kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


জাল সনদে ‘মুক্তিযোদ্ধা’

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



জাল সনদে ‘মুক্তিযোদ্ধা’

১৯৭১ সালে দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের ভেতর দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়। স্বাধীনতার ৪৬ বছরে এসেও আমরা দেখতে পাই কিছু নীতিহীন, লোভী ও ভ্রষ্ট মানুষ সামান্য কিছু সুবিধা পাওয়ার জন্য ভুয়া সার্টিফিকেট নিয়ে নিজেদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচয় দেয়।

ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার পাশাপাশি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সন্তানও পাওয়া গেছে। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে জাল সনদে মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা বেড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, মন্ত্রণালয় ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের একশ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারী ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের বিভিন্ন ইউনিটের কমান্ডারদের কাছ থেকে জাল সনদ পাওয়া যায়। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত চার পর্বের ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শুধু এক উপজেলায়ই ভারতীয় তালিকার চার গুণ মুক্তিযোদ্ধা। দাবিদার আরো ৪০০। শুরু থেকে এ পর্যন্ত যতবার মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা করা হয়েছে, সব তালিকায়ই গলদ রয়ে গেছে বলে জানা যায়। নতুন তালিকা হলেই মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা বেড়ে যায়। এমনকি শহীদ ও যুদ্ধাহতের তালিকায় ঢুকে গেছে রাজাকারের নাম।

দেশপ্রেমিক ও গুণী ব্যক্তিদের সম্মান দেওয়ার রেওয়াজ সভ্য দুনিয়ার প্রায় সর্বত্রই রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশ নেওয়া বীর সেনানীদের এখনো তাঁদের নিজ নিজ দেশে বছরের বিশেষ দিনে বিশেষভাবে সম্মান জানানো হয়। অথচ দুর্ভাগ্য যে স্বাধীনতার চার দশক পরে এসেও আমরা প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করতে পারিনি। ক্ষমতার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা বানানো হয় এবং ক্রমাগতভাবে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বানানো হয়। ভারতে প্রশিক্ষণ নিয়ে যাঁরা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন, তাঁদের একটি স্পষ্ট তালিকা ভারত সরকার বাংলাদেশকে দিয়েছিল। স্বাধীনতার পরপরই ঢাকা সেনানিবাসে রেজিস্টারে সই রেখে মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে সামান্য সম্মানী তুলে দেওয়া হয়েছিল। সেই তালিকা বা সেই রেজিস্টার হারিয়ে যাওয়ার কথা নয়। দেশের ভেতরে থেকেই বিভিন্ন এলাকায় কারা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন, তাঁদের নামও সঠিকভাবে সংগ্রহ করা অসম্ভব ছিল না। ১৯৯৮ সালে এ রকম একটি তালিকাও করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা নিয়ে এমন নৈরাজ্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

কারা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বিশেষ বিবেচনা পাবেন, তারও একটি সঠিক নীতিমালা থাকা দরকার। মুক্তিযোদ্ধার সঠিক সংজ্ঞাও নির্ধারিত হওয়া প্রয়োজন। দেশের অনেক মানুষ মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতা করেছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দিয়েছেন। অস্ত্র হাতে যুদ্ধ না করলেও অনেকে নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন। শিল্পী, সাহিত্যিকসহ নানা শ্রেণি ও পেশার মানুষের সহযোগিতা আমাদের স্বাধীনতাকে ত্বরান্বিত করেছে। তাঁরা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বিবেচিত হবেন কি না সে বিষয়েও সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তবে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যাপারে অবশ্যই একটি সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ভুয়া সনদ নিয়ে কেউ সুবিধা গ্রহণ করলে তা হবে দেশ ও জাতির সঙ্গে প্রতারণা। তাদের প্রতারক হিসেবে চিহ্নিত করে যথোপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। আমরা আশা করব, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যাপারে সরকার সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পিছপা হবে না।


মন্তব্য