• ই-পেপার

ওবামার উপদেষ্টা হলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নীনা

২০ বছর আগে প্রথমবার শান্তিরক্ষী দিবস উদযাপন করে বিশ্বমঞ্চে প্রসংসা কুড়িয়ে ছিল সেনাবাহিনী

অনলাইন ডেস্ক
২০ বছর আগে প্রথমবার শান্তিরক্ষী দিবস উদযাপন করে বিশ্বমঞ্চে প্রসংসা কুড়িয়ে ছিল সেনাবাহিনী

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উদযাপনের সফল আয়োজনের জন্য প্রশংসিত হয়েছিলেন বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ মাহবুব হায়দার খান।

সেই সফল আয়োজনের জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা জানিয়েছিলেন জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী রেনাটা লোক-দেসালিয়েন।

২০০৭ সালের ৩১ মে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী রেনাটা লোক-দেসালিয়েন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব হায়দার খানের উদ্দেশে পাঠানো এক চিঠিতে এ প্রশংসা জানান।

চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উদযাপনের মাধ্যমে দেশের জনগণের সামনে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান ও আত্মত্যাগ তুলে ধরা সম্ভব হয়েছে।

রেনাটা লোক-দেসালিয়েন বলেন, অনুষ্ঠানের সফল বাস্তবায়নে আয়োজকদের নিষ্ঠা, পরিশ্রম এবং আত্মনিবেদিত প্রচেষ্টা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী বিশিষ্ট অতিথিরা আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অর্জন ও অবদান সম্পর্কে একটি বিস্তৃত ও তথ্যসমৃদ্ধ ধারণা লাভ করেন।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী এবং বিশেষ করে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ মাহবুব হায়দার খানের নেতৃত্ব, সহযোগিতা ও সমন্বয় অনুষ্ঠানটির সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এজন্য জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি উষ্ণ কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা জানানো হয়।

২০০৭ সালে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ মাহবুব হায়দার খান সেনাবাহিনী সদর দপ্তরের ওভারসিজ অপারেশনস ডিরেক্টরেটের পরিচালক (চেয়ারম্যান) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের গৌরবময় অবদান আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায়ে আরো ব্যাপকভাবে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে স্বীকৃত। আর দেশের মাটিতে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী দিবস উদযাপনের সেই উদ্যোগ দেশের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।

উল্লেখ্য, যথাযোগ্য মর্যাদায় আজ বুধবার বাংলাদেশে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস। প্রতিবছর ২৯ মে দিবসটি পালিত হলেও এবার ঈদের ছুটি থাকায় দেশে আজ এই দিবস পালিত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ১৯৮৮ সালে ইরাক-ইরানে সামরিক পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অংশ নেওয়া শুরু। এরপর ৩৮ বছরে বাংলাদেশ জাতিসংঘের শান্তি রক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়নের এক গর্বিত অংশীদারে পরিণত হয়েছে।

জানা গেছে, বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী এই মিশনে দায়িত্ব পালন করছে ১৯৯৩ সাল থেকে।

বাংলাদেশের পুলিশ সদস্যরা এই মিশনে অংশ নিচ্ছেন ১৯৮৯ সাল থেকে। ওই বছর নামিবিয়া মিশনের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশ জাতিসংঘ পরিবারের সদস্য হয়। সেই থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের এক হাজার ৯২৮ জন নারী সদস্যসহ মোট ২১ হাজার ৮২৮ জন সদস্য ২৫টি দেশের ২৭টি শান্তি রক্ষা মিশনের দায়িত্ব পালন করেছেন।

আইএসপিআর জানায়, বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা বিশ্বের ৪৩টি দেশ ও স্থানে ৬৩টি জাতিসংঘ মিশন সফলতার সঙ্গে সম্পন্ন করেছেন। এসব মিশনে মোট দুই লাখ ছয় হাজার ৪৭৬ জন শান্তিরক্ষী দায়িত্ব পালন করেন। এর মধ্যে নারী শান্তিরক্ষী তিন হাজার ৬৪৫ জন। সেনাবাহিনী থেকে দায়িত্ব পালন করেছেন এক লাখ ৬২ হাজার ৩৫ জন। বর্তমানে জাতিসংঘের ৯টি শান্তি রক্ষা মিশনে বাংলাদেশের চার হাজার ৪১২ জন শান্তিরক্ষী নিয়োজিত আছেন।

শুরু থেকে এ পর্যন্ত জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনে বাংলাদেশের ১৭৫ জন শান্তিরক্ষী জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সেনাবাহিনীর ১৩৮ জন, নৌবাহিনীর চারজন, বিমানবাহিনীর ৯ জন এবং পুলিশের ২৪ জন। আহত হয়েছেন মোট ২৮৭ জন।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবসে স্মরণ : বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের সম্মান ও স্বীকৃতির গল্প

অনলাইন ডেস্ক
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবসে স্মরণ : বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের সম্মান ও স্বীকৃতির গল্প

