kalerkantho

শুক্রবার। ৩১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ মে ২০২১। ০২ শাওয়াল ১৪৪২

ছোট্ট সীমানায় বড় অর্জনের স্বপ্নে বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

১৯ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ছোট্ট সীমানায় বড় অর্জনের স্বপ্নে বাংলাদেশ

ছবির মতো ছোট্ট সুন্দর মাঠ ডানেডিনের ইউনিভার্সিটি ওভাল। চারদিকে সবুজের বেষ্টনী দেওয়া ক্রিকেট মাঠের সীমানাও কোথাও কোথাও এমন ছোট যে এখানে বিশেষ করে সীমিত ওভারের ম্যাচে ছক্কার মহোৎসব দেখার মানসিক প্রস্তুতি থাকে কমবেশি সবারই। ছোট্ট সেই সীমানার ভেতরই শনিবার বড় অর্জনের স্বপ্নে নামছে বাংলাদেশ।

সেই স্বপ্ন অধরা সাফল্যের নাগাল পাওয়ার। এর আগে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে তাদের বিপক্ষে ২৬টি ম্যাচ খেলা হয়ে গেছে বাংলাদেশের। কিন্তু পরম আরাধ্য জয় ধরা দেয়নি একবারও। ‘প্রথম জয়’ তাই আপাতত বাংলাদেশ শিবিরের কাছে বড় অর্জনের প্রতিশব্দই হয়ে থাকছে। এবার সফরে যাওয়ার আগে থেকেই এর জন্য যে আকুতি শোনা গেছে, তা তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরুর আগে যেন আরো উচ্চকিত। গতকাল বিকেলে ডানেডিন থেকে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে

 যোগ দেওয়া ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবালের কণ্ঠে সেটিই ধরা দিল, ‘আমার মনে হয়, এই দলের মধ্যে সেই বিশ্বাসটা আছে যে তারা কিছু করতে চায়। এখানে ভালো করার যে লক্ষ্য আমাদের, প্রথম ম্যাচ থেকেই সেটি পূরণ করার চেষ্টা থাকবে।’

প্রথম ম্যাচ শুরু শনিবার ভোর ৪টায়। সেদিনের সংবাদপত্র পাঠকের হাতে পৌঁছাতে পৌঁছাতে ম্যাচের অনেকটা হয়েও যাবে। তাই নিউজিল্যান্ডে ম্যাচ মানেই ‘প্রিভিউ’র জন্য ভিন্ন ব্যবস্থা। ম্যাচের এক দিন আগেই সংবাদ সম্মেলনের ব্যবস্থা। মহামারির সময়ে নিউজিল্যান্ডও এবার সফরকারী দেশের সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার না রাখায় বর্তমান বাস্তবতায় যা আরো জরুরিও। একই দিন ডানেডিনে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন ছিল হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গোরও। যেখানে তাঁকেও বলতে শোনা গেছে, এই সফরে আগের যেকোনো বাংলাদেশ দলকেই ছাড়িয়ে যাওয়ার লক্ষ্যের কথা, ‘বাংলাদেশের কোনো দল আগে যা করতে পারেনি, আমাদের জন্য তা করার দারুণ সুযোগ এবার। আমরা সবাই বিষয়টি নিয়ে রোমাঞ্চিত। বাংলাদেশ দলের সঙ্গে নিউজিল্যান্ডে এটি আমার প্রথম সফর। এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে এসেছি। জানি, এখানে কাজটি কতটা কঠিন! তবে তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য এটি বড় সুযোগ।’

দেশে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে টেস্ট সিরিজে বিধ্বস্ত হয়ে আসা দলের পক্ষে বিরুদ্ধ কন্ডিশনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে ভালো কিছু করার বড় সুযোগ দেখছেন কিভাবে—এই দক্ষিণ আফ্রিকান কোচ দিয়েছেন এর ব্যাখ্যাও, ‘এ মুহূর্তে ৫০ ওভারের ক্রিকেটেই আমরা সবচেয়ে শক্তিশালী। বিশ্বকাপে দলের পারফরম্যান্সের দিকে যদি তাকান, ক্রিকেটারদের গড়ের দিকে খেয়াল করলে দেখবেন ওয়ানডেতে বেশ ভালো পরিসংখ্যান আমাদের। এটিই আমাদের সবচেয়ে বেশি শক্তির জায়গা।’

পরিবর্তিত সূচিতে প্রস্তুতিও জমাট হওয়ায় তাঁর শিষ্যরা পেশি ফুলিয়ে তৈরি বলেও জানালেন ডমিঙ্গো, ‘প্রথম যে সূচিটা হয়েছিল, তাতে ক্রাইস্টচার্চে কোয়ারেন্টিন শেষ হওয়ার তিন দিন পরই প্রথম ওয়ানডে খেলতে হতো। পরে সূচি বদলানো হয়েছে। ক্রাইস্টচার্চে ব্যক্তিগত অনুশীলন শেষে কুইন্সটাউনে দারুণ একটি সপ্তাহ কাটিয়েছি আমরা। প্রস্তুতিও তাতে নিখুঁত হয়েছে।’ সূচি বদলানোয় আরো ভালোভাবে তৈরি হতে পারার প্রসঙ্গ এলো তামিমের কথায়ও, ‘সিরিজ খারাপ বা ভালো যাক, এই কথা আপনি আমাদের কাছ থেকে শুনবেন না যে আমরা প্রস্তুত ছিলাম না বা পর্যাপ্ত সময় পাইনি। আমরা খুব ভালো প্রস্তুতিই নিয়েছি। এখন মাঠে নেমে প্রয়োগ করতে হবে।’

পুরনো ছক বদলে নতুন কৌশলেই সাফল্য বের করার চিন্তা অধিনায়কের, ‘আমাদের সব কিছুতেই ইতিবাচক থাকতে হবে, যা-ই করি না কেন। যেহেতু আমাদের অতীত রেকর্ড ভালো নয় এখানে, সেহেতু ভিন্নভাবে কাজ করতে হবে, ভিন্নভাবে ভাবতে হবে।’ সেই ভাবনায় ডানেডিনের ছোট্ট মাঠও থাকছে। এই মাঠের সাম্প্রতিক অতীত প্রচুর রান দেখেছে। ডমিঙ্গো আগ বাড়িয়ে এখানে হওয়া ঘরোয়া ক্রিকেটের খোঁজখবর নিয়েও অভিন্ন কিছু পাননি, ‘প্রচুর রান হবে। নিউজিল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটেরও খোঁজখবর রাখছিলাম আমি। এই মাঠের গড় রান ৩০৭-এর মতো। কয়েকটি দিকের বাউন্ডারি বেশ ছোটও, ৬৫ মিটারের মতো। মনে হচ্ছে, বেশ রান হবে এখানে।’ ছোট্ট সীমানার মধ্যে বড় অর্জনের স্বপ্নে তাই বোলারদের মার খেতে দেখার মানসিক প্রস্তুতিও আছে ডমিঙ্গোর।

নিশ্চয়ই শিষ্যদের পাল্টা মার দেওয়ার সক্ষমতায়ও আস্থা রেখেছেন তিনি। না হলে অতীতের যেকোনো বাংলাদেশ দলকে ছাড়িয়ে যাওয়ার লক্ষ্যের কথা বলবেন কেন!



সাতদিনের সেরা