• ই-পেপার

অনন্য ডিসপ্লে নিয়ে এলো নকিয়া এক্স৬

কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য বড় দুঃসংবাদ

অনলাইন ডেস্ক
কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য বড় দুঃসংবাদ
সংগৃহীত ছবি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি অডিও, ছবি ও ভিডিওর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এমন অবস্থায় নতুন নীতিমালা ঘোষণা করল ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফরম ইউটিউব। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ধরনের এআই-নির্ভর ভিডিও ইউটিউব পার্টনার প্রগ্রাম (YPP)-এর মাধ্যমে আয় করার সুযোগ হারাচ্ছে।

ইউটিউব জানিয়েছে, প্ল্যাটফরমে নিম্নমানের, পুনরাবৃত্তিমূলক ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্টের বিস্তার রোধ এবং মৌলিক ও মানসম্মত ভিডিওকে উৎসাহিত করতেই এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে তারা।

ইউটিউবের নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, তিন রকম ভিডিওকে ‘ইন-অথেনটিক (অপ্রামাণ্য) কনটেন্ট’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে,

  • একই ধরনের বা বারবার পুনরাবৃত্তি করা এআই-নির্ভর ভিডিও।
  • দর্শকদের আবেগকে বিভ্রান্ত, প্রভাবিত বা অস্বস্তিতে ফেলার উদ্দেশ্যে তৈরি কনটেন্ট।
  • স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, অর্থনীতি বা আইনি পরামর্শের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে মানবসদৃশ এআই চরিত্র ব্যবহার করে তৈরি ভিডিও।

ইউটিউব জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে এআই-এর সহযোগিতায় অসংখ্য নিম্নমানের ভিডিও তৈরি ও প্রকাশের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে প্ল্যাটফরমের মান যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি দর্শকের অভিজ্ঞতা এবং বিজ্ঞাপনদাতাদের আস্থাও কমার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণেই তারা এখন এমন কনটেন্টকে অগ্রাধিকার দিতে চায়, যা মৌলিক, সৃজনশীল, তথ্যভিত্তিক এবং দর্শকদের জন্য প্রকৃত মূল্য সৃষ্টি করে।

তবে ইউটিউব এআই দিয়ে তৈরি সব ধরনের ভিডিও নিষিদ্ধ করেনি। মৌলিক, তথ্যসমৃদ্ধ এবং ইউটিউবের নীতিমালা অনুসরণ করে যেসব ভিডিও তৈরি করা হবে, সেগুলো আগের মতোই মনিটাইজেশনের আওতাধীন থাকতে পারে।

ইউটিউবের নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে এআই ব্যবহার করে কনটেন্ট তৈরি করা নির্মাতাদের এখন থেকে ভিডিও তৈরি ও প্রকাশের ক্ষেত্রে আরো সতর্ক থাকতে হবে। তাদেরকে মৌলিকতা ও তথ্যের নির্ভুলতার ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।

সূত্র : ইয়াহু ফাইন্যান্স

ফাইভজি প্রযুক্তির লাইসেন্স নিয়ে মামলায় জিতল টেসলা

অনলাইন ডেস্ক
ফাইভজি প্রযুক্তির লাইসেন্স নিয়ে মামলায় জিতল টেসলা
ছবি : রয়টার্স

যুক্তরাজ্যে ফাইভজি প্রযুক্তির লাইসেন্সসংক্রান্ত মামলায় জয় পেয়েছে টেসলা। দেশটির সুপ্রিম কোর্টের এ রায়ের ফলে ফাইভজি-সক্ষম গাড়ি বাজারে আনার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বড় আইনি সুবিধা পেল ইলন মাস্কের বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি।

সোমবার (২৭ জুলাই) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

২০২৩ সালে টেসলা যুক্তরাজ্যের হাইকোর্টে ইন্টারডিজিটাল ও অ্যাভানসির বিরুদ্ধে মামলা করে। টেসলার দাবি ছিল, ফাইভজি প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় পেটেন্টের লাইসেন্স যেন ন্যায্য ও সবার জন্য সমান শর্তে দেওয়ার নির্দেশ আদালত দেন।

তবে ২০২৪ সালে হাইকোর্ট টেসলার সেই আবেদন খারিজ করে দেন। পরে যুক্তরাজ্যের সুপ্রিম কোর্টে যায় প্রতিষ্ঠানটি।

সুপ্রিম কোর্ট রায়ে টেসলার পক্ষে অবস্থান নেন। আদালত বলেন, কোনো পেটেন্টধারী প্রতিষ্ঠান পেটেন্ট পুল বা লাইসেন্সিং প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হলেও ন্যায্য, যৌক্তিক ও বৈষম্যহীন শর্তে  লাইসেন্স দেওয়ার দায়িত্ব থেকে মুক্ত হতে পারে না।

এ রায়ের পর মামলাটি আবারও হাইকোর্টে শুনানির জন্য পাঠানো হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক সংযুক্ত (কানেক্টেড) গাড়িতে ৫জি প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে গাড়ি দ্রুতগতির ইন্টারনেট সংযোগ, রিয়েল-টাইম নেভিগেশন, সফটওয়্যার আপডেট, স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং ভবিষ্যতের স্বয়ংচালিত প্রযুক্তির বিভিন্ন সুবিধা আরো কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারে। তাই ফাইভজি-সম্পর্কিত পেটেন্ট লাইসেন্স নিয়ে এই রায় টেসলার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

এআইয়ের যুগে ২০৩৬ সালে টাকার প্রয়োজন কমবে : ইলন মাস্ক

অনলাইন ডেস্ক
এআইয়ের যুগে ২০৩৬ সালে টাকার প্রয়োজন কমবে : ইলন মাস্ক
ছবিঃ রয়টার্স

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও রোবট প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির ফলে ২০৩৬ সালের মধ্যে মানুষের জীবনে টাকার প্রয়োজন অনেকটাই কমে যেতে পারে বলে দাবি করেছেন টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক। তার মতে, এআই যদি মানুষের চাহিদার চেয়েও বেশি পণ্য ও সেবা উৎপাদন করতে পারে, তাহলে অর্থের গুরুত্ব আগের মতো থাকবে না। এমনকি ভবিষ্যতে মূল্যস্ফীতির (ইনফ্লেশন) বদলে মূল্যহ্রাস (ডিফ্লেশন) বিশ্ব অর্থনীতির বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

সম্প্রতি দ্য ইকোনমিস্ট-এর প্রধান সম্পাদক জ্যানি মিন্টন বেডোসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাস্ক এসব কথা বলেন। এ তথ্য জানিয়েছে এনডিটিভি

সাক্ষাৎকারে মাস্ক বলেন, মানুষ মূলত বাসস্থান, যাতায়াত, বিনোদনসহ প্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবা কেনার জন্য অর্থ ব্যবহার করে। কিন্তু যদি এআই ও রোবট এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায়, যেখানে তারা মানুষের প্রয়োজনের চেয়েও বেশি পণ্য ও সেবা উৎপাদন করতে পারে, তাহলে অর্থের প্রয়োজন অনেকটাই কমে যাবে।

এ সময় এআইয়ের কারণে ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও আলোচনা হয়। ব্যাপক হারে মানুষ চাকরি হারালে কী হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে মাস্ক বলেন, সরকার চাইলে নাগরিকদের সরাসরি আর্থিক সহায়তা দিতে পারে।

তবে এমন উদ্যোগ মূল্যস্ফীতি বাড়াতে পারে—এমন মন্তব্যের জবাবে মাস্ক বলেন, এআইনির্ভর অর্থনীতিতে প্রচলিত অর্থনৈতিক ধারণা বদলে যেতে পারে। তার ব্যাখ্যায়, অর্থের পরিমাণের তুলনায় যদি পণ্য ও সেবার উৎপাদন দ্রুত বাড়ে, তাহলে মূল্যস্ফীতির পরিবর্তে মূল্যহ্রাসই বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে। তার ভাষায়, ভবিষ্যতে ডিফ্লেশনই অর্থনীতির প্রধান ইস্যু হতে পারে।

তবে এআইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি শতভাগ নিশ্চিন্ত নন। মাস্ক বলেন, এআই একই সঙ্গে রোমাঞ্চকর এবং ভীতিকর। কোনো কোনো দিন এই প্রযুক্তি নিয়ে তিনি যেমন আশাবাদী থাকেন, আবার কখনো এর সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়েও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।

বিশ্লেষকদের মতে, এআই প্রযুক্তির উন্নয়ন উৎপাদনশীলতা বাড়ালেও কর্মসংস্থান, আয় বৈষম্য এবং অর্থনৈতিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আনতে পারে। তাই এআইনির্ভর ভবিষ্যতের সম্ভাবনা যতটা উজ্জ্বল, সেই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়াও ততটাই গুরুত্বপূর্ণ হবে।

মানবসভ্যতার ইতিহাস বদলে দেওয়া ইউফ্রেটিসের জন্ম হলো কিভাবে?

অনলাইন ডেস্ক
মানবসভ্যতার ইতিহাস বদলে দেওয়া ইউফ্রেটিসের জন্ম হলো কিভাবে?
ছবি : রয়টার্স

বিশ্বের প্রাচীনতম সভ্যতার অন্যতম ভিত্তি ইউফ্রেটিস নদী। এই নদীর তীরেই গড়ে উঠেছিল বিশ্বের প্রথম মহানগর উরুক, প্রাচীন ব্যাবিলন, উর ও মারি। কৃষি, নগরায়ণ এবং লিখিত ভাষার সূচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই নদীর জন্ম কিভাবে হয়েছিল, তা দীর্ঘদিন ধরেই ছিল বিজ্ঞানীদের কাছে এক রহস্য। অবশেষে সেই রহস্যের জট খুলেছেন গবেষকরা।

