kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


দেশীয় আমেজে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বত্রই ঈদুল আজহা উদযাপন

সাবেদ সাথী, নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি:   

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০৯:০০



দেশীয় আমেজে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বত্রই ঈদুল আজহা উদযাপন

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাংলাদেশিরা আনন্দঘন পরিবেশ আর দেশীয় আমেজে উদযাপন করেছে মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা। স্থানীয় সময় সোমবার সকালে পৃথক পৃথক সময়ে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের বাংলাদেশি পরিচালিত মসজিদ, পার্কের মাঠে ও গির্জার মিনলায়তনে ঈদ জামাতে অংশ নেন লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি।

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বাংলাদেশি পরিচালনাধীন দুই শতাধিক মসজিদ বা তৎসংলগ্ন মাঠে ঈদ জামাতগুলো শুরু হয় সকাল ৮টা থেকে।

প্রবাসী বাংলাদেশি ছাড়াও অন্যান্য দেশের নাগরিকদের পরিচালনাধীন মসজিদেও পালা করে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ১০টা পর্যন্ত। ঈদ জামাতের নিরাপত্তায় স্থানীয় প্রশাসন বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করে। নিউ ইয়র্কের বড় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয় জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারে। সকাল ৮টায় থেকে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয় মুসলিম সেন্টার সংলগ্ন হাইস্কুল মাঠে। ঈদ জামাতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন সিটি মেয়র বিল ডি ব্লাসিও।

ঈদের জামাত শুরুর আগে মেয়র ব্লাসিও বলেন, সকল ধর্মবিশ্বাসী মানুষরা অবাধে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব পালন করবেন এই মূল্যবোধে আমরা বিশ্বাসী। আর এ জন্য প্রশাসনের পাশে সকলকে দাঁড়াতে হবে। নিউ ইয়র্ক সিটির সব অধিবাসীর নিরাপত্তাসহ ধর্মীয় সম্প্রীতি অটুট রাখতে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেন মেয়র।

বোস্টনের সবচেয়ে বড় ঈদের জামাতে ক্যামব্রিজের কাউন্সিলম্যান নাদিম মিজান তাঁর এলাকার সকল মুসলমানদের পাশে থেকে কাজ করার ঘোষণা দেন। জামাত শুরুর আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন ক্যামব্রিজের কাউন্সিলম্যান নাদিম মিজান, ফিরোজ খান, গোলাম মোস্তাফা, এ কে ওয়াহিদী, বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার অব ম্যাসাচুসেটেস (বিআইসিএম) এর সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন মোর্শেদ। জামাত পরিচালনা করেন ইমাম মোহাম্মদ আলী।

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন প্রবাসী বাংলাদেশিরা স্বপরিবারে নিকটস্থ মসজিদে গিয়ে পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করে। নামাজ শেষে সপরিবারে কোরবানির মাঠে গিয়ে পশু জবাই করেছেন অনেকেই। ভার্জিনিয়ার আলিংটস্থ বায়তুল মোকারম মসজিদে সোমবার পবিত্র ঈদুল আজহার তিনটি জামাতের আয়োজন করা হয়। মসজিদের ইমাম মাওলানা কৌশক আহমেদ জামাতগুলো পরিচালনা করেন। এ ছাড়া একই দিন বৃহত্তর ওয়াশিংটনের

উডব্রিজ, স্প্রিংফিল্ড, লর্টন, আলেকজান্দ্রিয়া, ম্যানাসাস, স্টার্লিং, বেথেসডা, বাল্টিমোর, ওয়াশিংটন ডিসি সহ বিভিন্ন শহরের মসজিদে পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। নামাজ আদায় শেষে ধর্মপ্রাণ প্রবাসীরা নিকটস্থ ম্যারিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের ক্লিনটন, ভার্জিনিয়ার ম্যানাসাস, পেনসালভেনিয়া সহ বিভিন্ন ফার্মে গিয়ে পশু জবাই করেন।

ম্যারিল্যান্ডের ক্লিনটনের খোলা উন্মুক্ত মাঠে ধর্মপ্রাণ প্রবাসীদের ঢল নামে সবচাইতে বেশি। শত শত প্রবাসী স্বপরিবারে নিকটস্থ মসজিদে পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ আদায় শেষে কোরবানির মাঠে চলে যান। সেখানে পছন্দমতো গরু ছাগল ক্রয় করে সকলেই মিলে ধর্মীয় পদ্ধতিতে কোরবানি দেয়। ক্লিনটনের নিকটস্থ ফোর্ট ওয়াশিংটস্থ কোরবানির মাঠেও প্রবাসীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। অনেকেই কোরবানির মাঠেই রান্নার আয়োজন করে। দেশীয় আয়োজনে পশু জবাই শেষে কোরবানির মাঠে রান্না করে পরিবার আত্মীয়-স্বজন বন্ধু-বান্ধাব মিলে কোরবানির পশুর মাংস দিয়ে ঈদের খাবার গ্রহণ করেন।

নিউ ইয়র্ক, ম্যাসাচুসেটস, ওয়াশিংটন ডিসি ও ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্য ছাড়াও নিউ জার্সি, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস, ফ্লোরিডা ও কানেকটিকাট সহ প্রায় সব অঙ্গরাজ্যেই একই দিন ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।


মন্তব্য