kalerkantho


ইতিহাস গড়ে সিঙ্গাপুরও উচ্ছ্বসিত!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৩ জুন, ২০১৮ ২২:১৭



ইতিহাস গড়ে সিঙ্গাপুরও উচ্ছ্বসিত!

দেশের প্রধানমন্ত্রী কিংবা রাষ্ট্রপতি বিভাগীয় শহরে সফরে যাওয়ার আগেই যেভাবে রাস্তার দু'পাশের ভ্রাম্যমাণ দোকান সরিয়ে দেওয়া হয়, তাতে করে আর নেতার মূল্য বোঝার বাকি থাকে না সাধারণ জনগণ। আর সেটা যদি হয় উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা এমন মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাহলে উত্তেজনা যে চরমে উঠবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

অথচ সিঙ্গাপুরে তাদের ঐতিহাসিক বৈঠক হয়ে গেল। সে দেশের জনগণের মধ্যে তেমন একটা অতি উৎসাহ গণমাধ্যমে উঠে আসেনি। এমনকি ট্রাম্প-কিমকে কালো পতাকা দেখানোর ভিড় নেই সেখানে। শোনা যায়নি ‘গো ব্যাক’ স্লোগানও।

কিন্তু তাই বলে জনতার আগ্রহ কি নেই? গতকাল দুই নেতার কনভয় যখন ছুটছে সেন্টোসার হোটেলের দিকে, রাস্তার দু’ধারে মোবাইলে ছবি-ভিডিও করে রাখার হিড়িক পড়েছিল! কেউ কেউ একটু ভয়ে। কোন নজরদারি ক্যামেরা কাকে দেখছে, বোঝা মুশকিল। তাই সবই মেপে রাখঢাক করে হয়েছে।

সবাই অবশ্য মানছেন, এ শহরের কাছে গতকালের দিনটা গর্বের! হোটেল থেকে বৈঠকের পথে রওনা হয়েই ট্রাম্প টুইট করেন মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট সংক্রান্ত একটি বিষয়ে। সাধারণত যে বৈঠক বা সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট যান, ‘হোমওয়ার্ক’ ভালো করে তৈরি থাকে। তারপরেও তার সামনে যে কিম জং উন! চিন্তা তো থাকে। ক্যাপিলা হোটেলে একসঙ্গে বসলেও খাতায়-কলমে তখনই যে দু’দেশের সব বিরোধ মিটে গেছে, তা তো নয়।

শোনা যাচ্ছে, কিমের হোটেলের যাবতীয় খরচ-সহ অন্তত দু’কোটি ডলার খরচ হয়েছে সিঙ্গাপুর সরকারের। এই বিনিয়োগ থেকে কী পাবে সিঙ্গাপুরবাসী? সোশ্যাল মিডিয়ায় আরো প্রশ্ন, এমন বৈঠক আবারো সিঙ্গাপুরে হলে সরকার আবার এত অর্থ ব্যয় করবে? অনেকেই বলছেন, ১২ জুন সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হোক বিশ্ব শান্তি প্রয়াস দিবস উপলক্ষে!

কিম-ট্রাম্পের মধ্যে কতটা ‘দোস্তি’ হয়েছে, সেটা ভবিষ্যৎ বলবে। তারা আবার দেখা করবেন, এমনও শোনা গেছে। অনেকেই আশা করছেন সে বৈঠক সিঙ্গাপুরেই হবে। শান্তির লক্ষ্যে সিঙ্গাপুরের এই ভূমিকা নিঃসন্দেহে বিশ্ব মনে রাখবে।

বিশ্বের কাছে সিঙ্গাপুর ‘স্মল রেড ডট’ বলে পরিচিত। সেই ছোট্ট লাল বিন্দুটা এই বিশাল ঐতিহাসিক সম্মেলন করল, নিঃসন্দেহে সেটাই প্রশংসার। উত্তর কোরিয়ার বিখ্যাত পদ ‘কিমচি’ কবে হোয়াইট হাউসের ডিনার প্লেটে দেখা যাবে, সেই অপেক্ষায় বিশ্ববাসী।



মন্তব্য