<p>সুনামগঞ্জের দিরাই ও শাল্লা উপজেলার হাওরগুলোতে গত ২৫ এপ্রিলের পর ডুবে গেছে কৃষকের পাকা ধান। এখন থৈ থৈ করছে হাওর। টানা রোদ থাকায় পানির তলে নেতিয়ে পড়া ধান তোলার চেষ্টা করছেন কিছু কৃষক। তবে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের চেয়েও বড় হয়ে দেখা দিয়েছে মানুষ্যসৃষ্ট আপদ। পানিতে তলিয়ে পচে যাওয়া ধান যখন কৃষকরা কোনোমতে টেনে তোলার চেষ্টা করছেন, তখনই একদল দুষ্কৃতকারী সেই পচা ধানও লুট করে নিচ্ছে। দিরাই উপজেলার বরাম, উদগল, শাল্লা উপজেলার ছায়ার হাওরে এরকম একাধিক ঘটনা ঘটেছে। দিরাইয়ের হাওরে ধান লুটের ঘটনায় অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক।</p> <p>দিরাই ও শাল্লার বরাম, উদগল ও ছায়ার হাওরের ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান, হাওর এখন অথৈ পানির নিচে। অধিকাংশ পাকা ধান ডুবে পচে গেছে। কোথায়ও সামান্য পানি কমলেও ধান নেতিয়ে পড়ছে। কৃষকরা জানান, ধান পচে গেলেও পানির নিচে তা এখনো গোছা আকারে থাকে। বাঁশের আগায় লোহার একাধিক ফলা বা দণ্ড বেঁধে বিশেষ পদ্ধতিতে প্যাচিয়ে দিলে সেই পচা ধানের আংশিক অংশ পানির ওপরে তুলে আনা সম্ভব। এতে ডুবে যাওয়া ধানের ২০-৩০ আ ভাগ তোলা সম্ভব।</p> <p>কিন্তু সেই শেষ সম্বলটুকুও কেড়ে নিচ্ছে একদল সংঘবদ্ধ চক্র। তারা ভোরে নৌকা নিয়ে এসে দুর্গম হাওর থেকে কৃষকের ধান তুলে নিয়ে যাচ্ছে।</p> <p>ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, তারা হাওরে যাওয়ার আগেই রাতের আঁধারে বা নির্জন সময়ে নৌকা নিয়ে হানা দিচ্ছে দুষ্কৃতিকারীরা। বাঁশের আগায় লোহার বিশেষ যন্ত্র (ফলা) লাগিয়ে তারা পানির নিচ থেকে পচা ধান টেনে তুলে নৌকায় ভরে নিয়ে যাচ্ছে। কৃষকরা বাধা দিতে গেলে অনেক সময় তাদের ভয়ভীতিও দেখানো হচ্ছে।</p> <p>পুলিশ জানায়, দিরাই উপজেলা বরাম হাওরের একাংশ ভাঙাডহর ও ডাইয়ারগাও গ্রামের কৃষকদের হাওরের ডুবন্ত পাকা ধান লুট করে নিযে যাচ্ছে দুষ্কৃতিকারীরা। নোয়াগাও-সন্তোষপুর, বাউসী ও চন্দ্রপুর এলাকার দুষ্কৃতকারী কিছু লোক নৌকাযোগে হাওরে প্রবেশ করে ধান তুলে নিয়ে যাবার খবর পেয়ে দিরাই থানা পুলিশ মঙ্গলবার ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়েছে।</p> <p>তাড়ল ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য বাবুল দাস বলেন, ‘আমাদের হাওরের ষোল আনা ধানের মধ্যে চৌদ্দ আনা ধান ডুবে গেছে ১৫ দিন আগে। এর মধ্যে বাউসী, নোয়াগাও-সন্তোষপুর ও নাচনী চন্ডিপুর এলাকার কিছু লোক আমাদের হাওরের ধান লুট করে নিয়ে যাচ্ছে।’</p> <p>বরাম হাওরের কৃষক ভাঙাডহর গ্রামের হরিবল দাস বলেন, ‘জোরপূর্বক আমাদের ধান কেটে নিয়ে যাচ্ছে দুষ্কৃতিকারীরা। আমরা বাধা দিলে তারা হুমকি ধমকি দিচ্ছে।’</p> <p>দিরাই থানার এসআই মাসুদুল হক মাসুম বলের, ‘মঙ্গলবার দুপুরে ধান লুটের খবর পেয়ে আমরা হাওরে অভিযান চালিয়েছি। আমাদের দেখে দুষ্কৃতিকারীরা পালিয়ে গেছে।’</p> <p>সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, ‘কৃষকরা ডুবে যাওয়া ধান পানির তল থেকে তোলার চেষ্টা করছেন। এতে কিছুটা হলেও ধান তোলতে পারেন কৃষক।’</p>