kalerkantho

শুক্রবার । ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৫ জুন ২০২০। ১২ শাওয়াল ১৪৪১

অভিজ্ঞদের কাজে লাগাতে হবে

প্যাট্রিক ককবার্ন

২ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



অভিজ্ঞদের কাজে লাগাতে হবে

থানিংটন কমিউনিটি সেন্টার পরিচালনা করেন পলা স্পেন্সার। তিনি চারটি পরিবারের কাছে ফুড পার্সেল পাঠিয়েছেন। থানিংটন ক্যান্টারবেরির একটি প্রান্তিক এলাকা। পরিবারগুলোর দুটিতে করোনা লক্ষণ আছে, তারা সহায়তা চেয়েছিল। আর দুটি পরিবারের খাদ্যাভাব ছিল। এলাকাটির বাসিন্দা দুই হাজার ৭০০ জন, সেখানে ভীতিজনিত ক্রয়ের প্রবণতা নেই। ক্যান্টারবেরির এ অংশের কাউন্সিলর লিবডেম পার্টির নিক এডেন গ্রিন। তিনি বলেন, থানিংটনে কেনার হুড়োহুড়ি না থাকার কারণ এ নয় যে মানুষজন ঘাটতির কারণে উদ্বিগ্ন নয়; বরং কারণ এই যে বস্তা ধরে কেনার মতো টাকা লোকজনের নেই। যদি গাদা গাদা কেনার প্রবণতাও থাকত, তাহলেও মালপত্র বয়ে নেওয়ার সমস্যা হতো। কারণ সেখানকার লোকজনের নিজস্ব গাড়ি নেই।

স্পেন্সার বলেছেন, ক্যান্টারবেরির ফুড ব্যাংকের ওপর অনেকে নির্ভরশীল। ভলান্টিয়ারদের সহায়তায় এটি চলে। এর স্বেচ্ছাসেবকরা সাধারণত বয়স্ক ব্যক্তি বা পেনশনভোগী। করোনায় তাঁরা ঝুঁকিপূর্ণ বলে এবং সরকারের পরামর্শে অনেকে বাড়িতে থাকছেন।

ভীতিজনিত ক্রয় যে চলছে না তা কিন্তু নয়। গত মঙ্গলবার সাইনসবারিতে গিয়েছিলাম। তখন মার্কেটের বেশির ভাগ শেলফই প্রয়োজনীয় পণ্যে ভর্তি ছিল। আজ এক বন্ধু সেখানে গিয়েছিল। সে জানাল—রুটি নেই, সবজি নেই, তাজা মাছ নেই, পিত্জা নেই, বিয়ার আছে খুবই অল্প। ক্যান্টারবেরিতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা দ্রুত ভেঙে পড়ছে। জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রাখার সরকারি, স্থানীয় কর্তৃপক্ষীয় ও ভলান্টিয়ারি প্রয়াসের গতির চেয়ে ভেঙে পড়ার গতি বেশি। স্পেন্সারের সঙ্গে কথা বলার কয়েক ঘণ্টা পরেই তিনি বেদনার্ত এক ই-মেইল পাঠালেন; জানালেন, লোকজনের লাইন পড়েছে। তারা জানাচ্ছে, নিয়োগকর্তারা তাদের লে-অফ করছেন। কিছুক্ষণ আগেই সেখান থেকে গেলেন এক মহিলা। তাঁর তিনটি ছোট্ট বাচ্চা রয়েছে; তিনি একটি স্কুল-কিচেনে কাজ করেন। কর্তৃপক্ষ তাঁকে বলেছে, তাঁকে আজ থেকে চার সপ্তাহের বিনা বেতনে ছুটি নিতে হবে। এ সময়ে অসুস্থ হলে তাঁকে চিকিৎসাভাতা দেওয়া হবে না। লোকগুলো কী করবে? স্পেন্সার অসহায় বোধ করছেন, কোনো জায়গা থেকে তাঁর কাছে কোনো নির্দেশনা আসছে না।

