kalerkantho

মঙ্গলবার । ৩০ আষাঢ় ১৪২৭। ১৪ জুলাই ২০২০। ২২ জিলকদ ১৪৪১

লাঠি-মুগুর নিয়ে ভারতীয় সেনাদের দিকে তেড়ে এসেছিল চীনের সেনারা!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৬ মে, ২০২০ ১৯:৩০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



লাঠি-মুগুর নিয়ে ভারতীয় সেনাদের দিকে তেড়ে এসেছিল চীনের সেনারা!

করোনাভাইরাসের তাণ্ডবের মধ্যেই সপ্তাহ দুয়েক আগে উত্তর-পূর্ব সীমান্তে মুখোমুখি সংঘর্ষ বাধে চীনা ও ভারতীয় সেনাদের মধ্যে। সে সময় ১০ ভারতীয় সেনাকে অস্ত্রসহ আটক করেছিল চীনা সেনারা। যদিও ভারতীয় বাহিনীর তরফে সেই দাবি অস্বীকার করা হয়েছে। এ বার জানা গেল, ভারতীয় সেনাদের দিকে লাঠি ও মুগুর নিয়ে তেড়ে এসেছিল চীনা সেনারা। ভারতীয় গণমাধ্যম এনএনআই-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্যাংগং লেক ও গালোয়ান ভ্যালি। ভারতের সীমান্তের দিকে থমথমে পরিস্থিতি। তাঁবু খাটিয়ে বসে আছে চীনের সৈন্যরা। বসে নেই ভারতও। একে অপরের চোখে চোখ রেখে তারা দাঁড়িয়ে আছে আজ প্রায় ২০ দিনেরও বেশি। শুধু তাঁবু খাটিয়ে বসে থাকাই নয়, রীতিমত লাঠি, পাথর এনে অপেশাদার সেনার পরিচয় দিয়েছে চীন। ভারতীয় সেনাবাহিনীর দিকে কার্যত লাঠি নিয়ে এগিয়ে এসেছিল তারা।

সংবাদ মাধ্যম এএনআই-কে এক টি সূত্র জানাচ্ছে যে, পাকিস্তানের মদতে কাশ্মীরে যারা পাথর ছোঁড়ে, তাদের মতই ব্যবহার করেছে চীনের সেনারা। লাঠি, মুগুর, কাঁটাতার আর পাথর নিয়ে এসেছিল চীনা সেনা। ওই সূত্র আরও জানাচ্ছে যে সংঘাত চলাকালীন অকারণ ঔদ্ধত্য দেখাচ্ছে চীন। ভারতীয় সেনাদের সঙ্গে চরম অপেশাদারের মত ব্যবহার করেছে।

তবে ভারতের দিক থেকে এখনো এমন কোনো ব্যবহার করা হয়নি। চীনের সেনাদের সরিয়ে দিতে কোনো উদ্যোগ এখনো নেওয়া হয়নি। প্যাংগং সীমান্তে চীন প্রায় ৫ হাজার সেনা জড়ো করেছে বলে জানা গেছে।

গত কয়েকদিন ধরে লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলের কাছে লাদাখে চোখে চোখ রেখে দাঁড়িয়ে আছে দুই দেশের সৈন্য। মূলত প্যাংগং তোসো লেক ও গালোয়ান ভ্যালির কাছে এই ঘটনা ঘটছে।

প্রাক্তন আর্মি কমান্ডার লেফট্যানেন্ট জেনারেল ডিএস হুদা বলেন, 'এটা মোটেই স্বাভাবিক ঘটনা নয়। বিশেষ গালোয়ান ভ্যালিতে এভাবে চীনা সৈন্যের আনাগোনা বেশ উদ্বেগের বলে উল্লেখ করেছেন তিনি, কারণ ওই অঞ্চল নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কোনো বিতর্ক নেই। অথচ সেখানেই সৈন্য মোতায়েন করেছে চীন।'

কূটনীতি বিশেষজ্ঞ অশোক কে কন্ঠও একই কথা বলেন। তিনি বলেন, 'আগেও এভাবে চীনে সেনার এগিয়ে আসার ঘটনা ঘটেছে। তবে এবার বিষয়টা বেশ উদ্বেগের। এটা সাধারণ ঘটনা নয়। ২০১৭-তে ডোকলামে মুখোমুখি দাঁড়িয়েছিল দুই দেশের সেনা। এবারের সংঘাত তার থেকেও বড় হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে।'

গত ৫ মে সন্ধ্যায় চীনের ২৫০ সেনা যে ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করেছে, তার পর থেকেই পরিস্থিতি আরো অবনতির দিকে চলে গিয়েছে। একই রকম ঘটনা ঘটে ৯ মে নর্থ সিকিমে। ৫ তারিখে রীতিমত লোহার রড নিয়ে সংঘাত চলে দুই পক্ষের মধ্যে। পাথর ছোঁড়ার ঘটনা ও ঘটে।

সূত্র- এএনআই।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা