kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ১৯ মে ২০২২ । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩  

সিনিয়র সচিব মহিবুল হকের অবসর

একজন চৌকস কর্মকর্তার বিদায়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সিনিয়র সচিব মহিবুল হকের অবসর

সরকারি কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ পদে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন শেষে অবসর নিয়েছেন মহিবুল হক। তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মহিবুল হক এই মন্ত্রণালয়ের ২৯তম সচিব ছিলেন। নিয়মিত চাকরির পাশাপাশি দক্ষ কর্মকর্তা হিসেবে একই মন্ত্রণালয়ে প্রায় চার বছর সচিব হিসেবে কাজ করেছেন।

বিজ্ঞাপন

এর আগে এই মন্ত্রণালয়ে টানা এত দিন কেউ সচিব ছিলেন না। গত মঙ্গলবার তিনি অবসরে যান। ১৯৮৮ সালে চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন তিনি।

মহিবুল হক ২০১৮ সালের ১৬ এপ্রিল বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্ব নেন। এর আগে মাঠ প্রশাসন থেকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে কাজ করার সময় সর্বোচ্চ পেশাদারির পরিচয় দিয়েছেন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কাজ করার সময় সাধারণ মানুষের কাছে শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়ার স্বীকৃতি হিসেবে স্বর্ণপদক পান। চাকরির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন ১৯৮৫ ব্যাচের মেধাবী এই কর্মকর্তা। যখন যে পদে থেকেছেন সেখান থেকে জনসেবার দৃষ্টান্ত তৈরি করে সামনে এগিয়ে গেছেন। তাঁর দৃঢ় সিদ্ধান্তের কারণে অনেকে অখুশি হলেও নৈতিক অবস্থান থেকে পিছপা হননি তিনি। এমন অবস্থানের কারণে প্রশাসনে জাঁদরেল কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন মহিবুল হক।

প্রশাসন ব্যাচের কর্মকর্তাদের সচিব হওয়াই বড় টার্গেট থাকে। সচিব হওয়ার আগে আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদ থাকে, যেগুলোতে পদায়ন পেতে প্রশাসন ক্যাডারের চৌকস কর্মকর্তারা চেষ্টা করেন। সর্বগুণে গুনান্বিত না হলে ওই পদগুলোতে পদায়ন পাওয়া কঠিন হয়। এই পদগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকা জেলার ডিসি। রাজধানী শহরের ডেপুটি কমিশনারের (ডিসি) দায়িত্ব পালন একজন অফিসারের অন্যতম সম্মানজনক বিষয় হিসেবে পরিগণিত। এ ছাড়া জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রেষণ অনুবিভাগের প্রধান হওয়াও অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদ। এখান থেকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সব সরকারি অফিসারের নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলির মতো বিষয় নিয়ন্ত্রিত হয়। মহিবুল হক এই পদগুলোতে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেছেন। এ সময় তাঁর পেশাদারি আচরণের কারণে অনেক কাছের মানুষের বিরাগভাজন হয়েছেন। কিন্তু পেশাদারির জায়গায় কোনো ছাড় দেননি।

সচিবালয়ে একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মহিবুল হক শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন প্রথম সরকারের সময় তৎকালীন বাণিজ্যমন্ত্রী আব্দুল জলিলের এপিএস ছিলেন। এ কারণে পরবর্তী বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে মহিবুল হক ও তাঁর স্ত্রী সৈয়দা আফরোজা বেগমকে একাধিকবার পদোন্নতিবঞ্চিত করা হয়েছে। কিন্তু মহিবুল হক নীতিতে অটল ছিলেন। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তাঁর দক্ষতার সুবিচার হয়। এর পর থেকে তাঁকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। নতুন সরকারের আমলে প্রথমেই যশোরের ডিসি হিসেবে দায়িত্ব পান। পরের বছর ২০১০ সালে ঢাকার ডিসি হিসেবে প্রাইজ পোস্টিং নিয়ে আসেন। এরপর তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন শেষে বিমান মন্ত্রণালয়ে যোগ দেন। এখানে যোগ দেওয়ার সময় যে অবস্থা ছিল, তা থেকে বিমানকে অনেকটা টেনে তুলতে পেরেছেন। তবে করোনার প্রকোপের কারণে তাঁর সময়ে নেওয়া কিছু উদ্যোগের পরিণত ফল দেখতে পারেননি মহিবুল হক। তবে তাঁর সময়ে বিমান লাভের মুখ দেখেছে। মহিবুল হকের সততা, দক্ষতা ও আন্তরিকতার জন্যই এটা সম্ভব হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। মহিবুল হকের স্ত্রী আফরোজা বেগমও বিসিএস অ্যাডমিন ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা। তাঁদের একমাত্র কন্যাসন্তান যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করছেন।



সাতদিনের সেরা