এখন আমি কোথায় যাব?’ হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

খোকনের ভাই লোকমান মোল্লা কালের কণ্ঠকে বলেন, চাঁদনীচক মার্কেটের ছাদে নিয়মিত মাদক সেবন করত সাহাবউদ্দিন, হানিফ, সোহেলসহ আরো কয়েকজন। তারা এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী। গত সোমবার তারা ছাদে মাদক সেবন করতে গেলে তাঁর ভাই খোকন বাধা দেন। এ নিয়ে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে তাঁর ভাইয়ের বাগিবতণ্ডা হয়। ওই সময় তাঁকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে চলে গিয়েছিল সন্ত্রাসীরা। হুমকির বিষয়টি খোকন পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন লোকমান।

খোকনের ভাই লোকমান আরো জানান, বিষয়টি হকার সমিতির নেতাদেরও জানিয়েছিলেন খোকন ও বাবুল। এতে আরো ক্ষিপ্ত হয় সাহাবউদ্দিন। গত মঙ্গলবার মার্কেট ও ফুটপাতের দোকান বন্ধ ছিল। গতকাল খোকন ও বাবুল ফুটপাতে কসমেটিকস বিক্রি করতে গেলে সাহাবউদ্দিন ও তার সঙ্গে থাকা হানিফ, সোহেলসহ আরো কয়েকজন তাঁদের ওপর হামলা করে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার মারুফ হোসেন সরদার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘হামলাকারীদের চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের আটক করতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে। আপাতত মনে হচ্ছে মাদক সেবনের বিরোধিতা করায় এ ঘটনা ঘটেছে। এর পরও অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ’ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

ঢাকা মহানগর পুলিশের নিউ মার্কেট জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) নাজমুন নাহার জানান, আসলে ঘটনাটি কী কারণে ঘটেছে তা স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।

তবে নিউ মার্কেট থানার ওসি আতিকুর রহমান বলেন, কয়েক দিন আগে সাহাবউদ্দিনের এক বন্ধুকে মারধর করেন খোকন। এরই জের ধরে সাহাবউদ্দিন কয়েকজন সহযোগীসহ তাঁর কাছে এসে মারার কারণ জানতে চায়। এ নিয়ে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে দুজনকে ছুরিকাঘাত করে সাহাবউদ্দিন।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পুলিশ ক্যাম্পের এসআই বাচ্চু মিয়া জানান, খোকনের লাশ মর্গে রাখা আছে। তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন রয়েছে। আর আহত বাবুলের বুকে ও পিঠে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। তাঁর অবস্থাও আশঙ্কাজনক। বাবুল ভোলার নজু ব্যাপারীর ছেলে। ঢাকায় তাঁর বাসাও কামরাঙ্গীরচরে।


মন্তব্য