kalerkantho

রবিবার । ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৫ ডিসেম্বর ২০২১। ২৯ রবিউস সানি ১৪৪৩

শত বাধা পেরিয়ে

অর্থাভাবে শামীমা বিজ্ঞান পড়তে পারেনি, তবু...

শামস শামীম, সুনামগঞ্জ   

৮ মে, ২০১২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



অর্থাভাবে শামীমা বিজ্ঞান পড়তে পারেনি, তবু...

দুপুরের সূর্য গরম ঢালছে অবিরাম। জোড়াতালির টিনশেড ঘরটিতে সেই গরম যেন গলে গলে পড়ছে। দরিদ্র মৎস্যজীবীর মেয়ে শামীমা আক্তার অসুস্থ শরীরে বিছানায় পড়ে আছে। এমন সময় মেজো ভাই তৌহিদ মোবাইল ফোনে জানায়_শামীমা জিপিএ ৫ পেয়েছে। খবরটা শুনে পাশে দাঁড়ানো মা খাদিজা বেগম ও জন্মগত বাকপ্রতিবন্ধী বাবা নূরুল আলমের চোখ তখন আনন্দাশ্রুতে ভাসছে। পরক্ষণেই সেই আনন্দাশ্রু শঙ্কার মেঘ হয়ে ভর করে তাঁদের অবয়বে। অর্থাভাবে মেয়ের পছন্দ ও আগ্রহের বিষয় বিজ্ঞান বিভাগে পড়াতে না পেরে কমার্সে ভর্তি করিয়ে কোনোমতে খরচ চালালেও এখন মেয়ের উচ্চশিক্ষা নিয়ে চরম শঙ্কিত তাঁরা। সুনামগঞ্জ সরকারি শতীশ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পাওয়া মেধাবী ছাত্রী শামীমা আক্তার পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণীতেও ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছিল। প্রতিদিন গড়ে ৯ ঘণ্টা বাসায় বসে পড়াশোনা করেছে সে। দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে শামীমা বোনদের মধ্যে সবার বড়। অতিরিক্ত খরচের কারণে পছন্দের বিজ্ঞান বিষয়ে পড়তে না পারায় তার কষ্টটা ভীষণ। সুনামগঞ্জ পৌর শহরের উত্তর আরপিননগর এলাকায় শামীমাদের বাসা। তার বাবা জন্মগত বাকপ্রতিবন্ধী। গৃহিণী মা শত অভাবের মধ্যেও তাঁর প্রতিটি সন্তানকেই পড়ালেখায় নিয়মিত উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছেন। বাজারে মাছ বিক্রি করে কোনোমতে পরিবারের ব্যয় নির্বাহ করেন বাবা নূরুল আলম। এই আয়ে তাঁদের সাতজনের সংসার চালানোই কঠিন। শামীমা বলে, 'পারিবারিক দৈন্যের কাছে আমি হারতে চাই না। আমি ভবিষ্যতে একজন আদর্শ সিএ হতে চাই। দরিদ্র পরিবারের দ্বারা আমার স্বপ্ন পূরণ সম্ভব হবে কি না তা নিয়ে আমি শঙ্কিত। নির্বাক বাবা ও পরিশ্রমী চাচা আমার জন্য যেভাবে কষ্ট করেছেন, সে জন্য আমি তাঁদের এবং আমার শিক্ষকদের কাছে কৃতজ্ঞ।' সতীশ চন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তাপস রায় চৌধুরী বলেন, শামীমার পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতা থাকলেও পড়ালেখায় সে সিরিয়াস। তার মাঝে ক্লাসে শিক্ষার প্রতি যে আগ্রহ দেখেছি, তা তাকে অনেক দূর নিয়ে যাবে।'


সাতদিনের সেরা