kalerkantho

রবিবার । ১০ মাঘ ১৪২৭। ২৪ জানুয়ারি ২০২১। ১০ জমাদিউস সানি ১৪৪২

ব্লকের দাম কম টেকসই, সুদৃশ্য

ব্যাপক প্রচারের তাগিদ

শাখাওয়াত হোসাইন   

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ব্লকের দাম কম টেকসই, সুদৃশ্য

ইটের পরিবর্তে ব্লক দিয়ে বাড়ি তৈরিতে প্রায় ৩০ শতাংশ খরচ কমানো সম্ভব। বাড়ির স্থায়িত্ব বেশি হয়, দেখতেও হয় সুন্দর। এ ছাড়া ব্লকে তৈরি বাড়ি গ্রীষ্মকালে ঠাণ্ডা এবং শীতকালে গরম থাকে। পরিবেশের কোনো ক্ষতিও হয় না ব্লক তৈরিতে। এত উপকারী নির্মাণসামগ্রী হওয়ার পরও ব্লক ব্যবহারে আগ্রহ কম নির্মাণকারীদের।

জানা গেছে, বেসরকারি উদ্যোগে বাংলাদেশে ব্লক তৈরি করছে ৩০টির বেশি প্রতিষ্ঠান। কনকর্ড গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ব্লক কারখানা তৈরি করে ২০০১ সালে। এ ছাড়া সরকারের হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এইচবিআরআই) আশির দশক থেকেই ব্লক নিয়ে কাজ করছে। বর্তমানে শুধু রাজধানীতেই ২১টির বেশি ব্লক তৈরির প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ ছাড়া এইচবিআরআইও বেশ কয়েক ধরনের ব্লক বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করছে। ঢাকার বাইরে মুন্সীগঞ্জ, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ ও পিরোজপুরে ১০টির মতো ব্লক কারখানা রয়েছে। বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান সিএসইবি, সিএসইবি ইন্টার লকিং, স্যান্ড সিমেন্ট হলো ব্লক, থার্মার ব্লক, স্যান্ডউইচ প্যানেল ও ফেরোসিমেন্ট চ্যানেলের মতো আধুনিক ব্লক তৈরি করছে।

এ ছাড়া হালকা ওজনের সিএলসি ব্লক, কংক্রিট কাভার ব্লক, ইকো ব্লক, পলি কংক্রিট ব্লক, পেভমেন্ট ব্লক, রুফ টাইলসের মতো ব্লকও তৈরি হচ্ছে দেশে। এসব ব্লক দিয়ে তৈরি বাড়ি বা স্থাপনায় ব্যয় কম, টেকসই এবং সনাতন ইটের তুলনায় দেখতেও সুন্দর হয় বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

মুন্সীগঞ্জের টাইগার ইকো ব্রিকস ফ্যাক্টরির স্বত্বাধিকারী তৌফিকুল ইসলাম শরীফ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সাড়ে চারটা ইটের সমান একটি ব্লক বিক্রি হতো ৪০ টাকায়। কিন্তু এখন আমি তা ২৫-৩০ টাকার মধ্যে বিক্রি করতে পারছি। দামে সস্তা এবং পরিবেশসম্মত হওয়ার পরও এখনো সচেতনতার অভাবে ব্লক ব্যবহার করতে চায় না অনেকে। ঢাকায় সচেতনতা বাড়লেও জেলা শহরগুলোতে আগের প্রবণতাই বেশি।’

রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান হাসান অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেডের চেয়ারম্যান নিয়ামুল হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ব্লকের ওজন আরেকটু কমাতে পারলে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার বাড়বে। এ ছাড়া ব্লকে তৈরি বাড়ির দেয়ালে পেরেক বা অন্য কোনো কিছু ঢোকানো যায় না। আরেকটি সমস্যা হলো, সাধারণ মানুষের ব্লকে আগ্রহ এখনো কম।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্লকে বাড়ি তৈরি করলে খরচ প্রায় ৩০ শতাংশ কমে যায়। থার্মাল বা অন্যান্য ব্লক দেয়ালে ব্যবহারের ফলে তাপ ও শব্দ নিরোধক হিসেবে কাজ করে। এ ছাড়া ইটের তৈরি বাড়ির তুলনায় ওজনেও হয় কম। একটি ইট কিনতে যেখানে ব্যয় হয় গড়ে ১০ টাকা, সেখানে সাড়ে চারটি ইটের সমান একটি ব্লক কেনা যায় ৩০ টাকায়। এইচবিআরআই চত্বরে দুটি ভবন, শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ গ্রাম উন্নয়ন একাডেমির ছয়টি ছয়তলা ভবন তৈরি হচ্ছে ব্লক দিয়ে। এ ছাড়া বেসরকারি প্রতিষ্ঠান শতাধিক ভবন তৈরি করেছে রাজধানী ঢাকায়। কিশোরগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, পিরোজপুরসহ অন্যান্য জেলা শহরেও ব্লক দিয়ে ভবন তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। শুরুর দিকে ব্লক ব্যবহারে একেবারে অনাগ্রহ থাকলেও এখন মানুষের আগ্রহ বাড়ছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।

এ ছাড়া প্রশিক্ষণ নিয়ে ব্লক ব্যবসা শুরু করার জন্য দেশের নানা প্রান্ত থেকে উদ্যোক্তারা এইচবিআরআইয়ে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। ব্লক ব্যবহারে উৎসাহিত করতে সভা-সেমিনারের আয়োজন করছে সংস্থাটি। ঢাকার বাইরেও বেশ কয়েকটি কর্মসূচি করেছে এইচবিআরআই।

গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির প্রিন্সিপাল রিসার্চ অফিসার মো. আকতার হোসেন সরকার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ব্লক দিয়ে বাড়ি বানালে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত খরচ কমানো সম্ভব। ব্লকে তৈরি বাড়ির খরচ হিসাব করে আমরা তার প্রমাণও পেয়েছি। শুরুর দিকে ব্লকে আগ্রহ একেবারেই ছিল না। তবে এখন আগ্রহ বেশ কিছুটা বাড়ছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তাদেরও সচেতনতা বাড়াতে কাজ করতে হবে।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা