kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৭ মাঘ ১৪২৭। ২১ জানুয়ারি ২০২১। ৭ জমাদিউস সানি ১৪৪২

সিঁদুর

৩ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সিঁদুর

[নবম-দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের পঞ্চম অধ্যায়ে ‘সিঁদুর’-এর কথা উল্লেখ আছে]

সিঁদুর লাল রঙের এক ধরনের পাউডার বা চূর্ণ। এটি সনাতন ধর্মে বিবাহিত নারীর প্রতীক।  বিবাহিত হিন্দু নারীরা তাঁদের কপালে ও সিঁথিতে এটি ব্যবহার করেন। হিন্দু সমাজে কনের কপালে ও সিঁথিতে সিঁদুর লাগিয়ে বিয়ে হয়। কন্যা সম্প্রদানের পর বর কর আঙুলে সিঁদুর নিয়ে কনের সিঁথিতে তিনবার লাগিয়ে দেন। এরপর মিলনের নিদর্শনস্বরূপ মালা বদল করেন।

অতি প্রাচীনকাল থেকে সিঁদুরের ব্যবহার হয়ে আসছে। স্বামীর দীর্ঘজীবন বয়ে আনে বলে বিবাহিত হিন্দু নারীরা সিঁদুর ব্যবহার করেন। এর লাল রং শক্তি ও ভালোবাসার প্রতীক। সনাতন ধর্ম মতে, বিবাহের সর্বশেষ শাস্ত্রীয় রীতি হলো বর (স্বামী) কনের (নববধূ) কপালে সিঁদুর লেপন। বিয়ের সময় কনেকে তাঁর স্বামী প্রথমবারের মতো সিঁদুর পরিয়ে দেন। তার পর থেকে হিন্দু মেয়েরা তাঁর স্বামীর জীবিত থাকা অবধি সিঁদুর পরেন।

সাঁওতাল সমাজেও সিঁদুর ব্যবহার করে বিয়ের রীতি আছে। সাধারণত বর তিনবার মাটিতে সিঁদুর ফেলে পূর্বদিকে মুখ করে সূর্যদেবকে সাক্ষী রেখে কনের সিঁথিতে তিনবার সিঁদুর লেপে দেন। তাঁরা বিশ্বাস করেন কোনো মেয়ের সিঁথিতে সিঁদুর দিতে পারা মানে হচ্ছে তাঁর ওপর অধিকার প্রতিষ্ঠিত হওয়া।

হিন্দু নারীদের প্রতিদিন স্নান করার পর দিনে অন্তত একবার তাঁর স্বামীকে স্মরণ করে সিঁথিতে সিঁদুর পরতে হয়। এই যে তাঁরা স্বামীকে ভালোবেসে, তাঁকে স্মরণ করে প্রতিদিন তাঁকে সিঁদুররূপে মাথায় তুলে রাখেন—এ বিষয়টিই একটি হিন্দু মেয়ের সংসারকে দীর্ঘস্থায়ী করে বলে হিন্দুরা মনে করে। বিধবাদের সিঁদুর ব্যবহার শাস্ত্রমতে নিষিদ্ধ।

হিন্দুদের পূজার অনুষ্ঠানে সিঁদুর ব্যবহৃত হয়। সিঁদুর খেলা পূজাসংশ্লিষ্ট একটি বাঙালি হিন্দু সংস্কার। প্রতিবছর দুর্গাপূজার বিজয়া দশমীর দিন দুর্গা প্রতিমাকে সিঁদুর দিয়ে রাঙিয়ে দেওয়ার পর হিন্দু নারীরা সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠে।

আদিবাসী সমাজে সৌভাগ্য ও বিজয়ের প্রতীক ছিল সিঁদুর। তারা কোনো দুঃসাহসিক কাজে প্রবৃত্ত হওয়ার আগে সাফল্য ও রক্ষাকবচ হিসেবে কপালে সিঁদুরের তিলক ব্যবহার করত। প্রাচীনকালে সিঁদুর কপালে লাগিয়ে বশীকরণ হতো। ঠোঁট লাল করার জন্য এ যুগের মেয়েদের লিপস্টিক দেওয়ার মতো করে তখনকার মেয়েরা সিঁদুর ব্যবহার করত।

পিন্টু রঞ্জন অর্ক

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা