kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

রাসেলের রুদ্ররূপে রাজত্ব রাজশাহীর

মাসুদ পারভেজ   

১৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



রাসেলের রুদ্ররূপে রাজত্ব রাজশাহীর

খুলনা টাইগার্সকে ২১ রানে হারিয়ে বঙ্গবন্ধু বিপিএলের চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী রয়ালস। ফাইনাল শেষে শিরোপা নিয়ে আন্দ্রে রাসেলের দলের উল্লাস। ছবি : মীর ফরিদ

লড়াইয়ের শুরু যাঁর ব্যাটে, লড়াইয়ের শেষও তাঁর বলেই।

বিধ্বংসী ইনিংসে একা হাতে রাজশাহী রয়ালসকে শিরোপার চৌকাঠে নিয়ে আসা আন্দ্রে রাসেল ফাইনালেও দারুণ কার্যকর দুই ভূমিকাতেই। যা দেখে বোঝা মুশকিল হয়ে গেল যে আসরজুড়েই কোনো না কোনো চোট বয়ে বেড়িয়েছেন দলটির অধিনায়ক।

যদিও টস হেরে ব্যাটিং পাওয়া দলের মোহাম্মদ নওয়াজকে কখনো কখনো রাসেলের চেয়েও বেশি মারকুটে ব্যাটসম্যান বলে মনে হচ্ছিল। খুলনা টাইগার্সের বিপক্ষে এই পাকিস্তানির ব্যাট এমনই ঝলসে উঠেছিল। আবার এটিও ঠিক যে রাসেলের চেনা চেহারার ঝোড়ো ব্যাটিং যোগ না হলে লড়াইয়ের নিরাপদ পুঁজিও পায় না রাজশাহী।

১৭০ রানের সেই পুঁজি পাওয়ার পর শিরোপার লড়াই যখন শেষাঙ্কে গিয়ে উপস্থিত, তখনই আবার দৃশ্যপটে রীতিমতো ‘শো স্টপার’ হিসেবেই আবির্ভূত সেই রাসেল। ক্রমেই জয়ের সমীকরণ কঠিন হচ্ছিল, তাই বলে খুলনাও জয়ের আশা ছাড়ছিল না মুশফিকুর রহিম উইকেটে থাকায়। পুরো টুর্নামেন্টেই রানের ফুল ফুটিয়ে আসা খুলনা অধিনায়কের ‘হিরো’ হওয়ার সম্ভাবনাও একটু একটু করে ডানা মেলতে শুরু করেছে ততক্ষণে। সব মিলিয়ে উত্তেজনার তুঙ্গ ছোঁয়ার অপেক্ষায় বঙ্গবন্ধু বিপিএলের ফাইনাল।

এর মধ্যেই জমজমাট ফাইনালের প্রত্যাশার বেলুন চুপসে দিলেন রাসেল। দ্বিতীয় স্পেলে ফিরেই বোল্ড করে দিলেন মুশফিককে। রবি ফ্রাইলিংক তখনো ছিলেন, কিন্তু ব্যাট হাতে ঝড় তুলতে পারার সক্ষমতার জানান দিয়ে নয়। তাই মুশফিক বিদায় নিতেই আগাম শিরোপা উৎসব শুরু হয়ে গিয়েছিল রাজশাহীর। শেষ পর্যন্ত ২১ রানের জয়ে দ্বিতীয়বারের চেষ্টায় বিপিএল শিরোপা উঠল তাদের হাতে। ২০১৬-র বিপিএলে আরেক ক্যারিবীয় ড্যারেন সামির নেতৃত্বে তখনকার রাজশাহী কিংস ফাইনালে গেলেও ঢাকা ডায়নামাইটসের কাছে হারের বেদনায় বিলীন হয়েছিল।

আর এবার? কী আশ্চর্য! রাজশাহীকে শিরোপার সৌরভে সুরভিত করা রাসেল নেতৃত্বই দিলেন না শুধু, ব্যাটে-বলে পারফরম করে প্রথম সাফল্যের পথও দেখালেন। পথ দেখানো পারফরম করে আসা মুশফিকের জন্য ফাইনালটি ছিল লড়াইয়ের মধ্যে অনেক লড়াইয়েরও। এই যেমন জাতীয় দলের সতীর্থ তামিম ইকবালকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল তাঁর সামনে। ছাড়িয়ে গেলেনও। তামিমকে (৪৭৬ রান) পেছনে ফেলে বিপিএলের এক আসরে সবচেয়ে বেশি রান করা বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান বনে গেলেন। খুলনার দক্ষিণ আফ্রিকান সতীর্থ রাইলি রুশোর (৪৯৫ রান) সঙ্গেও লড়াই ছিল। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ স্কোরার হওয়ার পথেও ছিলেন। কিন্তু সেই লড়াইয়ে যে মুশফিককে (৪৯১ রান) পেছনেই রেখে দিলেন রাসেল।

লড়াইয়ের শেষও সেখানেই। রান তাড়ায় অবশ্য শুরুতেই খুলনাকে চেপে ধরেছিল রাজশাহী। স্কোরবোর্ডে কোনো রান জমা না হতেই পাকিস্তানি পেসার মোহাম্মদ ইরফান তুলে নেন আগের দুই ম্যাচে ১১৫ ও ৭৮ রানের দুটো হার না মানা ইনিংস খেলা নাজমুল হোসেন শান্তকে। এই আসরে ওপেনার হিসেবে দারুণ কিছু ইনিংস খেলা মেহেদী হাসান মিরাজও (২) আরেক পেসার আবু জায়েদের শিকার হন দলকে ১১ রানে রেখেই। সেখান থেকে রুশো (২৬ বলে ৩৭) ও শামসুর রহমান (৪৩ বলে ৫২) মিলে ৭৪ রানের পার্টনারশিপে বিপর্যয় সামাল দিয়ে উঠলেও লড়াইয়ে দলকে আরেকটু এগিয়ে দিতে পারলেন না। তাই একপর্যায়ে সব আশা গিয়ে ঠেকল মুশফিকের (১৫ বলে ২১) ব্যাটেই।

তেমনি রাজশাহীর লড়াইয়ের পুঁজি তুলে দেওয়ার আশাও গিয়ে ঠেকেছিল রাসেলের ব্যাটেই। তবে তাঁকে নিঃসঙ্গ হয়ে পড়তে হয়নি। লিটন কুমার দাস (২৮ বলে ২৫) ও শোয়েব মালিকদের (১৩ বলে ৯) টি-টোয়েন্টির চাহিদার সঙ্গে বেমানান ব্যাটিংয়ে একপর্যায়ে ইরফান শুক্কুরই (৩৫ বলে ৬ বাউন্ডারি ও দুই ছক্কায় ৫২ রান) যা রান করার করছিলেন। দ্বিতীয় স্পেলে মোহাম্মদ আমির তাঁকে ফেরানোর পর রানের বল্গা হরিণ ছোটানোর ক্ষেত্রে রাসেলের সঙ্গী হয়ে গেলেন নওয়াজও (২০ বলে ৬ বাউন্ডারি ও দুই ছক্কায় অপরাজিত ৪১ রান)। ফ্রাইলিংককে একই ওভারে মারলেন দুটো করে ছক্কা আর বাউন্ডারি।

৭ রানে শহীদুল ইসলামের বলে নাজমুল হোসেন শান্তর সৌজন্যে জীবন পাওয়া রাসেলও (১৬ বলে তিন ছক্কায় অপরাজিত ২৭) মারমুখী ব্যাটিংই করতে থাকলেন। আমিরের বলে মারলেন টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় ছক্কাও (১১৫ মিটার)। পঞ্চম উইকেটে নওয়াজ-রাসেলের অবিচ্ছিন্ন ৭১ রানের পার্টনারশিপও তাই মাত্র ৫.৪ ওভারে।

তাতে ওঠা ১৭০ রানও যাতে নিরাপদ থাকে, বল হাতে ৩২ রানে ২ উইকেট নিয়ে রাসেল অনেকটা পালন করেছেন সেই দায়িত্বও। ‘অনেকটা’ই কারণ এর একটি উইকেট যে মুশফিকের। সে জন্য ফাইনাল সেরা তো বটেই, আসরে ২২৫ রান করার পাশাপাশি ১৪ উইকেট নেওয়ায় টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কারও হলো না অন্য কারো।

ফাইনালে লড়াইয়ের শুরু আর শেষ যাঁর ব্যাটে, সেই রাসেলের হাতেই তো এমন দুটো পুরস্কার সবচেয়ে বেশি মানায়!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা