<p style="text-align:justify">তাবলীগ জামাতের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, মুসল্লিদের মৃত্যুর পর অবশেষে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তত্ত্বাবধানে শুরু হচ্ছে ৫৮তম বিশ্ব ইজতেমা। দুই পক্ষের বিরোধের কারণে তিন ধাপে অনুষ্ঠিত হবে এবারের ইজতেমা। প্রথম পর্বের প্রথম ধাপে ৪২ জেলা ও দ্বিতীয় ধাপে ২২ জেলার মুসল্লীরা অংশ নিবেন এই ইজতেমায়। আর কাল জুমার বৃহত্তম জামাতের ইমামতি করবেন মাওলানা জুবায়ের।</p> <p style="text-align:justify">প্রথম পর্বের দুই ধাপের আয়োজক শুরায়ে নেজাম বা মাওলানা জুবায়ের পন্থিরা। দ্বিতীয় পর্বের আয়োজক মাওলানা সাদপন্থীরা। কাল ৩১ জানুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে প্রথম পর্ব। প্রথম পর্বের প্রথম ধাপ ৩১ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি। আর দ্বিতীয় ধাপ ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি। দ্বিতীয় পর্ব হবে ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি।</p> <p style="text-align:justify">শুরায়ে নেজামের মিডিয়া সমন্বয়কারী হাবিবুল্লাহ রায়হান কালের কণ্ঠকে বলেন, আজ বৃহস্পতিবার বাদ মাগরিব ভারতের মাওলানা ইব্রাহিম দেওলার আম বয়ানের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে শুরু হচ্ছে ৫৮ তম বিশ্ব ইজতেমার আনুষ্ঠানিকতা। কাল শুক্রবার বাদ ফজর বয়ান করবেন পাকিস্তানের মাওলানা জিয়া উল হক।  কাল সকাল ১০টায় বিভিন্ন খিত্তায় খিত্তায় তালিমের আমল হবে। আর জুমার  সবচেয়ে বড় জামাত পড়াবেন- মাওলানা জুবায়ের।</p> <p style="text-align:justify">আগত মুসল্লিদের সুষ্ঠুভাবে বয়ান শোনার জন্য পুরো মাঠে শব্দ প্রতিধ্বনি রোধক প্রায় ২১২টি বিশেষ ছাতা মাইক, ৩০০টি ইউনিসেফ (প্রতিধ্বনি প্রতিরোধক) মাইকসহ ৫০০ মাইক স্থাপন করা হয়েছে। ইজতেমা ময়দানে মুসল্লিদের অবাধ প্রবেশ নিশ্চিত করতে তুরাগ নদীতে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের সদস্যরা ৫টি ও বিআইডব্লিউটিএ ১টি ভাসমান (পন্টুন) সেতু নির্মাণ করেছেন। এছাড়াও আন্তর্জাতিক নিবাসে মেহমানদের রান্নাসহ আভ্যন্তরীণ মুসল্লিদের জন্য আশপাশের এলাকায় স্থাপিত বিভিন্ন হোটেল রেস্তোয়ায় বিশেষ নজর রাখার জন্য বলা হয়েছে। যাতে তাদের ফুড পয়জনিং না হয়। ইজতেমার আয়োজক তাবলীগ জামাতের স্বেচ্ছাসেবীদের প্রস্তুতি ছাড়াও গাজীপুর সিটি করপোরেশন, ডেসকো, তিতাস, ওয়াসা, সড়ক ও জনপদ বিভাগ, ফায়ার সার্ভিসসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট সেবাদানকারী সংস্থাগুলো ইজতেমা উপলক্ষ্যে তাদের প্রয়োজনীয় সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। মুসল্লিদের সার্বক্ষণিক সেবাদানে ফায়ার সার্ভিসের ‘হেজমেক’ টিমও এ বছর দায়িত্ব পালন করছে।</p> <p style="text-align:justify">এদিকে নিরাপত্তার লক্ষ্যে ইজতেমার ময়দানসহ আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার থেকেই দুই পর্বের ইজতেমায় পুলিশ, র‌্যাব, কিউআরটি, আনসারসহ সাদা পোশাকধারী বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যসহ ৬ হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ইজতেমা মাঠের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ৩ শতাধিক ক্লোজসার্কিট ক্যামেরা স্থাপনের করা হয়েছে। ১৭টি প্রবেশপথসহ চারপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসানো হচ্ছে ক্লোজসার্কিট ক্যামেরাগুলো। এছাড়াও থাকছে মেটাল ডিটেক্টর, বাইনোকুলার, নাইটভিশন গগ্ল্স, পুলিশ ও র‌্যাবের স্ট্রাইকিং ফোর্স, বোম ডিসপোজাল ইউনিট, এন্টি টেরোরিজম ইউনিট, সোয়াদ টিম, ড্রোন ভিউ, নৌ টহল, হেলিকপ্টার টহল, মুসলিল্লদের খিত্তাওয়ারী মোটরসাইকেল টহল। প্রতিটি খিত্তায় বিশেষ টুপি পরিহিত ও সাদা পোশাকধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য অবস্থান করবেন। এছাড়াও র‌্যাব ও পুলিশের ১৬ ওয়াচ টাওয়ার, চেক পোস্ট, হেলিকপ্টার উঠানামার জন্য হ্যালিপ্যাড ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা মনিটরিং এর জন্য একটি প্রধান কন্ট্রোল রুম ও সাব কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও ইজতেমা মাঠসহ আশপাশের কোথায় কি হচ্ছে প্রত্যক্ষ করার জন্য ল্যাপটপ ও কম্পিউটারের স্ক্রিনে সার্বক্ষণিক নজর রাখবেন।</p> <p style="text-align:justify">এদিকে এরই মধ্যে নানা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিগণ ইজতেমাস্থলে আসতে শুরু করেছেন। তারা রেলপথ, সড়ক পথ, নৌপথ, আকাশ পথ এবং অনেকে পায়ে হেঁটে ইজতেমাস্থলে আসছেন। এখন টঙ্গীর যেদিকে চোখ যায় শুধু টুপি-পাঞ্জাবী পড়া মুসল্লিদের দেখা মেলে। </p> <p style="text-align:justify">টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসকান্দার হাবিবুর রহমান  কালের কণ্ঠকে বলেন, টঙ্গীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক গোয়েন্দা পুলিশ কাজ করছে।<br />  </p>