সম্প্রতি নেচার জিওসায়েন্স সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় জানা গেছে, প্রায় ৩৬ লাখ থেকে ১৬ লাখ বছর আগে তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলের টরাস পর্বতমালার ভূত্বকীয় পরিবর্তনের ফলে দুটি প্রাচীন নদী একত্রিত হয়ে সৃষ্টি হয়েছিল বর্তমানের ইউফ্রেটিস নদী। এ তথ্য প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স

সমুদ্রের নিচে মিলল প্রাচীন নদীর খোঁজ

গবেষণার সময় বিজ্ঞানীরা সিসমিক ইমেজিং প্রযুক্তি ব্যবহার করেন। এটি অনেকটা মানুষের শরীরে ব্যবহৃত আল্ট্রাসাউন্ডের মতো। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ভূগর্ভের শিলা, বালু, পলি ও অন্যান্য স্তরের ত্রিমাত্রিক ছবি তৈরি করা যায়। ভূমধ্যসাগরের তলদেশে গ্যাস অনুসন্ধানের সময় বিজ্ঞানীরা প্রায় ৫০ লাখ বছর আগের চাপা পড়ে থাকা নদীখাতের সন্ধান পান।

গবেষণায় দেখা যায়, প্রায় ৫৪ লাখ বছর আগে, যখন ভূমধ্যসাগরের বড় একটি অংশ শুকিয়ে গিয়েছিল—যা মেসিনিয়ান স্যালিনিটি ক্রাইসিস নামে পরিচিত—তখন বর্তমান তুরস্কের কারাসু ও মুরাত নদীর পূর্বসূরি দুটি নদী ওই অঞ্চল দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ভূমধ্যসাগরে গিয়ে পড়ত।

যেভাবে তৈরি হলো ইউফ্রেটিস

বিজ্ঞানীদের মতে, টরাস পর্বতমালায় টেকটোনিক বা ভূত্বকের নড়াচড়ার কারণে মুরাত নদীর পূর্বসূরি তার গতিপথ বদলে পারস্য উপসাগরের দিকে প্রবাহিত হতে শুরু করে। পরে কারাসু নদীর পূর্বসূরিও এসে এর সঙ্গে মিলিত হয়। এই দুটি নদীর মিলনেই তৈরি হয় বর্তমানের শক্তিশালী ইউফ্রেটিস নদী।

গবেষণায় আরো জানা যায়, সেই সময় নদী দুটির সম্মিলিত পানিপ্রবাহ বর্তমানের নাইল কিংবা টাইগ্রিস-ইউফ্রেটিস নদী ব্যবস্থার চেয়েও বেশি ছিল। গবেষকদের ধারণা, সে সময় অঞ্চলটিতে বৃষ্টিপাত বেশি এবং ভূপ্রকৃতি ভিন্ন হওয়ায় নদীগুলোর প্রবাহও ছিল অনেক শক্তিশালী।

সভ্যতার জন্মে ইউফ্রেটিসের ভূমিকা

প্রায় ২ হাজার ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ইউফ্রেটিস নদী বর্তমানে তুরস্ক থেকে উৎপন্ন হয়ে সিরিয়া ও ইরাক অতিক্রম করে পারস্য উপসাগরে গিয়ে মিশেছে। টাইগ্রিস নদীর সঙ্গে মিলেই এটি গড়ে তুলেছিল ফার্টাইল ক্রিসেন্ট নামে পরিচিত উর্বর অঞ্চল। এখান থেকেই কৃষির বিকাশ, নগর সভ্যতার উত্থান এবং বিশ্বের প্রথম লিখনপদ্ধতির সূচনা হয়েছিল।

আমাজনের মতো ইউফ্রেটিসও বদলেছে পথ

গবেষণার অন্যতম গবেষক, ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার ভূবিজ্ঞানী সাইমন ল্যাং বলেন, পৃথিবীর বড় বড় নদীর গতিপথও লাখো বছরে ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তনের কারণে বদলে যেতে পারে। উদাহরণ হিসেবে তিনি আমাজন নদীর কথা উল্লেখ করেন। আন্দিজ পর্বতমালা গড়ে ওঠার আগে আমাজন নদী পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয়ে প্রশান্ত মহাসাগরে পড়ত। পরে পর্বতমালার উত্থানের ফলে নদীটির প্রবাহ উল্টো দিকে ঘুরে বর্তমানে আটলান্টিক মহাসাগরে গিয়ে মিশছে।

গবেষকদের মতে, ইউফ্রেটিস নদীর উৎপত্তির ইতিহাস জানা শুধু ভূতত্ত্বের জন্য নয়, মানবসভ্যতার শুরুর ইতিহাস বোঝার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নদীর গতিপথের এই পরিবর্তন প্রাচীন জলবায়ু, ভূপ্রকৃতি এবং মানুষের বসতি গড়ে ওঠার ইতিহাস সম্পর্কে নতুন তথ্য জানার সুযোগ করে দেবে।

অনন্য ডিসপ্লে নিয়ে এলো নকিয়া এক্স৬ | কালের কণ্ঠ