যথাযোগ্য মর্যাদায় আজ বুধবার (১০ জুন) বাংলাদেশে পালিত হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস। প্রতিবছর ২৯ মে দিবসটি পালিত হলেও এবার ঈদের ছুটি থাকায় দেশে আজ এই দিবস পালিত হতে যাচ্ছে।

বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা, স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে জাতিসংঘে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। বিশেষ করে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও আত্মত্যাগ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে। বিভিন্ন সময় জাতিসংঘও আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের এই অবদানের স্বীকৃতি দিয়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশ জাতিসংঘের অন্যতম বৃহৎ শান্তিরক্ষী সদস্য প্রেরণকারী দেশ হিসেবে পরিচিত। আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপ্রবণ ও নাজুক অঞ্চলে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তারা শুধু নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নয়, বরং বেসামরিক জনগণকে সুরক্ষা দেওয়া, মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সহায়তা করা এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত অবকাঠামো পুনর্গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজেও ভূমিকা রাখছেন।

এই দায়িত্ব পালনের পথে ইতোমধ্যে অনেক বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাদের এই ত্যাগ দেশের জন্য গৌরব বয়ে এনেছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদাকে আরও সমুন্নত হয়েছে।

চিঠিতে জাতিসংঘ বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি আনুষ্ঠানিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে

বাংলাদেশের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের প্রতি জাতিসংঘের স্বীকৃতি ও প্রশংসার একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং স্মরণীয় উদাহরণ হিসেবে সামনে আসে ২০০৭ সালের একটি ঘটনা। ওই বছর বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস সফলভাবে উদযাপন করা হয়। এ উপলক্ষে জাতিসংঘের বাংলাদেশ আবাসিক সমন্বয়কারীর কার্যালয় থেকে একটি চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানানো হয়।

২০০৭ সালের ৩১ মে’র ওই চিঠিতে তৎকালীন জাতিসংঘ আবাসিক সমন্বয়কারী রেনাটা লক-দেসালিয়েন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ মাহবুব হায়দার খানকে লেখা এক চিঠিতে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী দিবস আয়োজনের জন্য বাংলাদেশকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। 

চিঠিতে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি আনুষ্ঠানিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জাতিসংঘ। একই সঙ্গে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ মাহবুব হায়দার খানকেও ধন্যবাদ জানানো হয়। ওই সময় তিনি তৎকালীন সেনা সদর দপ্তরের ওভারসিজ অপারেশনস অধিদপ্তরের পরিচালক এবং আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী দিবস উদযাপন কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন।

জাতিসংঘ দিবসে সংস্থাটির স্বীকৃতি আমাদের মনে করিয়ে দেয়—বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার বৈশ্বিক প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ কেবল অংশগ্রহণকারী নয়, বরং একটি নির্ভরযোগ্য ও সম্মানিত অংশীদার। ভবিষ্যতেও বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের পেশাদারিত্ব, মানবিকতা ও আত্মত্যাগ বিশ্বে দেশের সুনাম আরও বাড়াবে।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

পে-স্কেল কার্যকরে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান সরকারি কর্মচারীরা

অনলাইন ডেস্ক
পে-স্কেল কার্যকরে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান সরকারি কর্মচারীরা

অবিলম্বে নবম জাতীয় পে-স্কেলের সুপারিশ পূর্ণাঙ্গ কার্যকর করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য ফোরামের নেতৃবৃন্দ।

এ বিষয়ে মঙ্গলবার (৯ জুন) একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদ ও আন্তঃমন্ত্রণালয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশন।

এতে বলা হয়, প্রায় ১১ বছর আগে, ২০১৫ সালে অষ্টম পে-স্কেলের নোটিফিকেশন অনুযায়ী সব গ্রেডের ক্ষেত্রে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হার ৫ শতাংশ হওয়ায় নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জীবনমান, জীবনধারণ ও অর্থনৈতিক বাস্তবতায় যৌক্তিক হারে বেতন বৃদ্ধি করা হয়নি। এছাড়াও একজন কর্মচারী বেতন গ্রেডের শেষ ধাপে উন্নীত হবার পর পরবর্তী পদোন্নতি না হলে তার বেতন বৃদ্ধির আর কোনো সুযোগ নেই।

গত একযুগে ৫০ শতাংশের বেশি মূল্যস্ফীতি হওয়ায় একজন সরকারি কর্মচারীর মৌলিক চাহিদার খাদ্যসামগ্রীর মূল্য প্রায় দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া শিক্ষা ব্যয়, স্বাস্থ্য ব্যয় ও আনুষঙ্গিক ব্যয় অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন পেশায় সরকারি ও আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১৯ লাখ ১৯ হাজার ১১১ জন কর্মচারী রাষ্ট্রের কাজে নিয়োজিত রয়েছেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সরকারি কর্মচারীদের দাবির প্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে।

বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠন ও অংশীজনের সঙ্গে প্রায় ১৮৪টি সভা ও ২ হাজার ৫৫২ জনের মতামত গ্রহণের মাধ্যমে চূড়ান্ত সুপারিশ গত ২১ জানুয়ারি সরকারের নিকট দাখিল করে। অদ্যাবধি বেতন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন না হওয়ায় কর্মচারীদের মাঝে হতাশা ও দিন দিন ক্ষোভ বাড়ছে।

