kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৬ চৈত্র ১৪২৬। ৯ এপ্রিল ২০২০। ১৪ শাবান ১৪৪১

বৈশ্বিক মহামারিতে রূপ নিচ্ছে করোনাভাইরাস!

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



বৈশ্বিক মহামারিতে রূপ নিচ্ছে করোনাভাইরাস!

নতুন করোনাভাইরাস মহামারি (এপিডেমিক) থেকে এবার এর বৈশ্বিক মহামারিতে (প্যানডেমিক) রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন ভাইরাসটি (কোভিড-১৯) একেবারেই প্যানডেমিকের দ্বারপ্রান্তে চলে গেছে। দক্ষিণ কোরিয়া, ইরান ও ইতালিতে দ্রুত মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং কুয়েত, বাহরাইন, ইরাক ও আফগানিস্তানে প্রথমবারের মতো রোগটির উপস্থিতি ধরা পড়ায় এ আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে ইরানে মৃতের সংখ্যা গোপনের অভিযোগ করে এক এমপি বলেছেন, দেশটিতে প্রায় ৫০ জন মারা গেছে।

মহামারিটির উৎস দেশ হিসেবে চীনে গত কয়েক দিন মৃত ও আক্রান্তের সংখ্যা কমে এলেও সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় কিছুটা বেড়েছে। গতকাল সোমবার চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন জানিয়েছে, রবিবার রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪০৯ জন আক্রান্ত ও আরো ১৫০ জন মারা গেছে। মৃত ও আক্রান্তদের বেশির ভাগই হুবেই প্রদেশে। এ নিয়ে চীনে কোভিড-১৯-এ মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল দুই হাজার ৫৯২ এবং আক্রান্তের সংখ্যা ৭৭ হাজার ৩৫৬ জন। এর বাইরে অন্যান্য দেশে প্রায় ৩০ জন মারা গেছে। সব মিলিয়ে বিশ্বে মৃতের সংখ্যা দুই হাজার ৬২৬ এবং আক্রান্তের সংখ্যা ৭৯ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

চীনে কোভিডের সংক্রমণ ঠেকাতে ‘সাংস্কৃতিক বিপ্লবের’ পর এই প্রথমবারের মতো বার্ষিক পার্লামেন্ট অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করেছে। মার্চের প্রথম সপ্তাহে এ অধিবেশন বসার কথা ছিল। এর মধ্যে হুবেই প্রদেশে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ায় প্রথমবারের মতো চলাফেরায় নিষেধাজ্ঞা কিছুটা শিথিল করার ঘোষণা দিয়েছে চীন সরকার।

চীনের বাইরে সবচেয়ে বড় বিপর্যয় ঘটতে যাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়ায়। জাপানে ব্রিটিশ প্রমোদতরী ডায়মন্ড প্রিন্সেসে আক্রান্তের সংখ্যা বাদ দিলে চীনের পর দক্ষিণ কোরিয়াই সবচেয়ে আক্রান্ত দেশ। গতকাল দেশটিতে এক দিনের ব্যবধানে আরো ২৩১ জন নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে এবং মারা গেছে আরো তিনজন। এ নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া কোভিডে আক্রান্তের সংখ্যা ৮৩৩ জন এবং মৃতের সংখ্যা পাঁচে দাঁড়াল। গতকাল স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় দক্ষিণ কোরিয়ার রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (কেসিডিসি) এ তথ্য জানায়।

দক্ষিণ কোরিয়ার পর সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা চলছে ইরানে। গতকাল আরো চারজনের মৃত্যু এবং ৬১ জনের আক্রান্ত হওয়ার কথা জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তারা সবাই দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর কোমের বাসিন্দা। এ নিয়ে ইরানে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ১২ জনে। তবে কোমের পার্লামেন্ট সদস্য আহমাদ আমিরাবাদি ফারহানি গতকাল এক বিবৃতিতে বলেছেন, ইরানে আগে যা বলা হচ্ছিল, তার চেয়ে অনেক বেশি ছড়িয়ে পড়েছে নতুন করোনাভাইরাস। তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আধাসরকারি বার্তা সংস্থা আইএলএনএকে বলেন, এরই মধ্যে অর্ধশতাধিক মানুষ এ রোগে মারা গেছে। তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইরাজ হিরারচি গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য অস্বীকার করেছেন।

