kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০২২ । ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ক্যাম্পাসে ঢোকার পথে হামলার শিকার ছাত্রদল

► লাঠি, স্টাম্প ও রড নিয়ে হামলা, আহত ১৫
► কাল ছাত্রসমাবেশ করবে ছাত্রদল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ক্যাম্পাসে ঢোকার পথে হামলার শিকার ছাত্রদল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঢুকতে গেলে গতকাল ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালান বলে অভিযোগ উঠেছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঢোকার পথে হামলার শিকার হয়েছেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। গতকাল মঙ্গলবার নীলক্ষেত মোড় থেকে ক্যাম্পাসে ঢোকার সময় স্যার এ এফ রহমান হলের সামনে তাঁদের ওপর এই হামলা করা হয়। হামলায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালান বলে অভিযোগ করেছে ছাত্রদল।

বিজ্ঞাপন

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ অনুযায়ী গতকাল বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নীলক্ষেত মোড় দিয়ে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা বিভিন্ন দাবি নিয়ে স্মারকলিপি দিতে উপাচার্য কার্যালয়ে রওনা হন। ক্যাম্পাসে ঢোকার পথে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাঁদের বাধা দেন। এক পর্যায়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এ এফ রহমান হল থেকে লাঠি, স্টাম্প ও রড নিয়ে হামলা করেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। এ সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা পিছু হটে নীলক্ষেত মোড়ে গিয়ে ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়লে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা নীলক্ষেত মোড়ে কিছুক্ষণ অবস্থান নেন।   স্যার এ এফ রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘যে ছাত্রসংগঠনের উচ্চপদস্থ নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে, তাদের ক্যাম্পাসে ঢুকতে দেওয়া হবে না। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সেটাকে শক্তহাতে দমন করবে। ’

ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টার আগে ছাত্রদলের ৩০ থেকে ৩৫ জন নেতাকর্মী নীলক্ষেত মোড়ে অবস্থান নেন। সেখানে ছাত্রদল ঢাবি শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফারহান আরিফ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংক্রান্ত দাবি আদায়ে ভিসি স্যারের কাছে যাচ্ছি। আমরা এখানে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করতে আসিনি। আমরা মিষ্টি আর ফুল নিয়ে এসেছি। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের কার্যক্রম শেষ করতে চাই। ’

এদিকে হামলার ঘটনার পর গতকাল সন্ধ্যায় নয়াপল্টনে সংবাদ সম্মেলন করে ছাত্রদল। এতে সংগঠনটির সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ হামলার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন। তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে সময় চাইলে ভিসি ও প্রক্টর আমাদের নির্ধারিত সময় বেঁধে দেন। এর পরে মিডিয়ার মাধ্যমে আমরা ছাত্রলীগের কর্মসূচির বিষয়টি জানতে পারলে প্রক্টরকে এ বিষয়ে জানানো হয়। তখন তিনি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি যাদের পদায়ন হয়েছে তাদের যেতে বলেন এবং পূর্ণ নিরাপত্তার আশ্বাস দেন। আমরা স্যারের কথায় নির্ভর করে ক্যাম্পাসে গেলে মারধরের শিকার হই। কিন্তু প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। ’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন আচরণে উপাচার্য ও প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি করেন শ্রাবণ। এ ছাড়া এই ঘটনার প্রতিবাদে আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় নয়াপল্টনে বিএনপির পার্টি অফিসের সামনে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে একক ছাত্রসমাবেশের ঘোষণা দেন তিনি।

ছাত্রদলের সংবাদ সম্মেলন থেকে গুরুতর আহতদের পরিচয় তুলে ধরা হয়। তাঁরা হলেন ঢাবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি খোরশেদ আলম সোহেল, সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল আমিনুল, মাসুম বিল্লাহ, আরিফুর রহমান, নাছির উদ্দীন শাওন, রাজু আহমেদ, সুপ্রিয় দাশ শান্ত, নাজমুস সাকিব, সহসাধারণ সম্পাদক মুন্সি সোহাগ, প্রচার সম্পাদক ইমাম আল নাসের মিশুক, আন্তর্জাতিক সম্পাদক জসিম খান, বিজয় একাত্তর হলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি সাইফ খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকিব জাভেদ রাফি এবং কবি জসীমউদ্দীন হলের কর্মী জোসেফ আল জুবায়ের।

ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘ছাত্রদলের সংঘর্ষের ঘটনায় ছাত্রলীগ কোনো দায়ভার বহন করবে না। আজ ক্যাম্পাসে যেটি ঘটেছে সেটি ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের বহিঃপ্রকাশ। ছাত্রদলের রাজনীতি মানেই সাংগঠনিকভাবে সন্ত্রাসের চর্চা করা। তাদের কমিটি নিয়ে পক্ষ বিপক্ষের যে কোন্দল চলছে আজ সেটিরই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। ’

এদিকে নিরাপত্তা ইস্যুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ কে এম গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘ছাত্রদল উপাচার্যের সাথে দেখা করতে সময় চেয়েছিল, তা দেওয়া হয়েছিল। একই সময়ে দুটি সংগঠনই অবস্থান গ্রহণ করেছিল এবং ক্যাম্পাসের পরিবেশ স্বাভাবিক ছিল। এর মধ্যে আমরা হঠাৎ তথ্য পাই, নীলক্ষেতে একটা ঝামেলা হয়েছে। আমরা ওখানে দ্রুত যাই এবং কী হয়েছে তা জানার চেষ্টা করি। বর্তমানে আমরা ওখানে কী হয়েছিল, সেটি জানার জন্য একটি প্রতিবেদন তৈরি করছি। ’

এদিকে ওই হামলার প্রায় ১৫ মিনিট আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ শিক্ষার্থীদের নানা সংকট নিরসনে উপাচার্য বরাবর ৩০ দফা দাবিতে স্মারকলিপি দেয়।

 



সাতদিনের সেরা