kalerkantho

শনিবার । ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৬ জুন ২০২০। ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

সরকারের আপাতত লক্ষ্য

দিনে ৬ হাজার রোগীর চিকিৎসাব্যবস্থা

► প্রতি ৫ জন রোগীর জন্য ২৪ ঘণ্টায় ৬ জন চিকিৎসক ও ৬ জন নার্স
► প্রতি ১০ জন রোগীর জন্য দিনে ৬ জন করে পরিচ্ছন্নতাকর্মী
► মোট পিপিইর চাহিদা ১১ লাখ

তৌফিক মারুফ   

৮ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দিনে ৬ হাজার রোগীর চিকিৎসাব্যবস্থা

বৈশ্বিক মহামারির পরিস্থিতিতে একেকটি দেশ একেকভাবে পরিস্থিতি মোকাবেলায় নানামুখী পদক্ষেপ নিচ্ছে। কোনো কোনো দেশ তাদের নেওয়া ব্যবস্থায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলেও ইউরোপ-আমেরিকার অনেক বড় দেশই এ ক্ষেত্রে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। এসব মাথায় রেখে বাংলাদেশও দিনে কতজন আক্রান্তকে হাসপাতালে নিয়ে  চিকিৎসার প্রয়োজন পড়তে পারে তার আনুমানিক ভিত্তি তৈরি করেছে। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছয় হাজার করোনায় আক্রান্ত রোগীকে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার আওতায় চিকিৎসা দেওয়ার মতো সক্ষমতা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে সরকার।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র অনুসারে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ছয় হাজার করোনায় আক্রান্ত রোগী ভর্তি করা যাবে এবং তাদের চিকিৎসা দেওয়া যাবে—এমন চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক সমন্বয় কমিটির একাধিক সভায় এ বিষয়ে বিভিন্ন আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হয়।

কভিড-১৯ স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে অন্যতম সমন্বয়কারী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা আপাতত ছয় হাজার রোগীকে প্রতিদিন চিকিৎসা দিতে পারব—এমন সরকারি ব্যবস্থাপনা প্রস্তুত করে ফেলেছি। এর বাইরে প্রয়োজনমতো আরো বেশ কিছু সরকারি-বেসরকারি ব্যবস্থাপনা প্রস্তুত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কভিড-১৯ সংক্রান্ত কার্যক্রমে যুক্ত সূত্রের তথ্য মতে, আপাতত গৃহীত পরিকল্পনা অনুসারে সারা দেশে ছয় হাজার আইসোলেশন বেড প্রস্তুত করার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রতি পাঁচজন আইসোলেশনের রোগীর জন্য দুজন চিকিৎসক ও দুজন নার্স থাকবে প্রতি শিফটে। সে হিসাবে দিনে তিন শিফটে পাঁচজন রোগীর জন্য প্রয়োজন হচ্ছে ছয়জন চিকিৎসক ও ছয়জন নার্স। প্রত্যেক চিকিৎসক ও নার্সের জন্য প্রতি শিফটে এক সেট করে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা উপকরণ (পিপিই) প্রয়োজন হবে। এই হিসাবে মাসে মোট প্রয়োজন হচ্ছে চার লাখ ৩২ হাজার পিপিই। এ ছাড়া মোট ছয় হাজার রোগীর মধ্যে ১০ শতাংশ হারে ৬০০ জনের জন্য আইসিইউ বেডের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই আইসিইউ বেডে দায়িত্ব পালনকারী চিকিৎসক ও নার্সের জন্য এক মাসে মোট ৬৪ হাজার ৮০০ পিপিই প্রয়োজন হবে বলেও পরিকল্পনায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ওই পরিকল্পনার আওতায় প্রতিদিন প্রতি ১০টি আইসোলেশন বেডের জন্য ছয়জন ক্লিনার ধরে তাদের জন্য প্রতি মাসে এক লাখ আট হাজার পিপিইর চাহিদা তৈরি করা হয়েছে। তথ্য অনুসারে সব মিলিয়ে মোট ১১ লাখ পিপিই প্রয়োজন পড়বে বলে একটি চাহিদাপত্র করে তা ধরে বিভিন্ন মাধ্যমে পিপিই সংগ্রহের কাজ চলছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেশে বিস্তার কী পর্যায়ের হবে, তা এখনো পুুরোপুরি বুঝে উঠতে পারছি না, যেটা অন্য কোনো দেশই পারেনি। তবু আমরা আমাদের সামর্থ্য অনুসারে আগাম অনেকগুলো চিকিৎসাসেবা সংক্রান্ত পদক্ষেপ নিয়ে রেখেছি। সে অনুসারে বিভিন্ন সামগ্রী সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনার কাজ চলছে। এ ক্ষেত্রে আজ (গতকাল ৭ এপ্রিল) পর্যন্ত যেমন আমরা পরীক্ষা সুবিধা বাড়িয়ে ১৬টি করেছি। আরো কয়েকটি প্রক্রিয়াধীন। অন্যদিকে প্রতিদিনই চিকিৎসক ও নার্সদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। গতকাল পর্যন্ত এক হাজার ৩৮৫ জন চিকিৎসক ও ৩৫৩ জন নার্সকে কভিড-১৯ চিকিৎসাসেবা বিষয়ে অনলাইনে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে আমরা প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও চিকিৎসাসামগ্রীর অনেকটাই প্রস্তুত করে ফেলেছি। আরো কাজ চলামান আছে।’

মহাপরিচালক বলেন, ‘এ পর্যন্ত ছয় লাখ ২৬ হাজার ৩৯৭টি পিপিই সংগ্রহ করে তার মধ্য থেকে চার লাখ ৬১ হাজার ৮৯৪টি বিতরণ করেছি। এখনো হাতে আছে এক লাখ ৬৪ হাজার। আরো সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় আছে। সেই সঙ্গে পরীক্ষা কিট সংগ্রহ করা হয়েছে ৯২ হাজার, বিতরণ হয়েছে ২১ হাজার, হাতে রয়ে গেছে ৭১ হাজার।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা