• ই-পেপার

চাঁদপুরে যাত্রীবাহী লঞ্চ ও টার্মিনালে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান

পাবনার চাটমোহরে মাদকবিরোধী অভিযান, আটক ৬

পাবনা ও চাটমোহর প্রতিনিধি
পাবনার চাটমোহরে মাদকবিরোধী অভিযান, আটক ৬

পাবনার চাটমোহরে অভিযান চালিয়ে চিহ্নিত মাদককারবারী ও সেবীসহ ৬ জনকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।

অভিযানের সময় তল্লাশির নামে ঘরবাড়ি তছনছ এবং টাকা চুরির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সস্যেদের বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে চাটমোহর উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের অমৃতকুন্ডা গ্রামে অভিযান চালিয়ে চিহ্নিত মাদক কারবারী ফজলুর রহমান ওরফে ঘোড়া ফজলুসহ ৬ মাদক বিক্রেতা ও সেবীকে আটক করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা। ফজলুর বাড়ি থেকে ২০০ গ্রাম গাঁজা ও নগদ ১ লাখ ৩২ হাজার ৯৬০ টাকা জব্দ করা হয়।

আরো পড়ুন
ভাঙ্গায় এক দম্পতির বাড়ির দুটি ঘর ভাঙল এলাকাবাসী

ভাঙ্গায় এক দম্পতির বাড়ির দুটি ঘর ভাঙল এলাকাবাসী

 

পরে চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুসা নাসের চৌধুরীর আদালতে মাদকসেবীদের হাজির করলে প্রত্যেককে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। অপরদিকে মাদক বিক্রেতা ঘোড়া ফজলুর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে চাটমোহর থানায় একটি মামলা করা হয়। পরে তাদের পাবনা জেল হাজতে পাঠানো হয়।

আটকরা হলেন– উপজেলার অমৃতকুন্ডা গ্রামের ফজলুর রহমান ওরফে ঘোড়া ফজলু (৫০), তার ছেলে রাসেল (২৫), একই এলাকার মৃত কোরবান আলীর ছেলে আনোয়ার হোসেন (৭২), বালুদিয়ার সাহাপুর গ্রামের মৃত আলী আশরাফ আলীর ছেলে জাকির খন্দকার (৪৩), কুবিরদিয়ার গ্রামের মৃত ফরিদ উদ্দিনের ছেলে মানিক হোসেন (৪০) ও সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া থানার চাঁদপুর গ্রামের মৃত নুর ইসলামের ছেলে লিটন (৫৩)।

এদিকে, আটক মাদক বিক্রেতা ঘোড়া ফজলুর স্ত্রী শামসুন্নাহার অভিযোগ করে বলেন, আফগারির লোকজন বাড়িতে এসে তল্লাশির নামে ঘরের সবকিছু ভাঙচুর আর তছনছ করেছে। ঘরে নগদ ছিল আড়াই লাখ টাকা, আর স্বামীর পকেটে ছিল ৪০ হাজার। সবমিলিয়ে ৩ লাখ টাকা নিয়ে গেছে।

আরো পড়ুন
বিশ্বকাপ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে যৌনকর্মীদের ভিড়

বিশ্বকাপ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে যৌনকর্মীদের ভিড়

 

আটক মাদকসেবী আনোয়ার হোসেনের মেয়ে আমেনা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, আমার আব্বা লালন ভক্ত লোক। লালন একাডেমিতে বসেছিল। আফগারির লোকজন এসে ধরে নিয়ে গেছে। গাঁজা খায় না, কিন্তু তারা নিজেরাই বলাবলি করে গাঁজা খায়। এই বলে ধরে নিয়ে গেছে। আমরা বাবা বুড়ো মানুষ। তারা এসে হুমকি দেয় যে টাকা দাও। টাকা দেয়নি বলে এসে মারধর করে নিয়ে গেল।

হাসি খাতুন নামে স্থানীয় এক গৃহবধূ বলেন, লালন একাডেমিতে দুই তিনজন বসেছিল। আফগারীর ৮ থেকে ৯ জন লোক সন্দেহবশত এসে তাদের ধরে নিয়ে গেছে। আর পাশের বাড়ি থেকে অনেক টাকা পয়সা নিয়ে গেছে। আর ফজলুকেও ধরে নিয়ে গেছে। কিছু মাদকও জব্দ করেছে।

আরো পড়ুন
অতিরিক্ত ভাড়ার চাপে বিপাকে কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীরা

অতিরিক্ত ভাড়ার চাপে বিপাকে কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীরা

 

এ বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ঈশ্বরদী) পাবনার পরিদর্শক আব্দুর রহিম বলেন, পুরোটা মিথ্যা কথা। এলাকার সবারই অভিযোগ ফজলু মাদককারবারী। সবাইকে টাকা পয়সা দিয়ে নাকি ম্যানেজ করে রাখে। যেকারেণ ধরা পড়ে না। পরে আমাদের টিমের সঙ্গে কথা বলে অভিযান চালিয়ে তাকে হাতেনাতে ধরেছি। কোনো ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা হয়নি। গেটটা খুলতে চায়নি, আমরা সেটা টান দিয়ে খুলে ভেতরে ঢুকেছি। টাকা নেওয়ার কথাও সত্য নয়। সেখানে অনেক মানুষের সামনে স্বাক্ষী রেখে টাকা গুণে জব্দ করা হয়েছে। ১ লাখ ৩২ হাজার ৯৬০ টাকা যেটা পেয়েছি আমরা সেটা জব্দ দেখিয়েছি।

মদনে পুলিশের ওপর হামলা: সেই ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, নেত্রকোনা
মদনে পুলিশের ওপর হামলা: সেই ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

নেত্রকোনার মদনে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় সেই ছাত্রদল নেতা সৈয়দ মিঠু মিয়াকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আজ শুক্রবার জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম খান পাঠানের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সন্ধ্যায় মদন পৌর সদরের সরকারি কলেজ মোড়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে আহত হন কনস্টেবল ফরিদুল ইসলাম ও আতাউর রহমান। অভিযুক্ত মিঠু মিয়া মদন সরকারি হাজী আব্দুল আজিজ খান ডিগ্রি কলেজ শাখার ছাত্রদরের সভাপতি ও মদন পৌরসদরে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সৈয়দ রঞ্জু মিয়ার ছেলে।

আরো পড়ুন
মরুভূমিতে বিকল ট্রাক, তৃষ্ণায় মৃত্যু ৪৯ যাত্রীর

মরুভূমিতে বিকল ট্রাক, তৃষ্ণায় মৃত্যু ৪৯ যাত্রীর

 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মদন সরকারি কলেজ মোড় এলাকায় চট্টগ্রামগামী বাসে যাত্রীদের হয়রানি করা হচ্ছে—এমন খবরে মদন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাদির হোসেন শামীম পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। এ সময় যাত্রীরা নানা হয়রানি নিয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেন। এ সময় ওই স্থানে আসে ছাত্রদল নেতা মিঠু মিয়া। পরে পুলিশ সদস্যরা তাকে একটু দূরে সরে যেতে বললে, তাদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন মিঠু। এক পর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় মিঠুর আঘাতে কনস্টেবল ফরিদুল ও আতাউর রহমান আহত হন। পরে তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।  

আরো পড়ুন
ভাঙ্গায় এক দম্পতির বাড়ির দুটি ঘর ভাঙল এলাকাবাসী

ভাঙ্গায় এক দম্পতির বাড়ির দুটি ঘর ভাঙল এলাকাবাসী

 

এ ব্যাপারে মদন উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি এস এইচ পিপুল বলেন, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে সৈয়দ মিঠু মিয়াকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

মদন থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, যাত্রীদের সঙ্গে বাস কাউন্টারে ঝামেলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় মিঠু নামের এক যুবক আঘাত করে দুই পুলিশ সদস্যকে আহত করে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত যুবক মিঠুকে আটক করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

ফটিকছড়ি

সাবেক মেয়রের বিশ্রামাগারে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভা

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
সাবেক মেয়রের বিশ্রামাগারে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভা
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মঞ্জুর আলমের বিশ্রামাগারে সভা করেছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। বৃহস্পতিবার বিকেলে মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফ সংলগ্ন একটি বিশ্রামাগারে এ সভা করেন তারা। এতে প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। 

এ ঘটনা জানতে পেরে রাতে অভিযান চালিয়ে ওই সভায় অংশ নেওয়া কয়েকজনকে আটক করেছে পুলিশ।

আরো পড়ুন
‘ফিল্ম পলিটিক্সের শিকার’ প্রসঙ্গে কী বললেন শাকিব খান?

‘ফিল্ম পলিটিক্সের শিকার’ প্রসঙ্গে কী বললেন শাকিব খান?

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মঞ্জুর আলমের অর্থায়নে মাইজভান্ডারী ভক্তদের জন্য প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত ওই বিশ্রামাগারে সভার আয়োজন করে ফটিকছড়ি উপজেলা ছাত্রলীগ। সভায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিটের প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই সভার ছবি ও ভিডিও বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয় এবং প্রশাসনের টনক নড়ে। 

এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে রোসাংগিরী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার সাজু বলেন, ‘নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠন রাস্তার পাশে একটি ভবনে প্রাকাশ্যে সভা করার বিষয়টি প্রশাসন জানেনা বিষয়টি উদ্বেগের।’

এ বিষয়ে ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম খান জানান, ছাত্রলীগের সভার বিষয়টি জানামাত্রই পুলিশ রাতে অভিযান চালিয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত কয়েকজনকে ইতোমধ্যে আটক করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ভাঙ্গায় এক দম্পতির বাড়ির দুটি ঘর ভাঙল এলাকাবাসী

ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
ভাঙ্গায় এক দম্পতির বাড়ির দুটি ঘর ভাঙল এলাকাবাসী

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় এক দম্পতির বাড়ির দুটি ঘর ভেঙে দিয়েছে এলাকাবাসী। এ সময় ঘর দুটির আসবাবপত্রও ভাঙচুর করা হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ ওই দম্পতি মাদক ব্যবসায়ী। শুক্রবার (৫ জুন) সকাল ৮টার দিকে ভাঙ্গা পৌরসভার চন্ডীদাসদি মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েক শ মানুষ একত্রিত হয়ে ঘর দুটিতে হামলা চালিয়ে সেগুলো ভেঙে ফেলছে। ঘরগুলোর মালিক চন্ডীদাসদি মহল্লার বাসিন্দা আইয়ুব শেখ (৫১)।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, আইয়ুব শেখ ও তার স্ত্রী ময়না আক্তার (৪৫) দীর্ঘদিন ধরে গাঁজা ও ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদককারবারীর সঙ্গে জড়িত। তাদের কারণে এলাকায় মাদকাসক্তির বিস্তার ঘটছে এবং যুবসমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

ভাঙ্গা পৌরসভার চন্ডীদাসদি মহল্লার পশ্চিমপাশেই ভাঙ্গার আলগী ইউনিয়নের সোনাখোলা গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আইয়ুব শেখ ও তার স্ত্রী ময়না ভাঙ্গা, নগরকান্দাসহ দুই-তিন উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বড় গাঁজা ও ইয়াবা কারবারি। এদের কারণে এলাকা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। ময়না বেগম মাদক সম্রাজ্ঞী ও তার স্বামী আইয়ুব শেখ মাদকের ডিলার হিসেবে পরিচিত। এলাকাবাসীকে রক্ষা করতে এ দম্পতির ঘরবাড়ি উচ্ছেদ করা ছাড়া উপায় নেই।

সোনাখোলা গ্রামের বাসিন্দা ও ভাঙ্গা সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের আইনজীবী মো. মাসুদ হোসেনও বাড়িঘর ভাঙচুরের সময় উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, এ দম্পতি এলাকার বড় মাদককারবারী। এরা মাঝেমধ্যে গ্রেপ্তার হন। আবার দুই-চারদিন পর জামিন নিয়ে চলে আসেন। আমরা এদের ভালো হয়ে যেতে বলেছিলাম। কিন্তু, তারা ভালো হয়নি। তাই এলাকাবাসীর সম্মিলিত সিদ্ধান্তে মাদককারবারী দম্পতির দুটি ঘর ভেঙে দিয়েছে।

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, চন্ডীদাসদি গ্রামের আইয়ুব শেখ ও তার স্ত্রী ময়না বেগম বড় ধরনের মাদককারবারী। এদের  বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার করেছি। চলতি বছরও এদের বিরুদ্ধে ভাঙ্গা থানায় মাদক আইনে তিনটি মামলা হয়েছে। এরা তিনবার গ্রেপ্তার হয়েছে। এদের বাড়িঘর এলাকাবাসী ভেঙে দেওয়ার খবর কিছুক্ষণ আগে শুনেছি। পুলিশ পাঠিয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

চাঁদপুরে যাত্রীবাহী লঞ্চ ও টার্মিনালে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান | কালের কণ্ঠ