kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ মাঘ ১৪২৮। ২০ জানুয়ারি ২০২২। ১৬ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

কাঠ পোড়ানো বন্ধ করুন

আইন মানছে না ইটভাটা

২ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেশের বেশির ভাগ ইটভাটা কোনো আইন মানে না, কোনো নিয়ম-কানুন মানে না। আইন অনুযায়ী, লোকালয় বা সংরক্ষিত বনাঞ্চলের তিন কিলোমিটারের মধ্যে কোনো ইটভাটা করা যায় না। বাস্তবে বনাঞ্চলের গা ঘেঁষে বা লোকালয়ের মধ্যে অনেক ইটভাটা পরিচালিত হতে দেখা যায়। ড্রাম চিমনির ব্যবহার নিষিদ্ধ হলেও এমন অসংখ্য চিমনি দেখা যায়। ইটভাটায় কাঠ পোড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু প্রায় কেউই তা মানছে না। গতকাল কালের কণ্ঠে প্রকাশিত দুটি পৃথক প্রতিবেদনে দেখা যায়, রাজবাড়ী ও মাদারীপুরে প্রায় শতভাগ ভাটায়ই দেদার কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। ভাটা মালিকরা জানিয়েছেন, গত এক বছরে টনপ্রতি কয়লার দাম ৯ হাজার থেকে বেড়ে ২৩-২৪ হাজার টাকা হয়েছে। এ কারণে কয়লা দিয়ে ইট পোড়ালে খরচ অনেক বেড়ে যায়। ইটের দামও অনেক বেশি হয়। অন্যদিকে যারা কাঠ দিয়ে ইট পোড়ায় তারা অনেক কম দামে ইট বিক্রি করতে পারে। তাই কয়লায় ইট পুড়িয়ে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে। তাহলে কি ইটভাটায় কাঠই পোড়ানো হবে?

সারা দেশেই ইট পোড়ানোর অবস্থা কমবেশি একই রকম। রাতের আঁধারে বনাঞ্চল উজাড় হয়ে যাচ্ছে। গ্রামের দরিদ্র মানুষ সামান্য নগদ অর্থ পেলেই ভাটায় গাছ বিক্রি করে দিচ্ছে। প্রতিদিন হাজার হাজার টন কাঠ পুড়িয়ে অঙ্গার করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এভাবে চলতে থাকলে কয়েক বছরের মধ্যে দেশ বৃক্ষশূন্য হয়ে পড়বে। কিন্তু আমাদের প্রশাসন বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী কোনো এক অজানা কারণে এসব দেখেও না দেখার ভান করে। তাহলে এত এত আইন করে লাভ কী? সাংবাদিকরা এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো ভাটায়ই কাঠ পোড়াতে দেওয়া হবে না। জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর, বন বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কি এসংক্রান্ত আইন বাস্তবায়নের জন্য নিজস্ব কোনো ব্যবস্থা নেই? তাঁরা কি সাংবাদিকদের ওপর ভিত্তি করেই দায়িত্ব পালন করেন? অভিযোগ আছে, কোনো ইটভাটাই প্রশাসনকে খুশি না করে কাঠ পোড়াতে পারে না।

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় বিগত কপ-২৬ সম্মেলনেও সবুজায়ন বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশও এ ব্যাপারে অঙ্গীকার করেছে। কিন্তু বাস্তবতা কি তার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ? নির্মাণসামগ্রী হিসেবে ইটের অনেক বিকল্প রয়েছে। ইট পোড়ানোরও অনেক উন্নত পদ্ধতি এসেছে। ইট পোড়াতে বাংলাদেশে অনেক দিন থেকেই গ্যাসের ব্যবহার হচ্ছে। প্রয়োজনে গ্যাসের ব্যবহার আরো বাড়াতে হবে। কিন্তু কোনোক্রমেই এভাবে বনাঞ্চল বা বৃক্ষসম্পদ ধ্বংস করা যাবে না। প্রশাসনকে এ ব্যাপারে আরো কঠোর হতে হবে।



সাতদিনের সেরা