ইতালিতে আরো তিনজন মারা গেছে। দেশটির বেসামরিক সুরক্ষা বিভাগের প্রধান জানান, নতুন করে আরো প্রায় অর্ধশত আক্রান্ত হয়েছে। এ ছাড়া শুক্রবার থেকে গত তিন দিনে উত্তরাঞ্চলে দুই শতাধিক মানুষ আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে গতকাল কুয়েত, বাহরাইন, আফগানিস্তান ও ইরাকের সরকারগুলো পৃথক বিবৃতিতে নিজ নিজ দেশে প্রথমবারের মতো কোভিড-১৯-এর সংক্রমণের কথা জানিয়েছে। এর মধ্যে কুয়েতে তিনজন, বাহরাইন ও ইরাকে একজন করে আক্রান্ত হয়েছে। এ নিয়ে কোভিডে আক্রান্ত মধ্যপ্রাচ্যের দেশের সংখ্যা দাঁড়াল আটে। এরই মধ্যে ইরাক, তুরস্ক, পাকিস্তান ও আর্মেনিয়া তাদের ইরান সীমান্ত সিল করে আসা-যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। এর মধ্যে পাকিস্তান তার ইরান সীমান্তে ২০০ ব্যক্তিকে কোয়ারেটাইনের অধীন রেখেছে।

বৈশ্বিক মহামারির শঙ্কা : বিবিসি জানায়, প্যানডেমিক হচ্ছে যখন কোনো সংক্রামক ব্যাধি খুব সহজেই এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তিতে ছড়ায় এবং একই সঙ্গে বিশ্বের অনেক অঞ্চলে তা ছড়িয়ে পড়ে। নতুন করোনাভাইরাস প্যানডেমিক হিসেবে রূপ নেওয়ার ব্যাপারে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ইস্ট অ্যাংলিয়ার স্বাস্থ্য সুরক্ষার অধ্যাপক পল হান্টার গতকাল বিবিসিকে বলেন, চীনের বাইরে যেভাবে ছড়িয়ে পড়ছে তা একেবারেই উদ্বেগজনক। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করোনাভাইরাস বৈশ্বিক প্যানডেমিকের একেবারে কাছে পৌঁছে গেছে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, তারা এখন আর প্যানডেমিক পরিভাষা ব্যবহার করে না। সংস্থাটির মুখপাত্র বলেন, এইচডাব্লিউ এখন পুরনো ‘মাত্রা পদ্ধতি’ ব্যবহার করে না। আর এটা কোনো অফিশিয়াল ক্যাটাগরিও নয়। এর পরও এটিকে রোগের অনুষ্ঠানিক মাত্রা হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে কোভিড-১৯-এর ব্যাপারে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জারি করা ‘জনস্বাস্থ্য সতর্কতা’ অব্যাহত থাকবে।

সহায়তা পাচ্ছে সিঙ্গাপুরে আক্রান্ত বাংলাদেশির পরিবার : এদিকে নতুন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এক বাংলাদেশি শ্রমিকের পরিবারকে ১০ হাজার ডলার আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে দেশটির বেসরকারি সংস্থা মাইগ্রেন্ট ওয়ার্কার্স সেন্টার (এমডাব্লিউসি)। মোবাইল ব্যাংকিং সেবা ব্যবহার করে এই আর্থিক সহায়তা পাঠানো হবে বলে জানানো হয়েছে। সিঙ্গাপুরের দ্য স্ট্রেট টাইমস পত্রিকার এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, অভিবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষায় কাজ করা এমডাব্লিউসির সঙ্গে মিলে ৩৯ বছর বয়সী ওই বাংলাদেশি শ্রমিকের নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান ওয়াই-কে ইনোভেশন্স এবং লিও ডরমিটরি পরিচালনাকারী মিনি এনভায়রনমেন্ট সার্ভিসেস এই আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা