kalerkantho


যেভাবে চাকরি পেলাম

কখনো সরকারি চাকরির জন্য আবেদন করিনি

শারমিন আক্তার এক্সিকিউটিভ অফিসার, কোয়ালিটি কন্ট্রোল, দি একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



কখনো সরকারি চাকরির

জন্য আবেদন করিনি

স্কুলজীবন থেকেই ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন ছিল। এইচএসসির পর মেডিক্যালে ভর্তি কোচিং করি; কিন্তু একদম অল্পের জন্য আমার চান্সটা হয়নি। খুব মন খারাপ হয়েছিল। পরে সবার পরামর্শে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে ফার্মেসি বিভাগে ভর্তি হই। সেখানেই স্নাতক (বি ফার্মা) ও স্নাতকোত্তর (এম ফার্মা) সম্পন্ন করি।

ফার্মেসিতে ভর্তি হয়েই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম ফার্মাসিউটিক্যাল সেক্টরে কাজ করব। আমার অভিজ্ঞতা বলে, ভালো ফার্মাসিউটিক্যাল কম্পানিতে চাকরি করতে হলে অনেক পড়াশোনা করতে হয়, কাজ শিখতে হয়। লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য নিয়মিত ক্লাস করতাম। আমাদের একটা গ্রুপ ছিল। ক্লাস শেষে লাইব্রেরিতে পড়াশোনা করতাম। সেখানে গ্রুপ স্টাডিও করেছি। নোট তৈরি করে পড়তাম। এটি পরবর্তী সময় চাকরির প্রস্তুতিতে কাজে লেগেছে।

বি ফার্মা শেষ হতেই অনেক বন্ধুবান্ধব চাকরিতে প্রবেশ করে। আমি ঠিক করেছিলাম এম ফার্মা করেই চাকরি করব। যদিও স্নাতক শেষ করে চাকরির জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি। সেই সময় কিছু বইপত্র কিনেছিলাম। কোচিং করিনি, নিজে নিজে পড়েছি। নিয়মিত পত্রপত্রিকা পড়তাম। বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ জ্ঞান পড়েছি। আইবিএ গণিত বই থেকে গণিত চর্চা করেছি। ইন্টারনেট ঘেঁটে নিত্যনতুন বিষয় জেনেছি।

কখনো সরকারি চাকরির জন্য আবেদন করিনি। স্নাতকোত্তর করে বিভিন্ন ফার্মাসিউটিক্যাল কম্পানিতে সিভি ড্রপ করি। এর মধ্যে স্কয়ার, এসিআই, একমি ও এসকেএফে পরীক্ষার ডাক পাই। সবগুলো প্রতিষ্ঠানের লিখিত পরীক্ষায় পাস করি; কিন্তু ভাইভা খুব একটা ভালো হয়নি। চাকরি না পেয়ে খানিকটা হতাশ ছিলাম। সেই সময় পরিবারের সদস্যরা আমাকে সাহস জুগিয়েছে। পরে আবার সিভি ড্রপ করতে শুরু করি। এক দিন বিডিজবসে বিজ্ঞাপন দেখে টেকনো ড্রাগস লিমিটেডে আবেদন করি। বেশ কয়েক দিন পরে আমাকে কল করে। লিখিত পরীক্ষায় পাস করি। একই দিন বিকেলে ভাইভা হয়। আমি সে পরীক্ষায় তৃতীয় হয়েছিলাম। এটুকু বুঝেছিলাম চেষ্টা থাকলে পারব এটা মাথায় রাখতে হবে।     

সেখানে দুই বছর চাকরি করি। আমার কাজ ছিল কোয়ালিটি কন্ট্রোল ডিপার্টমেন্টে। যেকোনো ওষুধ মার্কেটে ছাড়ার আগে যথাযথ মান ঠিক আছে কিনা সেটার সব রকমের টেস্ট আমাকে করতে হতো। বলা যায়, ফার্মা সেক্টরের অন্যতম সেনসেটিভ দায়িত্ব এটা। দুই বছর কাজ করার পর মেডিসিন পরীক্ষা-নিরীক্ষার সব কাজ আমার নখদর্পণে চলে আসে।

চাকরি পরিবর্তন করার জন্য আবার আবেদন শুরু করি। দ্বিতীয়বার একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেডে আবেদন করি। ১৫-২০ দিন পর আমাকে ফোন করে। আমি তখন বাড়িতে ছিলাম। ফোন রিসিভ করতে পারিনি। পরে এসএমএস করে। পরীক্ষার আগের রাতে বাড়ি থেকে বাসে উঠি। সকালে বাস থেকে নেমেই পরীক্ষা দিতে যাই। ১০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা হয়েছিল। বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও সাধারণ জ্ঞান থেকে ৪০ নম্বর ছিল। বাকি ৬০ নম্বর বিষয়ভিত্তিক টেকনিক্যাল প্রশ্ন করেছিল। পরীক্ষা ভালো হয়েছিল। ১৫ দিন পরে ভাইভার জন্য কল করে। ভাইভা বোর্ডের সদস্য ছিলেন সাতজন। আমাকে রাখা হয়েছিল ৩৫ মিনিট। প্রায় সব প্রশ্নের উত্তর পেরেছিলাম। ১৫ দিন পরে দ্বিতীয় ভাইভার জন্য কল করে। ভাইভা দিয়ে বুঝতে পেরেছিলাম, আমার চাকরি হবে। চাকরিটি হয়েছিল। আমি এখন এই প্রতিষ্ঠানেই কোয়ালিটি কন্ট্রোল বিভাগে এক্সিকিউটিভ অফিসার হিসেবে কর্মরত আছি।

দি একমি ল্যাবরেটরিজে কাজের পরিবেশ খুব ভালো। সবাই খুব আন্তরিক। আমি আমার কাজ খুব মনোযোগ দিয়ে করি এবং সিনিয়রদের কাজ শেখার চেষ্টা করি। আমি মনে করি, যে যেই কাজই করুক না কেন, সেটা ভালো লাগা থেকে করলে কষ্ট কম হবে। সেজন্য মনোযোগটা ঠিকঠাক দিতে হবে।

অনুলিখন : পাঠান সোহাগ

 



মন্তব্য