<article> <p style="text-align: justify;">প্রতি বছর ৩ মে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস পালিত হয়। ১৯৯৩ সাল থেকে দিবসটি পালিত হচ্ছে। বিশ্বের সব মুক্তমনা গণমাধ্যমকর্মীর মতো আমাদেরও প্রত্যাশা- বাংলাদেশের গণমাধ্যমও মুক্ত হোক। তবে প্রত্যাশা করলেই অনেক কিছু সম্ভব হয় না। এর জন্য প্রথমে আমাদেরকেই মুক্ত হতে হবে। গণমাধ্যমকর্মীরাই নিজেদের নানানভাবে শৃঙ্খলিত করে রেখেছি। বাংলাদেশে ইচ্ছা করলেই যে-কেউ সাংবাদিক এবং প্রকাশক হয়ে যাচ্ছেন। প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কী পরিমাণ সংবাদমাধ্যম আছে এর সঠিক হিসাব নেই। জেলা প্রশাসন থেকে এযাবৎ কতগুলো পত্রিকার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, এর হিসাব সরকারের কাছে আছে। কতগুলো টেলিভিশনের অনুমতি আছে সে হিসাবও রয়েছে। নিবন্ধিত কতগুলো অনলাইন পোর্টাল আছে, তথ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে তার হিসাবও আছে। কিন্তু অনিবন্ধিত কতগুলো অনলাইন পোর্টাল আছে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে টিভি নাম ব্যবহার করে কতগুলো গণমাধ্যমে প্রচার বা সম্প্রচার হচ্ছে, তা কারও জানা আছে বলে মনে হয় না। সে তথ্য হয়তো জনসাধারণের ভাবনাচিন্তা-কল্পনারও বেশি হবে। গণমাধ্যম নামধারী বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কোনো নীতি-আদর্শই মানা হচ্ছে না। সেই সঙ্গে এ মুহূর্তে বাংলাদেশে সাংবাদিকের সংখ্যা কত, তা আল্লাহ ছাড়া আর কারও পক্ষে জানা সম্ভব নয়। সাংবাদিক নামধারী, চাঁদাবাজদের কারণে মূলধারার সাংবাদিকরা নানানভাবে নানান ক্ষেত্রে লজ্জিত হচ্ছেন। সে কারণেই মূলধারার একজন সংবাদকর্মী হিসেবে আক্ষেপ করে বলতে চাই-কেউ কি আছেন দেশে কতগুলো গণমাধ্যম আছে, কত সাংবাদিক আছেন গুনে দেওয়ার?</p> <p style="text-align: justify;">মূলধারার সাংবাদিকরা কতটা বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে আছেন, তা বোঝানোর জন্য দুটি ঘটনার উল্লেখ না করে পারছি না। বছর তিনেক আগে কুয়াকাটায় এক যুবকের সঙ্গে পরিচয় হয়। নামটা উল্লেখ করলাম না। অনেক চটপটে, মিশুক প্রকৃতির। আমার সঙ্গেও খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ভাব করে ফেলল। অনেক দিন ফোন করে আমার খোঁজখবর নিয়েছে। একদিন হঠাৎ ফোন করে কুশলবিনিময়ের পর বলল, ‘স্যার আমার সাংবাদিক হওয়ার খুবই ইচ্ছা। আমাকে একটু সুযোগ দেন। প্লিজ স্যার।’ আমি তার আগ্রহের কারণে একটি জীবনবৃত্তান্ত পাঠাতে বললাম। সে খুব আনন্দিত হয়ে এক সপ্তাহের মধ্যেই পাঠিয়ে দিল। জীবনবৃত্তান্ত পড়ে দেখলাম, সে সাকল্যে অষ্টম শ্রেণি পাস। মনে মনে হতাশ হলাম। এর ঠিক এক সপ্তাহ পরে ফোন করে জানতে চাইল আমি জীবনবৃত্তান্ত পেয়েছি কি না। পেয়েছি, বলার সঙ্গে সঙ্গে অনেক অনুনয়বিনয় করতে লাগল, যেভাবেই হোক তাকে যেন সাংবাদিক হওয়ার সুযোগ করে দিই। উত্তরে আমি বললাম, ‘তুমি তো অষ্টম শ্রেণি পাস। কীভাবে সাংবাদিক হবে? লেখাপড়া ছাড়া তো সাংবাদিক হওয়া যাবে না।’ আমার কথা শুনে তার খুব মন খারাপ। কারণ সে বুঝে গেছে আমাকে দিয়ে তার সাংবাদিক হওয়ার ইচ্ছা পূরণ হবে না। তারপর আর ফোন করেনি। দুই বছর পর সে হঠাৎ আবার একদিন ফোন করল। প্রথমে আমি চিনতে পারিনি। কারণ ফোন করেই ভাই বলে সম্বোধন করল। পরিচয় দেওয়ার পর চিনলাম। তারপর বলল, ‘ভাই দোয়া কইরেন, আমি অহন সম্পাদক। আমার একটা অনলাইন পত্রিকা আছে। কুয়াকাটা আইলে ফোন দিয়েন’ বলেই কথা শেষ করল। তার ফোন রাখার পর আমি অনেকক্ষণ স্তম্ভিত হয়ে রইলাম। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়ার কারণে যাকে আমি সাংবাদিক করতে পারিনি, সে এখন সম্পাদক! সম্পাদক হওয়ার আগে যে আমাকে মুহুর্মুহু স্যার সম্বোধন করেছিল, সে এখন ভাই সম্বোধন করছে। যেহেতু সে সম্পাদক হয়ে গেছে, সে কারণে ভাই বলবে এটাই স্বাভাবিক। এতে কিছু আসে-যায় না। কিন্তু হঠাৎ পরিবর্তনে কানে খটকা লাগে।</p> <p style="text-align: justify;">দ্বিতীয় ঘটনাটি আরও করুণ ও লজ্জাজনক। ২০২৪ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির ঘটনা। ময়মনসিংহের ত্রিশাল থেকে আমার এক আত্মীয় ফোন করলেন। একটি দামি মাইক্রোবাসে করে তাঁর ইটভাটায় ঢাকা থেকে কয়েকজন সাংবাদিক গিয়েছেন। সাংবাদিকদের বস একজন মহিলা। তারা আমার ওই আত্মীয়কে অভিযোগ করছেন, ওই ইটভাটায় নাকি শিশুশ্রমিক কাজ করে এবং কাঠ পোড়ানো হচ্ছে-এ খবর পেয়ে তারা এসেছেন। প্রথমে খুব গরম। পারেন তো ইটভাটার মালিককে ধরে পুলিশে দেন এমন অবস্থা। অবশেষে তাদের একজন একটু আড়ালে নিয়ে বলেছেন, ১০ হাজার টাকা দিতে হবে। তা না হলে রিপোর্ট করে ইটভাটা বন্ধ করে দেওয়া হবে। ভাটার মালিক বলেছিলেন, আমি টাকা দেব কেন? আমি মাত্র ভাটার কাজ শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। এখনো কাজ শুরুই হয়নি। তাহলে শিশুশ্রমিক কোথায় কাজ করে? তা ছাড়া প্রতিটি ইটের ভাটায় প্রথমে আগুন দেওয়ার সময় কিছু কাঠের লাকড়ি দরকার হয়। সে কারণে অল্প কিছু কাঠ ভাটার এক পাশে রাখা হয়েছে। এ অপরাধে কেন ১০ হাজার টাকা দিতে হবে? ভাটার মালিকের কথা শুনে তারা রীতিমতো আরও খেপে গেলেন। এখানে-ওখানে ফোন দিতে থাকেন। একবার থানাকে ফোন দেন, আবার পরিবেশ অধিদপ্তরে ফোন করেন। তখন ভাটার মালিক তাদের আমার পরিচয় দিলেন এবং বললেন, আমি তাঁর আত্মীয়। তারা বলেন, বাংলাদেশ প্রতিদিনের হাই কোর্ট আমাদের দেখাবেন না। ওসব গোনার সময় নেই। পরে তিনি তাদের কাছ থেকে ভিজিটিং কার্ড চাইলেন এবং তাদের দুুটি কার্ড আমাকে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠালেন। একটি কার্ডে ইংরেজিতে লেখা মোসা. নুরজাহান, সম্পাদক ও প্রকাশক ‘দৈনিক নুরজাহান সংবাদ’। এ পত্রিকার স্লোগান হলো ‘সত্যের পথে নির্ভীক সৈনিক’। প্রধান কার্যালয় : ২ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ, গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্স (ষষ্ঠ তলা) ঢাকা-১০০০। অন্য কার্ডটিতেও ইংরেজিতে লেখা মোসা. নুরজাহান, চেয়ারম্যান ও  ম্যানেজিং ডাইরেক্টর  ‘এন এ টিভি টুয়েন্টিফোর’। এটিরও একই স্লোগান ও একই ঠিকানা। কার্ড দুটি দেখে আমি ওই সম্পাদকের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি আমার আত্মীয়কে বলেন, ‘আমি কেন কথা বলব! আপনার ওই আত্মীয় সাংবাদিককে বলবেন, ঢাকায় আমার অফিসে এসে দেখা করতে।’ যা হোক, আমার আত্মীয়ের অনেক অনুনয়বিনয়ের পর সম্পাদক ম্যাডাম আমার সঙ্গে কথা বলতে রাজি হলেন। তিনি ফোনটি ধরেই আমাকে পরিবেশ সম্পর্কে একটানা জ্ঞান দিলেন। ইটভাটার কারণে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। আমি কেন এসব অন্যায় কাজে সহযোগিতা করছি, সে কারণে রীতিমতো আমাকে শাসাতে শুরু করলেন। তখন আমি তার কাছে জানতে চাইলাম তিনি কেন ইটভাটায় গেলেন? উত্তরে বললেন, ময়মনসিংহে তার ‘শাখা’ অফিস আছে। সেটা পরিদর্শনের পর ইটভাটার কারণে কীভাবে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে তা দেখার জন্য এবং এ নিয়ে তিনি রিপোর্ট করবেন সেজন্য এখানে এসেছেন। তিনি আমাকে তার ক্ষমতা সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেন, ‘আমার পত্রিকা ও টিভি সরকারের মিডিয়াভুক্ত। আমার পত্রিকা ও টিভির রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে সরকার চলে। তথ্যমন্ত্রী ও পরিবেশমন্ত্রী আমার অফিসে এসে আমার সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য বসে থাকে।’ আরও অনেক কথা আমাকে বললেন সম্পাদক ম্যাডাম। আমি তখন বুঝতে পারছিলাম না কী বলব বা কী করব। তাড়াতাড়ি সম্পাদক ম্যাডামকে বললাম আমার আত্মীয়কে ফোনটা দিতে। আমি তাঁকে বললাম, ওদের গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে পুলিশে খবর দিন। কিন্তু আমার আত্মীয় সে ঝুটঝামেলার দিকে গেলেন না।  আত্মীয় বেচারা তাদের সঙ্গে দেনদরবার করে এক হাজার টাকা দিয়ে বিদায় করে আমাকে ফোন করে বলেছিলেন, সম্পাদক ম্যাডামকে এক হাজার টাকা দিয়ে বিদায় করেছি। ওই ফোনের পর কয়েক ঘণ্টা আমি রীতিমতো ট্রমাটাইজ হয়ে গিয়েছিলাম। আমরা কোন নৈরাজ্যের, অনৈতিক দৌরাত্ম্যের, মূল্যবোধের অবক্ষয়ের গভীর গর্তে পড়েছি।</p> <p style="text-align: justify;">দুটি ঘটনাই আমাদের দেশের মূলধারার সাংবাদিকদের আতঙ্কিত হওয়ার মতো চিত্র। এখন রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশ সাংবাদিকে রীতিমতো গিজগিজ করছে। চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর এ অবস্থা আরও উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। পাড়ায়-মহল্লায় শুধু সাংবাদিক। কেউ মোটরসাইকেলে সাংবাদিক লিখে ঘুরছে, কেউ ভিডিও ক্যামেরা বা মোজো সেট নিয়ে, কেউবা ‘প্রেস’ লেখা জ্যাকেট পরে। ফুটপাত, আবাসিক হোটেল, থানা, ইউএনও অফিস, এসি ল্যান্ড অফিস, ডিসি অফিস, সাব-রেজিস্ট্রার অফিস, বিআরটিএ অফিস, পাসপোর্ট অফিস, রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল থেকে শুরু করে এমন কোনো জায়গা নেই, যেখানে সাংবাদিক পাওয়া যাচ্ছে না। তবে দুঃখের বিষয়, এসব স্থানে সাংবাদিক পরিচয়ে যারা দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন, তারা সাংবাদিক নামধারী চাঁদাবাজ। পেশাদার মূলধারার সাংবাদিকরা এসব প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে কাজ করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত বিব্রতকর অবস্থায় পড়ছেন। কারণ যাঁরা চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছেন তাঁরা মূলধারার প্রকৃত সাংবাদিককেও একই পাল্লায় মাপছেন। সাধারণ মানুষ চাঁদাবাজ সাংবাদিকদের ভয়ে সামনে সালাম দিলেও, পেছনে অশালীন গালি দিচ্ছে। পাড়ামহল্লায় এসব টাউটকে সবাই চেনে। সাংবাদিক নামধারী এসব ব্যক্তি অসংখ্য সংগঠনের সঙ্গে জড়িত। এখন সারা দেশে সাংবাদিকদের অনেক সংগঠন। এগুলোকে সংগঠন না বলে বলা হয় দোকান। একেক গ্রুপ একেক উদ্দেশ্যে একেক দোকান খুলে বসেছে। তারা আবার অনেক নামের, নানান ধরনের মানবাধিকার সংগঠনেরও মালিক-মোক্তার। এসবের ভারে মূলধারার পেশাদার সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন মর্যাদার দিক থেকে ম্লান হয়ে যাচ্ছে।</p> <p style="text-align: justify;">বাংলাদেশে প্রথিতযশা অনেক সাংবাদিক ছিলেন, আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন। যাঁরা ব্যক্তিত্বসম্পন্ন নীতিনৈতিকতা, সততা শিরোধার্য করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে বারবার রুখে দাঁড়িয়েছেন, এখনো দাঁড়াচ্ছেন, ভবিষ্যতেও দাঁড়াবেন। এমন পূজনীয় সাংবাদিকদের সাধারণ মানুষ খুব বেশি চেনে না। তাঁরা বরাবরই দেশ ও জাতির ক্রান্তিকালে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। যাঁদের জাতির বিবেক হিসেবে শ্রদ্ধা করা হয়। সাংবাদিকতা পেশার প্রত্যেক সদস্যের কাছে তাঁরা পথপ্রদর্শক। রীতিমতো শিক্ষকের মতো।</p> <p style="text-align: justify;">নেপোলিয়ন বোনাপার্ট বলেছিলেন, ‘আমাকে শিক্ষিত মা দাও, আমি শিক্ষিত জাতি দেব।’ আমাদের দেশের কৃষকও বলেন, ‘বীজ ভালো হলে ফসল ভালো হয়।’ তেমনি আমরাও আজ বলতে চাই-সৎ, সাহসী, দেশপ্রেমিক, জাতির বিবেক হওয়ার মতো সাংবাদিক গড়ে তুলতে হলে এ পেশায় শিক্ষিত এবং অবশ্যই সৎ, সাহসী ও আদর্শবাদী মানুষের অংশগ্রহণ দরকার। সেজন্য এ পেশায় যারা আসবেন তাদের জন্য যথাযথ পরিবেশও তৈরি করতে হবে। সেই সঙ্গে ধন্যবাদ না পাওয়ার মতো ঝুঁকিপূর্ণ সাংবাদিকতা পেশার মর্যাদা রক্ষায় আগাছা দূর করতে হবে। সাংবাদিক নামধারী টাউট-বাটপার, অর্ধশিক্ষিত, অশিক্ষিত কেউ যেন এ পেশায় প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য এখনই একটি উপযুক্ত নীতিমালা দরকার। ভাইরাল বা ভিউ ব্যবসায়ীরা যাতে এ পেশা ব্যবহার করে অপতথ্য ছড়িয়ে কারও চরিত্রহনন, সমাজ-রাষ্ট্রে বিদ্বেষ সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য এখনই কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।</p> <p style="text-align: justify;">তবে ভুয়া তো ভুয়াই। তাদের কর্মকাণ্ড অবশ্যই শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কোনো বড় মিডিয়ার বড় সাংবাদিকও যদি কারও কাছে অন্যায় কোনো দাবি করেন; ওই তথ্যদস্যুকে আইনের হাতে তুলে না দিয়ে ভিকটিম দুর্বৃত্তের দাবি পূরণ করে হা-হুতাশ করতে থাকেন কেন? তাঁর দুর্বলতাটা কী, কোথায়? কী লুকানোর শর্তে তিনি আপস করেন? এসবও খতিয়ে দেখা দরকার।</p> <p style="text-align: justify;">কবি হেলাল হাফিজ তাঁর অচল প্রেমের পদ্যে লিখেছেন, ‘কে আছেন? দয়া করে আকাশকে একটু বলেন, সে সামান্য উপরে উঠুক, আমি  দাঁড়াতে পারছি না।’ আজ অনেক বেশি ত্যক্তবিরক্ত হয়ে সাংবাদিকতা পেশার একজন সদস্য হিসেবে আমিও আকুতি জানাতে চাই-‘কে আছেন? দয়া করে আমাদের একটু আগাছামুক্ত করুন। প্রকৃত সাংবাদিকের সংখ্যাটা গুনে দিন, আমরা যেন সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারি।’</p> <p style="text-align: justify;"><strong>লেখক : নির্বাহী সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন</strong></p> <p style="text-align: justify;"><strong>manju209@yahoo.com</strong></p> </article>