kalerkantho

বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রতিচ্ছবি ভোলার 'স্বাধীনতা জাদুঘর'

ভোলা প্রতিনিধি   

২৫ মার্চ, ২০১৯ ২১:৪৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রতিচ্ছবি ভোলার 'স্বাধীনতা জাদুঘর'

ভোলার বাংলাবাজারে স্থাপিত স্বাধীনতা জাদুঘরটি বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রতিচ্ছবি হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে। স্থাপত্য শিল্পের অনন্য নিদর্শন এই জাদুঘরটি দেখতে একদিকে যেমন ভ্রমণ পিপাসুরা আসছেন। অপরদিকে আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস-ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে নতুন প্রজন্মের জন্য এক তথ্যভাণ্ডার হিসেবে কাজ করছে।

ভোলা জেলা শহর থেকে আট কিলোমিটার দক্ষিণে বাংলাবাজার এলাকায় বঙ্গবন্ধুর সাবেক রাজনৈতিক সচিব তোফায়েল আহমেদ তার মায়ের নামে প্রতিষ্ঠিত ফাতেমা খানম ট্রাস্টের অধীনে স্বাধীনতা জাদুঘরটি স্থাপন করেন। চার বছর আগে সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। গত বছরের ২৫ জানুয়ারি মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন করেন।

আধুনিক স্থাপত্য শিল্পের অনন্য নির্দশন হিসেবে তিন তলা বিশিষ্ট এই স্বাধীনতা জাদুঘরে তিনটি গ্যালারি রয়েছে। প্রথম তলার গ্যালারিতে এক পাশে ইতিহাস ঐতিহ্য, প্রত্নতাত্তিক নিদর্শন, বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন, ৪৭ এর দেশভাগ ও ভাষা আন্দোলনের দুলর্ভ ছবি ও তথ্যচিত্র রয়েছে। অপর পাশে রয়েছে লাইব্রেরি ও গবেষণাগার।

এ ছাড়া ওই একই তলায় রয়েছে মাল্টিমিডিয়া ডিসপ্লে হল রুম। এখানে বঙ্গবন্ধুর সকল ভাষণের অডিও ও ভিডিও ডিজিটাল প্রদর্শনীর ব্যবস্থা রয়েছে। দর্শনার্থীরা ডিজিটাল টাচস্ক্রিন ব্যবহার করে যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ মূহুর্ত ও তথ্য জানতে পারবেন।

দ্বিতীয় তলায় রয়েছে ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধের আগ পর্যন্ত ইতহাসের বেশ কিছু স্থিরচিত্র। তৃতীয় তলায় রয়েছে যুক্তফন্ট, ৫৮’র আন্দোলন, পাকিস্তানের সামরিক শাসন, ৬৬টির আন্দোলন, ৬৯’র গণআন্দোলন, ৭০ এর নির্বাচন, ৭ মার্চের ভাষণ, ৭১ এর মক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধুর আত্মত্যাগের দুলর্ভ আলোকচিত্র ও বঙ্গবন্ধুর সাথে বিদেশে সফররত সাবেক সচিব তোফায়েল আহমেদ এর দূর্লভ আলোকচিত্র। একটি পাশে রয়েছে স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মত্যাগকারী ভোলার বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ মোস্তোফার আলোকচিত্র।

এখানে একজন ম্যানেজারসহ ১৮ জন কর্মী কাজ দায়িত্ব পালন করছেন। বৃহস্পতিবার ছাড়া অন্যান্য দিন বেলা ১১টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকে এই জাদুঘর। এখানে প্রবেশ করতে কোনো ধরনের প্রদর্শন ফি নেই।

এ যাদুঘরে দেশ বিদেশের ইতিহাসবিদরা গবেষণা করতে পারবেন। এটি একদিকে যেমন গবেষণাগার, অপরদিকে ডিজিটাল ডিসপ্লেতে বৃটিশবিরোধী আন্দোলন, ভাষা-অন্দোলন থেকে স্বাধীনতা আন্দোলনের ধারাবাহিকতা দেখতে ও জানতে পারবে নতুন প্রজন্ম। এ ছাড়াও তুলে ধরা হয়েছে বাঙালির লোকজ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি। ইতোমধ্যে দেশবরণ্য রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অসংখ্য ব্যক্তিবর্গ এ স্বাধীনতা জাদুঘর পরিদর্শন করেছেন।

এ বিষয়ে বিভিন্ন সভা ও সেমিনারে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক তোফায়েল আহমেদ বলেন, আমার জীবনের একটি ইচ্ছে ছিলো বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরা একটি ছাদের নিচে। সে আশা আমাকে আল্লাহপাক আমার পূরণ করেছেন। এ স্বাধীনতা যাদুঘর আগামী তরুণ প্রজন্মের জন্য স্বাধীনতা যুদ্ধ ও দেশ বিভাজন থেকে শুরু করে প্রাগৈতিহাসিক ইতিহাস জানার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

মন্তব্য