করোনাভাইরাস পূর্ব কেন্টের দিকে ধাবিত, থানিংটনের চেয়েও বাজে অবস্থা হতে পারে সেখানে। অ্যাশফোর্ডের উইলিয়াম হার্ভে হাসপাতালের এক রোগী করোনা পজিটিভ। সংকট দেখা দেওয়ার আগেই সেখানকার প্রধান তিনটি হাসপাতাল তাল সামলাতে পারছিল না; এখন তো পারবেই না। সবচেয়ে বিপন্ন হবে তারাই যাদের অনেকেই গত এক দশকের কৃচ্ছ্র কর্মসূচির ফলে বিপন্ন হয়ে আছে। ক্যান্টারবেরিতে অনেকে কর্মসংস্থানের জায়গা পাবে, রেস্তোরাঁয়, হোটেলে। অনেক চাকরি অস্থায়ী, চুক্তিভিত্তিক; এসব চাকরি মালিকের মর্জির ওপর নির্ভরশীল। তারা কর্মী ছাঁটাই করবে তা বোধগম্য; সংকট কেটে গেলে তারা আবার নিয়োগ করবে। সরকারের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে বেতন দেওয়ার চেয়ে ছাঁটাইয়ের ও পুনর্নিয়োগের পথেই হাঁটবে তারা। কারণ ঋণ নিলে ফেরত দিতে হবে।

বিপন্নতার পরিস্থিতিতে হতাশ হওয়া সহজ, কিন্তু দৃঢ় মনোভাবের লোক এবং সংস্থাও আছে, যারা সমাজকে সচল রাখতে চায়, সমাজের ভেঙে পড়া রুখতে চায়। এড উইদার্স ক্যান্টারবেরি রেসিডেন্টস গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও সংগঠক। খুবই প্রভাবশালী সংগঠন; ক্যান্টারবেরির বেশির ভাগ লোক তাদের কাছ থেকে দরকারি খবর পায় এবং পরামর্শের জন্য তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। এড বলেন, সরকার সামাজিক দূরত্বের কথা বলছে। তাঁরা বলছেন, শারীরিক দূরত্ব ও সামাজিক সংহতির কথা। উইদার্স ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে ভলান্টিয়ার আহ্বানের কথা ভাবছেন। তাদের আহ্বান করা হবে, যারা লোকবল সংকটে থাকা খাতে স্বেচ্ছাসেবা দিতে চায়। স্বেচ্ছাসেবার জন্য লোক খোঁজা সহজ নয়।

লিস্টার একটি চ্যারিটিতে কাজ করতেন। তিনি বলেন, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ভালো হবে নীতিমালা কাজে লাগানো এবং চ্যারিটির অভিজ্ঞতাসম্পন্ন লোকদের কাজে লাগানো। কিন্তু চ্যারিটির কাজে এখন নিম্নগতি।

করোনা মোকাবেলায় মিউনিসিপ্যাল ও রাষ্ট্রীয় সংগঠনগুলোর প্রয়োজন ব্যাপক। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিক অধোগতি হয়েছে সরকার আরোপিত কৃচ্ছ্র কর্মসূচির কারণে। ক্যান্টারবেরি কাউন্সিল থেকে ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস—সব প্রতিষ্ঠানের অধোগতি হয়েছে; তারা অর্থের সংকটে ভুগছে। রাতারাতি এসবের কার্যক্ষমতা পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়। যেসব সংগঠনের এখন সামনে থাকার কথা, তারা মহামারির অভিঘাতে আরো নেতিয়ে পড়েছে। যেমন ক্যান্টারবেরির সিটিজেন্স অ্যাডভাইস ব্যুরো, থানিংটন নেইবারহুড রিসোর্স সেন্টার। অর্থের অভাবে তাদের হয়তো কর্মী ছাঁটাই করতে হবে। অথচ এখন তাদেরই প্রয়োজন বেশি। এসব স্থানীয় প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীয় সরকারের সহায়তা ছাড়া অতিরিক্ত সেবাদানের দায় সামলাতে পারবে না। কিন্তু সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণে, দিকনির্দেশনা দেওয়ার ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে। সংকট মোকাবেলায় সরকারি প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসন কার্যকর কিছু করতে পারবে না।

সরকারকে যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি নিতে হবে। না পারলে বলতে হবে যে মহাসংকট আসছে তা সামলানোর জন্য সব কিছু নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অবস্থানে সরকার নেই। তারা নিয়ন্ত্রণ-সক্ষমতা অর্জন করেনি।

 

লেখক : প্রাবন্ধিক, লেখক

সূত্র : কাউন্টারপাঞ্চ অনলাইন

ভাষান্তর ও সংক্ষেপণ : সাইফুর রহমান তারিক

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা