kalerkantho

শুক্রবার । ২০ ফাল্গুন ১৪২৭। ৫ মার্চ ২০২১। ২০ রজব ১৪৪২

হাদিসে নফল রোজার গুরুত্ব

মুফতি আব্দুল্লাহ আল ফুআদ   

২২ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ইবাদতে আগ্রহ ও উৎসাহ প্রদানে নফল ইবাদতের গুরুত্ব অপরিসীম। এর মাধ্যমে ফরজ ইবাদতের ঘাটতি পূরণ হয়। প্রায় প্রত্যেক ফরজ ইবাদতের নফল ইবাদত রয়েছে। হাদিসে ভিন্ন ভিন্নভাবে সেসবের ফজিলতও বর্ণনা করা হয়েছে। রমজানের রোজা ইসলামের আবশ্যকীয় মৌলিক বিধান। রমজানের ফরজ রোজার পাশাপাশি নফল রোজারও অনেক ফজিলত ও গুরুত্ব রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে নফল রোজা রেখেছেন এবং উম্মতকেও তা পালনে যথাযথ উৎসাহ প্রদান করেছেন। এ লেখায় হাদিসে বর্ণিত নফল রোজাগুলোর ফজিলত তুলে ধরা হলো—

সাপ্তাহিক নফল রোজা : প্রতি সপ্তাহে সোম ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখা নবীজির গুরুত্বপূর্ণ একটি সুন্নত। এই দুই দিন রোজা রাখার প্রতি নবীজি গুরুত্ব দিতেন। আয়েশা (রা.) বলেছেন, রাসুল (সা.) সোমবার ও বৃহস্পতিবারের রোজার প্রতি বেশি খেয়াল রাখতেন। (তিরমিজি, হাদিস : ৭৪৫)

মাসে তিন রোজা : প্রতি মাসে তিনটি রোজা রাখার ফজিলত প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ধৈর্যের মাস হলো রমজান, আর প্রত্যেক মাসে তিন দিন সাওম (রোজা) পালন করা সারা বছর সাওম (রোজা) পালন করার সমতুল্য।’ (নাসায়ি, হাদিস : ২৪০৮)

মুহাররম ও আশুরার রোজা : বিখ্যাত সাহাবি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘রমজানের পর উত্তম রোজা হচ্ছে, আল্লাহর মাস মুহাররমের রোজা। আর ফরজ নামাজের পর উত্তম নামাজ হচ্ছে রাতের নামাজ।’ (মুসলিম, হাদিস : ১১৬৩)

আশুরার রোজা প্রসঙ্গে আয়েশা (রা.) বলেন, ‘কোরাইশের লোকেরা জাহেলি যুগেও আশুরার রোজা রাখত। রাসুল (সা.)ও রাখতেন। এরপর যখন হিজরত করে মদিনায় এলেন, তখন নিজেও এই রোজা রাখলেন এবং অন্যদেরও রাখার আদেশ দিলেন। এরপর যখন রমজানের রোজা ফরজ হলো তখন বলেন, ‘যার ইচ্ছা সে তা (আশুরার রোজা) রাখতে পারে, যার ইচ্ছা না-ও রাখতে পারে।’ (বুখারি, হাদিস : ২০০২)

শাবান মাসের নফল রোজা : শাবান মাসে রোজা রাখা প্রসঙ্গে উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.) বলেন, ‘শাবান মাস এলেই রাসুলুল্লাহ (সা.) লাগাতার রোজা রাখতেন। ফলে আমরা বলতাম, তিনি আর রোজা বাদ দেবেন না। আবার কখনো রোজাহীনও থাকতেন, যার কারণে আমরা বলতাম, আর রাখবেন না। আমি আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে রমজান ছাড়া অন্য কোনো মাসে পুরো মাস রোজা রাখতে দেখিনি। তেমনি দেখিনি শাবানের চেয়ে বেশি অন্য কোনো মাসে রোজা রাখতে। (বুখারি, হাদিস : ১৯৬৯)

শাওয়ালের ছয় রোজা : রমজান-পরবর্তী শাওয়াল মাসে ছয় রোজা রাখা নবীজি (সা.)-এর গুরুত্বপূর্ণ একটি সুন্নত। এই মর্মে বিখ্যাত সাহাবি আবু আইয়ুব আনসারি (রা.) থেকে একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখল, এরপর শাওয়ালের ছয়টি রোজা রাখল। এটি তার জন্য সারা বছর রোজা রাখার সমতুল্য হবে।’ (মুসলিম, হাদিস : ২৬৪৮)

জিলহজ মাসের প্রথম দশকের রোজা : জিলহজ হজের মাস। এই মাসের প্রথম ১০ দিনের আমল আল্লাহর কাছে বেশি মর্যাদাসম্পন্ন। একবার নবীজি (সা.) সাহাবায়ে কেরামকে জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে বলেছেন, শোনো, এই ১০ দিনের সমতুল্য বছরের আর কোনো দিন নেই! এই কথা শুনে সাহাবারা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করাও কি এর সমকক্ষ হবে না? রাসুল (সা.) জবাব দিলেন, না, তা-ও হবে না। তবে যে ব্যক্তি জিহাদে গেছে, এ কাজে অর্থ ব্যয় করেছে, জীবনও বিলিয়ে দিয়েছে; আর ফিরে আসতে পারেনি, অবশ্য তার পুরস্কার ভিন্ন।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ১৯৬৯)

বিশেষভাবে আরাফার দিন বা জিলহজ মাসের ৯ তারিখ রোজা পালনকারীদের জন্য বিশেষ পুরস্কারের ঘোষণা রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘আরাফার দিনের রোজা সম্পর্কে আল্লাহর কাছে আশা করি যে তা বিগত এক বছর ও আগামী এক বছরের পাপের কাফফারা হিসেবে গ্রহণ করা হবে।’ (মুসলিম, হাদিস : ১১৬২)

মহান আল্লাহ আমাদের ফরজ ইবাদতের পাশাপাশি বেশি পরিমাণ নফল ইবাদতের তাওফিক দান করুন।

 

লেখক : মুদাররিস, মারকাযুত তাকওয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, ঢাকা।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা