kalerkantho

বুধবার । ১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ এপ্রিল ২০২১। ১ রমজান ১৪৪২

সাক্ষাৎকার : কমোডর গোলাম সাদেক চেয়ারম্যান, বিআইডাব্লিউটিএ

বাজেটের অভাবে নিয়মিত ড্রেজিং চালানো যায় না

১ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাজেটের অভাবে নিয়মিত ড্রেজিং চালানো যায় না

পানিপ্রবাহ বাড়িয়ে ঢাকার চারপাশের নদ-নদীকে আরো জীবন্ত করতে কাজ করছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার কর্মসূচির আওতায় এই কাজ এগিয়ে চললেও নানা সীমাবদ্ধতায় প্রত্যাশিত গতি পাচ্ছে না। চারটি মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে চলমান এই কাজের অন্যতম বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডাব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান কমোডর গোলাম সাদেক একান্ত সাক্ষাৎকারে কালের কণ্ঠ’র কাছে তুলে ধরেছেন নদ-নদীর প্রবাহ বাড়ানো কর্মকাণ্ডের নানা দিক। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তৌফিক মারুফ

 

কালের কণ্ঠ : ঢাকার চারপাশে নদ-নদীর প্রবাহ বাড়াতে কিভাবে কাজ করছেন?

বিআইডাব্লিউটিএ চেয়ারম্যান : মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারভিত্তিক মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে ধাপে ধাপে কাজগুলো হচ্ছে। শুধু আমরাই নই, চারটি মন্ত্রণালয়ের সম্মিলিত কাজ এটি। এই কর্মযজ্ঞের নেতৃত্বে রয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। নাব্যতা ঠিক রাখা, দূষণ ও দখল বন্ধ করে নদীর প্রাণ ফিরিয়ে দেওয়াই এ পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য। পরিকল্পনার আওতায় ভাগে ভাগে প্রকল্প অনুসারে নদীতীরের জায়গা দখলমুক্ত করার কাজ চলছে। অনেক জায়গায় ওয়াকওয়ে হয়েছে, অনেক জায়গায় ওয়াকওয়ের কাজ চলছে। কোথাও কোথাও ইকো পার্ক হয়েছে, আরো ইকো পার্কের কাজ চলছে। বনায়নও হচ্ছে।

 

কালের কণ্ঠ : পানিপ্রবাহ বাড়াতে তো নাব্যতাও প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে কী পদক্ষেপ আছে?

বিআইডাব্লিউটিএ চেয়ারম্যান : নাব্যতা ফেরানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে বাজেট। পর্যাপ্ত বাজেট না পাওয়ায় পরিকল্পনা অনুসারে কাজে গতি আসছে না। বাজেট চাইলেই অনেক সময় আমাদের প্রতিষ্ঠানের তহবিল থেকে খরচ করতে বলা হয়। কিন্তু ড্রেজিং হচ্ছে অনেক ব্যয়বহুল কাজ। এত ব্যয় সামাল দিয়ে ড্রেজিং চালু রাখা সম্ভব না। আর আমরা তো শুধু ঢাকার চারপাশের নদ-নদী নিয়েই কাজ করছি না। সারা দেশেই এখন আগের তুলনায় ড্রেজিংয়ের চাহিদা অনেক বেড়ে গেছে। সব এলাকার মানুষই যার যার এলাকার নৌপথের নাব্যতা ঠিক রাখতে আমাদের কাছে ছুটে আসে ড্রেজিংয়ের জন্য। বাজেট না পেলে এত চাহিদা পূরণ করা সম্ভব না। তবু আমরা ঢাকার চারদিকের নদ-নদীর নাব্যতা রক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে চাই।

 

কালের কণ্ঠ : নদ-নদীর দূষণ ও দখলরোধে কিছুদিন তৎপরতা দেখা যায়। পরে আবার থেমেও যায়। এমন হয় কেন?

বিআইডাব্লিউটিএ চেয়ারম্যান : আমাদের আন্তরিকতার কোনো অভাব নেই। কিন্তু ওই যে আগে বললাম—কেবল আন্তরিকতা থাকলেই তো হবে না। জনবল আর বাজেট দরকার। বাজেটের সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি আমাদের জনবল সংকটও অনেক। প্রয়োজনমতো জনবল না পেলে কাজ সারা বছর অব্যাহত রাখব কিভাবে? তার পরও এতটা সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়েই আমরা অনেক অবৈধ দখলদার উচ্ছেদে সক্ষম হয়েছি। এ ছাড়া দূষণরোধে অন্যান্য সেক্টরেরও সহায়তা ও জনসচেতনতা দরকার।

 

কালের কণ্ঠ : দূষণরোধে তো এরই মধ্যে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। সেগুলোর সুফল কি পাওয়া গেছে?

বিআইডাব্লিউটিএ চেয়ারম্যান : কিছুটা সুফল পেলেও পুরোপুরি সুফল পাওয়া যায়নি। এখনো নদীতে প্রতিদিন বিভিন্ন রকম বিপুল পরিমাণ বিষাক্ত শিল্পবর্জ্য ফেলা হচ্ছে। ইটিপির (তরল রাসায়নিক বর্জ্য শোধনাগার) কথা বলা হলেও সেগুলো কার্যকর হচ্ছে না। অনেক প্রতিষ্ঠান ইটিপি বানিয়ে রাখলেও তা ব্যবহার হচ্ছে না। এ ছাড়া ঢাকা মহানগরীর মধ্য থেকে যে স্যুয়ারেজ লাইনগুলো নদীতে মিশেছে সেগুলোও বন্ধ করা যাচ্ছে না। এসব ক্ষেত্রে আমরা সিটি করপোরেশনের কাছে সব সময়ই সহায়তা চাই। এ ছাড়া নগরবাসীরও সচেতনতা দরকার আছে। অন্যদিকে বিভিন্ন যাত্রীবাহী নৌযানের যাত্রীরা নানা ধরনের ক্ষতিকর বর্জ্য নদীতে ফেলছে, এটাও বন্ধ করা দরকার।

 

কালের কণ্ঠ : ঢাকা মহানগরীর ভেতর যেসব খাল রয়েছে সেগুলো কিভাবে চারপাশের নদী সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে?

বিআইডাব্লিউটিএ চেয়ারম্যান : অবশ্যই বড় ভূমিকা রাখতে পারে। ঢাকার ভেতরকার খালগুলো যদি সংস্কার করে নদীর সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়া যায় তবে খালগুলোও প্রাণ ফিরে পাবে, আবার নদীর পানি প্রবাহেও গতিসঞ্চার হবে। এটা দূষণরোধেও সহায়ক হবে। মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও উপকার হবে।

 

কালের কণ্ঠ : ঢাকা মহানগরীর চারদিকের বৃত্তাকার নৌপথ চালুর বিষয়টি কী অবস্থায় আছে?

বিআইডাব্লিউটিএ চেয়ারম্যান : সেটা নিয়েও কাজ অব্যাহত রয়েছে। নাব্যতা ফিরেয়ে আনার পাশাপাশি কয়েকটি সেতু সরিয়ে ফেলা বা সংস্কার করতে হবে। যার মাধ্যমে নৌযান চলাচল সহজ করা যাবে।

মন্তব্য