kalerkantho


অষ্টম শ্রেণি চারু ও কারুকলা

সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন

মো. জাকির হোসেন সিনিয়র শিক্ষক, বিএএফ শাহীন কলেজ কুর্মিটোলা, ঢাকা   

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



প্রথম অধ্যায়

বাংলাদেশের প্রাচীন শিল্পকলা ও ঐতিহ্যের পরিচয়

 

১। লোকশিল্পীদের শিল্পকর্মের পাঁচটি উদাহরণ দাও।

উত্তর : গ্রামগঞ্জের সাধারণ মানুষ তাদের দৈনন্দিন কাজের অবসরে নিজের আনন্দ, শখ মেটানোর জন্য এবং অন্যকে আনন্দ দেওয়ার জন্য যে সহজ-সরল শিল্পকর্ম তৈরি করে তাকে লোকশিল্প বলে। নিচে উল্লেখযোগ্য পাঁচটি লোকশিল্পের উদাহরণ দেওয়া হলো—

(১) মাটির পুতুল (২) পোড়ামাটির ফলক (৩) সরাচিত্র (৪) শখের হাঁড়ি ও (৫) নকশিকাঁথা।

২। কারুশিল্পীদের শিল্পকর্মের পাঁচটি উদাহরণ দাও।

উত্তর : আমাদের দৈনন্দিন নানা কাজের প্রয়োজনে বিভিন্ন মাধ্যমে কারুশিল্পীরা হাতে যে দ্রব্যসামগ্রী তৈরি করে তাকে কারুশিল্প বলে। নিচে উল্লেখযোগ্য পাঁচটি কারুশিল্পের উদাহরণ দেওয়া হলো—

(১) মাটির হাঁড়ি-পাতিল (২) কাঠের আসবাব (৩) পাটের টেবিল ম্যাট (৪) লোহার দা, বটি ও (৫) কাঁসার থালা-বাটি।

৩। চারু ও কারুশিল্পীরা উপার্জন ও সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য কাজ করে চলেছেন এমন ১০টি বিষয় ও সংস্থানের নাম লেখো।

উত্তর : আধুনিক জীবনযাপনে অন্যান্য পেশাজীবী মানুষের পাশাপাশি চারু ও কারুশিল্পীরাও নানাভাবে অবদান রাখছেন, বিশেষ করে আমাদের জীবনকে সুন্দর ও রুচিশীল করার পাশাপাশি সংস্কৃতিসমৃদ্ধ সমাজ গঠন এবং দেশের উন্নতির ক্ষেত্রে চারু ও কারুশিল্পীরা বিশেষ ভূমিকা পালন করছেন।

চারু ও কারুশিল্পীরা অর্থ উপার্জন ও সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য কাজ করে চলেছেন এমন ১০টি বিষয় হলো—চিত্রকলা, ভাস্কর্য, তাঁতশিল্প, মৃিশল্প, বাঁশের কারুশিল্প, কাঠের কারুশিল্প, কাঁসাশিল্প, পাটের কারুশিল্প, বেতের কারুশিল্প ও লোহার তৈরি কারুশিল্প।

চারু ও কারুশিল্পীরা কাজ করে চলেছেন এমন ১০টি সংস্থানের নাম নিচে দেওয়া হলো—বিজ্ঞাপনী সংস্থা, খবরের কাগজ, সিনেমাশিল্প, টেলিভিশন, পোশাকশিল্প, ইনটেরিয়র, ডিজাইন, লোকশিল্প, কারুশিল্প, শিল্প-কারখানা ও ওষুধশিল্প।

উপরোক্ত বিষয় এবং সংস্থায় চারু ও কারুশিল্পীরা কাজ করে দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।

৪। বাংলা অঞ্চলের বা বাংলাদেশের প্রাচীন শিল্পকলার বিবরণ সংক্ষেপে বর্ণনা করো।

উত্তর : কয়েক হাজার বছর ধরে বাংলা অঞ্চল ভিন্ন ভিন্ন রাজা ও শাসকদের দ্বারা শাসিত হয়েছে। সে সময়ে তাদের মহলে শিল্পকলার চর্চা ছিল। কিন্তু বিভিন্ন সময়ে এক অঞ্চলের সঙ্গে অন্য অঞ্চলের রেষারেষি ও যুদ্ধবিগ্রহের ফলে পরাজিত অঞ্চল লুট করা, জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ধ্বংস করে দেওয়া স্বাভাবিক ব্যাপার ছিল। তা ছাড়া ঝড়ঝঞ্ঝা, ভূমিকম্পসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে একসময় সেসব অঞ্চল মানবশূন্য হয়ে যেত, মাটিচাপা পড়ে যেত। পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে প্রত্নতাত্ত্বিক খননের ফলে রাজশাহীর পাহাড়পুর, কুমিল্লার ময়নামতি, বগুড়ার মহাস্থানগড়, নরসিংদীর উয়ারী-বটেশ্বরের প্রাচীন সভ্যতা এবং সর্বশেষ মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলার নাটেশ্বর সভ্যতা আবিষ্কৃত হয়। দীর্ঘদিন মাটিচাপা থাকায় প্রাচীন শিল্পকলার অনেক কিছুই ধ্বংস হয়ে যায়। তবে মাটি খুঁড়ে পাওয়া যায় লোহা ও তামার হাতিয়ার, হাঁড়ি-পাতিল, পোড়ামাটির ভগ্নপাত্র, পাথরের ফলকচিত্র, শিলালিপি, ফরমান, খিলান, স্তম্ভ, ভগ্নদশায় ভবন, ঘরবাড়ির কাঠামো, পাথরের মূর্তি, মুদ্রা ও অলংকার ইত্যাদি। চিত্রকলা ও নরম উপাদানে তৈরি কোনো শিল্পকর্ম দীর্ঘদিন মাটিচাপা থাকায় সেগুলো রক্ষা পাওয়ার কোনো উপায় ছিল না। রক্ষা পেয়েছে ক্ষয়ে যাওয়া লোহা, তামা, সোনা-রুপা, পাথর ও পোড়ামাটির কিছু দ্রব্য এবং দালানকোঠার ধ্বংসাবশেষ। আর উদ্ধারকৃত এসব বস্তুসামগ্রীই বাংলা অঞ্চলের প্রাচীন শিল্পকলার কিছু নিদর্শন। বাংলাদেশের প্রাচীন শিল্পকর্মের মধ্যে শিল্পনৈপুণ্যে ও কারুকার্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো কষ্টিপাথর বা কালো পাথরের তৈরি মূর্তি। প্রাচীন শিল্পকর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পোড়ামাটির ফলকচিত্র তৎকালীন সময়ে তৈরি স্থাপত্যের দেয়ালে ও বিভিন্ন মসজিদ-মন্দিরের দেয়ালে এখনো শোভা পাচ্ছে। এর মধ্যে রাজশাহীর বাঘা মসজিদ, কুসুম্বা মসজিদ, খুলনার ষাট গম্বুজ মসজিদ, লালবাগের দুর্গ, ঢাকেশ্বরী মন্দির, আহসান মঞ্জিল, দিনাজপুরের কান্তজির মন্দির, কুমিল্লার সতেরো রত্ন মন্দির ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বিভিন্ন জনপদ থেকে উদ্ধারকৃত বাংলার প্রাচীন শিল্পকর্মগুলো বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

৫। কষ্টিপাথরের মূর্তি, পোড়ামাটির ফলক ও শিলালিপি কেন প্রাচীন শিল্পকলা হিসেবে টিকে আছে? বর্তমানে এগুলো কোথায় সংরক্ষিত রয়েছে?

উত্তর : বাংলা অঞ্চলের প্রাচীন শিল্পকলা কয়েক হাজার বছরের পুরনো। বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত যুদ্ধবিগ্রহ, ঝড়ঝঞ্ঝা, ভূমিকম্পসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কিছু কিছু অঞ্চল একসময় মাটিচাপা পড়ে যায়। দীর্ঘদিন মাটিচাপা থাকায় সেসব অঞ্চলের অনেক শিল্পকর্ম প্রায় ধ্বংস হয়ে যায়। যেসব দ্রব্য সাধারণত হালকা-নরম ও পচনশীল, সেগুলো সময়ের বিবর্তনে মাটিচাপা থেকে ক্ষয় হয়ে যায় অথবা পচে মাটির সঙ্গে মিশে যায়। আর সে কারণেই চিত্রকলা ও নরম উপাদানে তৈরি কোনো শিল্পকর্ম দীর্ঘদিন মাটিচাপা থাকায় সেগুলো রক্ষা পাওয়ার কোনো উপায় ছিল না। তাই প্রাচীন শিল্পকর্মের মধ্যে চিত্রকলার নিদর্শন খুব বেশি পাওয়া যায়নি। তবে কঠিন ধাতব পদার্থ, পাথর ও পোড়ামাটির তৈরি অপচনশীল, কঠিন পদার্থ হওয়ায় এগুলোই কালের পরিক্রমায় পচে বা ক্ষয় হয়ে মাটির সঙ্গে মিশে যায়নি। তাই দীর্ঘদিন মাটিচাপা থাকলেও এগুলোর তেমন ক্ষতি হয়নি। আর এ কারণেই প্রাচীন শিল্পকর্ম হিসেবে এগুলো এখনো টিকে আছে। রক্ষা পেয়েছে ক্ষয়ে যাওয়া লোহা, তামা, সোনা-রুপা, কষ্টিপাথরের মূর্তি, পোড়ামাটির ফলক, শিলালিপি ও দালানকোঠার ধ্বংসাবশেষ। প্রত্নতাত্ত্বিক খননের ফলে এগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

বর্তমানে এসব প্রাচীন শিল্পকর্মগুলো ঢাকার জাতীয় জাদুঘরসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হয়েছে।


মন্তব্য