সরকারি কর্মচারীরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে, সম্প্রতি ‘নবম জাতীয় পে-স্কেল’ বাস্তবায়নের যৌক্তিক দাবির বিপক্ষে কিছু বিভ্রান্তিকর ও নেতিবাচক মন্তব্য বিভিন্ন যোগাযোগ ও সামাজিকমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির এক যুগ পর এসে সিপিডি বলতে চেয়েছে সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হলে তা বাজারে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়িয়ে তুলবে, যা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে তাদের ওপর তীব্র অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করবে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের সভাপতি ম. নূরুল ইসলাম বলেন, নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী বর্তমান সরকার কার্যকর করতে খুবই আন্তরিক। তার আন্তরিক বলেই বিষয়টিতে সক্রিয় বিবেচনা করছে। এ পর্যায়ে এসে এ ধরনের বক্তব্য প্রদান উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন। কর্মচারীদের দাবিকে অযৌক্তিক বা নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা মোটেও কাম্য নয়। এতে কর্মচারীদের মনোবল ভেঙে পড়ে।

আন্তঃমন্ত্রণালয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের সমন্বয়ক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, গত ১১ বছর ২০১৫ সালের পর থেকে আজ অবধি নতুন কোনো পে-স্কেল না হওয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি ও মুদ্রাস্ফীতি আকাশচুম্বি হওয়ায় নির্দিষ্ট বেতনের সরকারি কর্মচারীরা তাদের পরিবারের স্বাস্থ্য, সন্তানের শিক্ষা, জীবনধারণ, জীবনমান, বাসস্থান, যাতায়াতসহ মৌলিক চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে তীব্র আর্থিক সংকটে রয়েছেন, যা পূর্বের ও বর্তমানের বাজারের সঙ্গে কোনোভাবেই সংগতিপূর্ণ নয়।

বন্ধ হচ্ছে ৫ আর্থিক প্রতিষ্ঠান

আমানতকারী পাবেন সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা

অনলাইন ডেস্ক
বন্ধ হচ্ছে ৫ আর্থিক প্রতিষ্ঠান

সংকটে থাকা পাঁচটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) বন্ধের প্রক্রিয়ায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে প্রশাসক নিয়োগ করা হবে। এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তি আমানতকারীরা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত পাবেন বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় দীর্ঘদিন ধরে সংকটে থাকা নয়টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়।

আরো পড়ুন
অপরাধের কারখানা সোশ্যাল মিডিয়া!

অপরাধের কারখানা সোশ্যাল মিডিয়া!

 

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বন্ধের প্রক্রিয়ায় নেওয়া পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো- এফএএস ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস।

অন্যদিকে বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি), প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স ও প্রাইম ফাইন্যান্সকে পুনরুদ্ধারের সুযোগ দিয়ে তিন মাস সময় দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে ব্যক্তি আমানতকারীদের মূল অর্থ পরিশোধে সক্ষমতা দেখাতে না পারলে সেগুলোকেও রেজল্যুশন বা অবসায়ন প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হবে।

আরো পড়ুন
বদলি নেমেই পেনাল্টি থেকে গোল মেসির, বড় জয় আর্জেন্টিনার

বদলি নেমেই পেনাল্টি থেকে গোল মেসির, বড় জয় আর্জেন্টিনার

 

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২৭ হাজার ব্যক্তি আমানতকারীর ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকার আমানত রয়েছে। প্রথম ধাপে এসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত করা হবে। এরপর প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদ ও দায়-দেনা মূল্যায়ন করে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের হার এফএএস ফাইন্যান্সের ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ, ফারইস্ট ফাইন্যান্সের ৯৮ দশমিক ৫০ শতাংশ, আভিভা ফাইন্যান্সের ৯৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ, পিপলস লিজিংয়ের প্রায় ৯৫ শতাংশ ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের ৯৯ দশমিক ৪৪ শতাংশে পৌঁছেছে। উচ্চ খেলাপি ঋণ, তারল্য সংকট ও আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে গত বছরের মে মাসে ২০টি এনবিএফআইকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। পরে তাদের পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা মূল্যায়ন করে নয়টি প্রতিষ্ঠানকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

আরো পড়ুন
‘হাসনাত আব্দুল্লাহর কাছে এখনো ৮০০ টাকা পাই’

‘হাসনাত আব্দুল্লাহর কাছে এখনো ৮০০ টাকা পাই’

 

ধারাবাহিক পর্যালোচনার পর বর্তমানে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে অবসায়ন বা বন্ধের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, বিগত বছরগুলোতে অনিয়ম, দুর্বল সুশাসন ও ঋণ কেলেঙ্কারির কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। বিশেষ করে আলোচিত পি কে হালদারের বিরুদ্ধে পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, এফএএস ফাইন্যান্স ও বিআইএফসি থেকে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

ওবামার উপদেষ্টা হলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নীনা | কালের কণ্ঠ