kalerkantho

রবিবার । ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯। ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৭ রবিউস সানি                    

অর্থপাচার বড় সমস্যা

আর্থিক সুশাসন নিশ্চিত করুন

২২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাংলাদেশ থেকে প্রচুর অর্থ বিদেশে পাচার হয়। দেশি-বিদেশি গণমাধ্যম ও সংস্থার প্রচুর প্রতিবেদন রয়েছে এ বিষয়ে। বিদেশে অর্থপাচার দেশের অর্থনীতির অন্যতম সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের অভিমত, এটা বন্ধ হওয়া জরুরি। আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হলে বিনিয়োগ ও রাজস্ব আয়, দুটিই বাড়াতে হবে। বিপুল পরিমাণে অর্থপাচার হতে থাকলে তা সম্ভব হবে না।

জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা আংকটাডের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৪৭টি স্বল্পোন্নত (এলডিসি) দেশের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে অর্থপাচারের হার তুলনামূলকভাবে বেশি। ২০১৫ সালে যে পরিমাণ অর্থপাচার হয়েছে, তা ওই বছরের মোট রাজস্ব আয়ের ৩৬ শতাংশের সমান—পরিমাণে ৬৫ হাজার কোটি টাকা। প্রসঙ্গত, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এক লাখ ৮২ হাজার ২৪৪ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছিল।

বুধবার প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ গত এক দশকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সাফল্য দেখালেও রাজস্ব আদায়ের নিরিখে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকার নিচের দিকে রয়ে গেছে। কর খাত সংস্কারে পিছিয়ে আছে—২৯টি স্বল্পোন্নত দেশের মধ্যে ২৭তম। পিছিয়ে পড়ার বড় কারণ অর্থপাচার। রাজস্ব আদায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে না বাড়ায় বৈদেশিক ঋণের ওপর সরকারের নির্ভরতা বাড়ছে। প্রতিবেদনের পর্যালোচনায় সিপিডি বলেছে, বাংলাদেশ এরই মধ্যে নিম্ন আয়ের দেশ থেকে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। ২০২৪ সালে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার কথা রয়েছে। এর ফলে তিনটি প্রভাব পড়তে পারে—সাশ্রয়ী হারে বিদেশি অর্থ পাওয়া বন্ধ হবে, রপ্তানিতে বাজার-সুবিধা কমবে এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা কমবে। সম্ভাব্য এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় করণীয় বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।

অর্থনীতির কাঠামো শক্তিশালী করতে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে কর সংগ্রহের বিকল্প নেই। রাজস্ব আদায় না বাড়লে উন্নয়ন সহযোগীরা টাকা দিতে তেমন আগ্রহী হবে না। সামাজিক খাত ও পরিবেশকে গুরুত্ব দিতে হলেও রাজস্ব আয় বাড়াতে হবে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের যে প্রভাব পড়বে, তা মোকাবেলায় অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে। স্বল্পোন্নত দেশে উত্তরণ ঘটলে বাজার-সুবিধা (জিএসপি) বন্ধ হয়ে যাবে। প্রযুক্তি-সুবিধাও বন্ধ হবে। তখন করণীয় কী হবে তা নিয়ে ভাবতে হবে অবশ্যই।

বাংলাদেশ আর্থ-সামাজিক খাতে উন্নতি করলেও সুশাসন ও সুষ্ঠু আর্থিক ব্যবস্থাপনার অভাব রয়েছে। যার কারণে অর্থপাচার বড় সমস্যা হয়ে আছে। এটা বন্ধ না হলে রাজস্ব আয় কাম্য মাত্রায় বাড়বে না। আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় অর্থসংকটে পড়তে হবে।

অর্থপাচার বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে, আর্থিক সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা