<p style="text-align: justify;">‘আমার বাবারে মাইরা ফ্যালাইছে। আমি এখন কী নিয়ে বাঁচব রে আল্লাহ...। আমার বাজান গতকাল নতুন জামা-প্যান্ট কিনছে। সেই জামা পরে হাসতে হাসতে বোনের বাসায় গেছে। কে জানত, ওই যাওয়াই শেষ যাওয়া। আমার রসুল আমার ছোট ছেলে, আমার বুকের ধন। তোরা আমার রসুলরে আইনা দে...। </p> <p style="text-align: justify;">গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার খবরে ছেলে রসুল মোল্লাসহ মেয়ে ও নাতি-নাতনিদের হারানোর শোকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন ফিরোজা বেগম (৬০)। বুক চাপড়ে বিলাপ করে শুধু এই কথাগুলোই বলছিলেন তিনি।</p> <p style="text-align: justify;">পরিবারের অভিযোগ, পারিবারিক ও দাম্পত্য কলহের জের ধরে স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালককে গলা কেটে হত্যা করেছেন ফোরকান মোল্লা।</p> <div class="d-flex justify-content-center"> <div class="col-12 col-md-10 position-relative" data-id="1682637"><strong>আরো পড়ুন</strong> <div class="card"> <div class="row"> <div class="col-4 col-md-3"><img alt="‘আমার পুলাডারে ৫ বছরের জেল দেন স্যার’" class="img-fluid rounded-start m-0 w-100" height="66" src="https://asset.kalerkantho.com/public/news_images/2026/05/09/1778331507-ca9f37242ad396e175bc768d9dea1b08.jpg" width="100" /></div> <div class="col-8 col-md-9"> <p class="p-1 m-0 lh-sm">‘আমার পুলাডারে ৫ বছরের জেল দেন স্যার’</p> </div> </div> </div> <a class="stretched-link" href="https://www.kalerkantho.com/online/country-news/2026/05/09/1682637" target="_blank"> </a></div> </div> <p style="text-align: justify;">এদিকে মরদেহে পাশে পাওয়ায় গেছে গোপালগঞ্জ সদর থানায় করা একটি অভিযোগপত্র। কিন্তু এমন কোনো অভিযোগ করা হয়নি বলে নিশ্চিত করেছেন থানার ওসি মো. আনিসুর রহমান।</p> <p style="text-align: justify;">পরিবার সূত্রে জানা যায়, শাহাদাত-ফিরোজা দম্পতির চার মেয়ে ও তিন ছেলে মধ্যে শারমিন আক্তার তৃতীয় ও রসুল মোল্লা সবার ছোট। বড় মেয়ে বিয়ের কয়েক বছর পর ব্যাধিতে মারা যায়। আনুমানিক ২০ বছর আগে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের বাসাবাড়ি গ্রামের আতিয়ার মোল্লার ছেলে ফোরকান মোল্লার সঙ্গে একই উপজেলার পাইককান্দি ইউনিয়নের শাহাদাত মোল্যার মেয়ে শারমিনের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। কয়েক বছর শ্বশুরবাড়ি থাকার পর দাম্পত্য কলহ শুরু হলে শারমিনকে নিয়ে প্রথমে ঢাকা ও ছয় মাস আগে গাজীপুরের কাপাসিয়ায় যান ফোরকান। প্রাইভেট কার চালিয়ে সংসার চালাতেন তিনি। রসুল মোল্লা তার বড় বোন ফাতেমা বেগমের বাসায় থেকে গাজীপুরের একটি গার্মেন্টসে চাকরি করতেন।</p> <p style="text-align: justify;">এক বছর আগে পারিবারিক কলহ হলে শারমিন বাবার বাড়িতে চলে যান। পরে ফোরকান শ্বশুরবাড়ির লোকদের বুঝিয়ে তার স্ত্রী ও সন্তানকে ফিরিয়ে নেন। শুক্রবার ফোরকান মোল্লা ফোন চায়না কম্পানিতে চাকরি দেওয়ার কথা বলে শ্যালক রসুলকে ও ভাগ্নে রকিবকে তার ভাড়া বাসায় আসতে বলেন। কিন্তু শ্যালক রসুল গেলেও ভাগ্নে গোপালগঞ্জ চলে আসে।</p> <p style="text-align: justify;">পরে শনিবার ভোরে গাজীপুরের কাপাসিয়ায় রাউৎকোনা গ্রামের ফোরকান মিয়ার ভাড়া বাড়িতে স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালককে গলা কেটে হত্যা করেন। নিহতরা হলেন গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পাইককান্দি ইউনিয়নের পাইকান্দি উত্তর চরপাড়া গ্রামের শাহাদাত মোল্লার মেয়ে শারমিন আক্তার (৩০) ছেলে রসুল মোল্লা (১৮), শারমিনের তিন মেয়ে মিম আক্তার (১৪), হাবিবা (১০), ফারিয়া (২)।</p> <p style="text-align: justify;">নিহত শারমিন ও রসুলের চাচা খবির মোল্লা বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ বাড়িতে আনা হলে পাইকান্দি গ্রামে দাফন করা হবে।</p> <p style="text-align: justify;">গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান জানান, স্ত্রীকে দায়ী করে নিহতদের পাশে যে জিডির কপি পাওয়া গেছে, তা সঠিক নয়। এমন কোনো জিডির গোপালগঞ্জ সদর থানায় করা হয়নি বলে জানান তিনি।</p>