kalerkantho

শুক্রবার । ৮ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৩ জুলাই ২০২১। ১২ জিলহজ ১৪৪২

অন্যের কাছে নিজের জন্য দোয়া চাওয়া

মুফতি তাজুল ইসলাম   

২৩ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মানুষের দোয়ায় নিজেকে শামিল করার একটি উপায় হলো সৎকর্মশীল বান্দাদের কাছে দোয়া চাওয়া। আবুদ্দারদা (রা.)-এর জামাই সাফওয়ান ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) বলেন, ‘আমি সিরিয়ায় আবুদ্দারদা (রা.)-এর বাড়িতে গেলাম। আমি তাকে বাড়িতে পেলাম না; বরং সেখানে উম্মুদ্দারদা (রা.)-কে পেলাম। তিনি আমাকে বলেন, ‘তুমি কি এই বছর হজে যেতে চাও?’ আমি বললাম, হ্যাঁ। তখন তিনি বলেন, ‘আল্লাহর কাছে আমাদের জন্য কল্যাণের দোয়া করো। কেননা নবী (সা.) বলেছেন, ‘কোনো মুসলিম ব্যক্তি তার ভাইয়ের অনুপস্থিতে দোয়া করলে তা কবুল হয়। তার মাথার কাছে একজন ফেরেশতা নিয়োজিত থাকেন। যখন সে তার ভাইয়ের কল্যাণের দোয়া করে, তখন নিয়োজিত ফেরেশতা বলে, আমিন! তোমার জন্যও অনুরূপ কল্যাণ বর্ষিত হোক।’ সাফওয়ান (রহ.) বলেন, আমি বাজারে গিয়ে আবুদ্দারদা (রা.)-এর দেখা পেলাম, তিনিও আমাকে এই হাদিস শোনালেন। (মুসলিম, হাদিস : ২৭৩৩)

অন্যের কাছে দোয়া চাওয়া অবৈধ নয়। সাহাবায়ে কেরাম, সালাফে সালেহিন নেককার বান্দাদের কাছে নিজেদের জন্য দোয়া চাইতেন। বিশেষ করে মা-বাবার প্রতি আনুগত্যশীল সদাচরণকারী ব্যক্তিদের কাছে তারা দোয়া চাইতেন। হাদিসের পাতায় সোনালি হরফে লেখা উয়াইস আল-কারনি (রহ.)-এর কাহিনিতে এর প্রকৃষ্ট নমুনা খুঁজে পাওয়া যায়। উসাইর বিন জাবির (রা.) বলেন, ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর অভ্যাস ছিল, যখন ইয়েমেনের কোনো সাহায্যকারী দল তার কাছে আসত, তখন তিনি তাদের জিজ্ঞেস করতেন, তোমাদের মধ্যে কি উয়াইস ইবনে আমের আছে? অবশেষে তিনি উয়াইসকে পেয়ে যান। তখন ওমর (রা.) বলেন, তুমি কি উয়াইস ইবনে আমের? তিনি বলেন, হ্যাঁ। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি মুরাদ গোত্রের কারান বংশের? বলেন, হ্যাঁ। জিজ্ঞেস করেন, তোমার কি শ্বেত রোগ ছিল এবং তা নিরাময় হয়েছে, শুধু এক দিরহাম পরিমাণ স্থান ছাড়া? তিনি বলেন, হ্যাঁ। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমার মা কি আছেন? তিনি বলেন, হ্যাঁ। তখন ওমর (রা.) বলেন, আমি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, ‘তোমাদের কাছে মুরাদ গোত্রের কারান বংশের উয়াইস নামের এক ব্যক্তি ইয়েমেনের সাহায্যকারী দলের সঙ্গে আসবে। তার ছিল শ্বেত রোগ। পরে তা নিরাময় হয়ে গেছে। শুধু এক দিরহাম পরিমাণ ছাড়া। তার মা আছেন। সে তাঁর প্রতি অতি সেবাপরায়ণ। সে (উওয়াইস) আল্লাহর ওপর কসম করে নিলে আল্লাহ তা পূর্ণ করে দেবেন। কাজেই যদি তুমি তোমার জন্য তার কাছে মাগফিরাতের দোয়া কামনার সুযোগ পাও, তাহলে তা করবে। এর পর ওমর (রা.) বলেন, সুতরাং আপনি আমার জন্য মাগফিরাতের দোয়া করুন। অতঃপর উয়াইস তাঁর মাগফিরাতের জন্য দোয়া করেন।’ (মুসলিম, হাদিস : ২৫৪২)

ওমর (রা.) দোয়া চেয়েছেন একজন সাধারণ মানুষের কাছে। যিনি সাহাবি ছিলেন না। তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয় ছিল তিনি মা-বাবার প্রতি সদাচরণকারী ছিলেন। সুতরাং হাদিসে যাদের দোয়া কবুলের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে, তাদের কাছে বেশি বেশি দোয়া চাওয়া উচিত। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তিন ব্যক্তির দোয়া অবশ্যই কবুল করা হয়, এতে কোনো সন্দেহ নেই। মজলুমের দোয়া, মুসাফিরের দোয়া এবং সন্তানের জন্য পিতার দোয়া।’ (তিরমিজি, হাদিস : ১৯০৫)

হাদিসের ভাষ্যমতে, কয়েক শ্রেণির মানুষের দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। যেমন—ন্যায়পরায়ণ শাসক, আল্লাহকে বেশি স্মরণকারী বান্দা, রোজাদার, নেক সন্তান, হজ সম্পাদনকারী, ওমরাহ পালনকারী, আল্লাহর পথে জিহাদকারী প্রমুখের দোয়া আল্লাহ কখনো ফিরিয়ে দেন না। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২৮৯৩)

সুতরাং এসব মানুষের কাছে দোয়া চাওয়া উচিত।

 



সাতদিনের সেরা