kalerkantho

রবিবার । ১০ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৫ জুলাই ২০২১। ১৪ জিলহজ ১৪৪২

সম্রাট অশোক

ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের প্রথম অধ্যায়ে সম্রাট অশোকের উল্লেখ আছে]

২০ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সম্রাট অশোক

অশোক ছিলেন (শাসনামল ২৬৯-২৩২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে) প্রথম কোনো পূর্বভারতীয় শাসক, যিনি উপমহাদেশের অনেকখানি জুড়ে তাঁর রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর সময়ে পুণ্ড্রবর্ধন (এখনকার বাংলাদেশের বগুড়া) মৌর্য সাম্রাজ্যের একটি প্রদেশ বা প্রশাসনিক বিভাগ ছিল। সম্ভবত বিন্দুসার অথবা তাঁর পুত্র ও উত্তরাধিকারী অশোক এ অঞ্চলকে মৌর্য সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করেন। ২৭৩-২৭২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে বিন্দুসারের মৃত্যুর পর রাজ্যের উত্তরাধিকার নিয়ে তাঁর পুত্রদের মধ্যে চার বছর যুদ্ধের পর ২৬৯-৬৮ খ্রিস্টপূর্বাব্দে রাজা হিসেবে অভিষিক্ত হন অশোক এবং ২৩২ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত রাজ্য শাসন করেন। পাটলীপুত্র (বর্তমান পাটনা বা এর কাছাকাছি কোনো স্থান) থেকে নিজের বিশাল সাম্রাজ্য শাসন করতেন সম্রাট অশোক।

নিজের শাসনের প্রথম পর্বে অশোক উপমহাদেশের প্রায় বেশির ভাগ অংশে তাঁর রাজ্যের বিস্তৃতি ঘটান; কিন্তু রক্তক্ষয়ী কলিঙ্গ যুদ্ধের পর অশোকের রাজনৈতিক ও নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে আমূল পরিবর্তন আসে। অশোকের প্রস্তর ও স্তম্ভলিপির মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে—কী করে কলিঙ্গ যুদ্ধের রক্তবন্যা তাঁকে একজন নীতিবান ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে। ওই সময় থেকেই তিনি জীবনের সর্বক্ষেত্রে বিশ্বশান্তি ও ন্যায়নিষ্ঠ শাসন প্রতিষ্ঠায় নিজেকে নিয়োজিত করেন।

প্রাচীন সাহিত্যে অশোককে মৌর্য রাজবংশের একজন নগণ্য শাসক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ১৮৩৭ সালে অশোকের বেশ কয়েকটি প্রস্তরলিপির পাঠোদ্ধার করে ইংরেজ পণ্ডিত, প্রাচ্যবিদ, পুরাতাত্ত্বিক ও বিশিষ্ট ভারতত্ত্ববিদ জেমস প্রিন্সেপ এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেন যে পুরাণ সাহিত্যে বর্ণিত সম্রাট অশোককে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল, তার চেয়ে অনেক বড় মাপের সম্রাট ছিলেন তিনি। প্রিন্সেপই প্রথম প্রকাশ করেন, অশোক নিজে বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেছিলেন এবং বৌদ্ধধর্ম প্রচারও করতেন। তিনি বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করার পর দেবনামপিয় পিয়দসি (পিয়দসি অর্থাৎ দেবতাদের প্রিয়জন) শীর্ষক ধর্ম-রাজকীয় উপাধি গ্রহণ করেন এবং জীবনের বাকি সময় নিজেকে শান্তি ও মানবজাতির কল্যাণের কাজে নিবেদিত করেন।

রিদওয়ান আক্রাম



সাতদিনের সেরা