kalerkantho

মঙ্গলবার । ২২ অক্টোবর ২০১৯। ৬ কাতির্ক ১৪২৬। ২২ সফর ১৪৪১              

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

৬৫ হাজার হিসাবরক্ষক নিয়োগ আসছে

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সৃষ্টি করা হচ্ছে ‘হিসাবরক্ষক’ পদ। সারা দেশে নিয়োগ পাবেন ৬৫ হাজার ৯৯ জন হিসাবরক্ষক। নিয়োগ পেতে চাইলে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। বিস্তারিত জানাচ্ছেন আরাফাত শাহরিয়ার ও এম এম মুজাহিদ উদ্দীন

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



 ৬৫ হাজার হিসাবরক্ষক

নিয়োগ আসছে

মডেল : সজল ও নিভৃত ছবি : ইয়ামিন মজুমদার

 

দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘হিসাবরক্ষক’ পদ সৃষ্টি করা হবে। সারা দেশে বর্তমানে ৬৫ হাজার ৯৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব স্কুলে একজন করে হিসাবরক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। এ হিসাবে সারা দেশে নিয়োগ পাবেন ৬৫ হাজার ৯৯ জন হিসাবরক্ষক।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব ধরনের হিসাব সংরক্ষণ, পরিচালনাসহ বিদ্যালয়ের দাপ্তরিক সব কাজ প্রধান শিক্ষককে দেখতে হয়। এ ছাড়া সরকারের নানা ধরনের নির্দেশনামূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার কারণে বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম তত্ত্বাবধান ও সমন্বয় সঠিকভাবে করতে পারছেন না প্রধান শিক্ষকরা। শুধু প্রধান শিক্ষক নন, সিনিয়র শিক্ষকদেরও এসব কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। শিক্ষকদের পাঠদানে আরো মনোনিবেশ করাতেই এ পদক্ষেপ। মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তর জানায়, পদ সৃজন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনসহ অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে খানিকটা সময় লাগবে। চলতি অর্থবছরে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হতে পারে। আবেদনের যোগ্যতা যেকোনো স্বীকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বাণিজ্যে স্নাতক চাওয়া হতে পারে।

 

নিয়োগ প্রক্রিয়া

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মো. গিয়াস উদ্দিন আহমেদ জানান, হিসাবরক্ষকের পদ সৃষ্টির নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অন্যান্য পদের মতো হিসাবরক্ষক পদেও লিখিত ও ভাইভার মাধ্যমে প্রার্থী বাছাই করা হতে পারে। বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, সাধারণ জ্ঞান প্রভৃতি বিষয়ে এমসিকিউ পদ্ধতিতে প্রশ্ন হতে পারে। বিগত সালের বিসিএস, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগসহ বিভিন্ন চাকরির নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন সমাধান করলে কাজে দেবে।

 

বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ

বাংলা সাহিত্যের প্রস্তুতির জন্য প্রাচীন যুগ, মধ্য যুগ, আধুনিক যুগের বিকাশ, সাহিত্যকর্ম ও রচয়িতা, উপজীব্য ও চরিত্র, পঙক্তি ও উদ্ধৃতি, ছদ্মনাম, উপাধি, পত্রিকা ও সাময়িকী প্রভৃতি বিষয়ে ভালো করে জানতে হবে। আর ব্যাকরণ অংশে ভাষা, বর্ণ ও ধ্বনি, শব্দ, সন্ধি, লিঙ্গ ও বচন, পদ প্রকরণ, কারক ও বিভক্তি, সমাস, প্রত্যয়, শুদ্ধ বানান, সমার্থক বা প্রতিশব্দ, বিপরীত শব্দ, উপসর্গ, দ্বিরুক্ত শব্দ, এককথায় প্রকাশ, বাগধারা, প্রবাদ-প্রবচন প্রভৃতি বিষয় থেকে প্রশ্ন আসতে পারে। ড. হুমায়ুন আজাদের লেখা লাল নীল দীপাবলি ও নবম-দশম শ্রেণির বোর্ড ব্যাকরণ বই থেকে প্রস্তুতি নেওয়া যেতে পারে।

 

ইংরেজি

Parts of Speech, Number, Article, Degree, Tense, Sentence, Voice, Narration, Appropriate Preposition, Fill in the Blanks, Correct Spelling, Correction, Synonyms and Antonyms, Phrases & Idioms and Word meaning, Translation প্রভৃতি বিষয় সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখতে হবে। এ বিষয়গুলো থেকে বেশি প্রশ্ন আসতে পারে। বাজারে প্রচলিত ভালো মানের একাধিক গ্রামার বই থেকে প্রস্তুতি নেওয়া যেতে পারে।

 

গণিত

গণিতে ৩টি অংশ : পাটিগণিত, বীজগণিত ও জ্যামিতি। পাটিগণিতে সংখ্যার ধারণা, ল.সা.গু ও গ.সা.গু, ভগ্নাংশ, সরলীকরণ, অনুপাত-সমানুপাত, গড়, ঐকিক নিয়ম, সময়, দূরত্ব ও গতিবেগ, শতকরা, লাভ-ক্ষতি, সুদকষা, ক্ষেত্রফল ও পরিমাপ প্রভৃতি আয়ত্তে আনতে হবে। বীজগণিতে বীজগণিতীয় সূত্রাবলি ও প্রয়োগ, উত্পাদকে বিশ্লেষণ, সূচক ও লগারিদম, সরল সমীকরণ ও প্রয়োগ, সেট বেশি বেশি চর্চা করা যেতে পারে। জ্যামিতির ক্ষেত্রে ত্রিভুজ, চতুর্ভুজ, বৃত্ত ভালো করে জানতে হবে। গণিতে ভালো করতে হলে নিয়মিত চর্চার বিকল্প নেই। পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণির গণিত বই থেকে প্রস্তুতি নিলে ভালো করা যাবে। হিসাববিজ্ঞান থেকেও কিছু প্রশ্ন আসতে পারে।

 

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

পদার্থবিজ্ঞান, মহাকাশ বিজ্ঞান, পরিবেশ বিজ্ঞান, কম্পিউটার বিজ্ঞান, রসায়ন, উদ্ভিদবিজ্ঞান, প্রাণিবিজ্ঞান, মানবদেহ, রোগ ও চিকিত্সা, খাদ্য ও পুষ্টি, ভূগোল, আবিষ্কার-আবিষ্কারক ও বৈজ্ঞানিক যন্ত্রের ব্যবহার ভালোভাবে জানতে হবে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে প্রস্তুতির জন্য সহায়ক বই হিসেবে অষ্টম ও নবম-দশম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান বই থেকে প্রস্তুতি নিতে হবে। এ ছাড়া বাজারে প্রচলিত ভালো মানের একটি সহায়ক বই পড়তে হবে।

 

সাধারণ জ্ঞান

বাংলাদেশ বিষয়াবলিতে ভৌগোলিক অবস্থান ও ভূ-প্রকৃতি, জনসংখ্যা, বাংলাদেশের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা, সংবিধান ও প্রশাসনিক কাঠামো, কৃষিজ, খনিজ ও বনজ সম্পদ, শিল্প-বাণিজ্য-অর্থনীতি, সংস্কৃতি-ঐতিহ্য, সংস্থা-সংগঠন-একাডেমি, স্থাপত্য ও পুরাকীর্তি, পুরস্কার-সম্মাননা, খেলাধুলা প্রভৃতি বিষয়ে জানতে হবে।

আন্তর্জাতিক অংশে দেশ-মহাদেশ, রাজধানী, মুদ্রা ও পার্লামেন্ট, প্রণালী, দ্বীপ ও মহাসাগর, বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব, শিল্প, বাণিজ্য ও অর্থনীতি, স্থাপত্য ও স্থাপনা, যুদ্ধ-বিগ্রহ ও প্রতিরক্ষা, চুক্তি-সনদ-সম্মেলন, সংস্থা ও সংগঠন, পুরস্কার ও সম্মাননা, খেলাধুলা, ইতিহাস ও সভ্যতা থেকে প্রশ্ন আসতে পারে। বাজারে প্রচলিত ভালো মানের একটি সাধারণ জ্ঞানের বই থেকে প্রস্তুতি নেওয়া যেতে পারে। ভালো করতে চাইলে নিয়মিত পত্রিকা পড়ার কোনো বিকল্প নেই।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা