<p>নীলফামারী জেলা সদরে ঝড়ে বাড়ির ওপর ভেঙে পড়া সরকারি একটি গাছ অপসারণ না করায় এক সপ্তাহ ধরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে একটি পরিবার। গত ১৭ মে উপজেলার খোকশাবাড়ী ইউনিয়নের দক্ষিণ কিষামত গোড়গ্রারে নজরুল ইসলামের বাড়ির ওপর ওই আমগাছটি ভেঙে পড়ে। এতে পরিবারটির ছয় সদস্য প্রাণে বেঁচে গেলেও তিনটি টিনশেডের কাঁচাঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়।</p> <p>পরিবার প্রধান নজরুল ইসলামের অভিযোগ, 'গাছটি ভেঙে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে মৌখিকভাবে ইউনিয়ন পরিষদ এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়। এতে কোনো কাজ না হওয়ায় গত ২২ মে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানানো হয়। এর পরও গাছটি সরানো হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত ঘর মেরামত করতে না পেরে ঝড়বৃষ্টির মধ্যে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছি।'</p> <p>পরিবার প্রধানের এমন অভিযোগে সোমবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ওই বাড়ির পাশে পাকা সড়কের ধারের অনেক পুরনো একটি আমগাছ উপড়ে পড়ে আছে বাড়িটির ওপর। গাছের চাপায় বাড়িটির তিনটি ঘরই দুমড়েমুচড়ে পড়ে আছে। নিরুপায় পরিবারের সদস্যরা ওই ভাঙা ঘরেই বসবাস করছে।</p> <p>নজরুল ইসলাম আরো বলেন, 'গত ১৭ মে রাতে প্রচণ্ড ঝড়ে গাছটি ভেঙে পড়ে আমার বাড়ির ওপর। গাছটি বড় হওয়ায় একসঙ্গে তিনটি ঘর চাপা পড়ে। ঘটনাটি রাতে হওয়ায় ঘরের ভেতর আমরা সকলে আটকা পড়ি। প্রতিবেশীরা এসে আমাদের উদ্ধার করলে প্রাণে বাঁচি। কিন্তু ওই গাছটি সরকারি হওয়ায় এখন অপসারণ করতে পারছি না। পাশাপাশি সরকারি লোকজনকে জানানো হলেও তারা অপসারণ না করায় এক সপ্তাহ ধরে ঝড়বৃষ্টির মধ্যে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছি।'</p> <p>তিনি জানান, গাছটি ভেঙে পড়ার পর স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে মৌখিকভাবে অবহিত করা হয়েছে। এরপর পাঁচ দিন অতিবাহিত হলেও কোনো ব্যবস্থা না হওয়ায় গত রবিবার ২২ মে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানানো হয়। সোমবারও সেটি অপসারণ করা হয়নি।</p> <p>প্রতিবেশী আব্দুল লতিফ বলেন, 'দিনমজুর পরিবারটি সাত দিন ধরে জিম্মিদশায়। আশ্রয় নেওয়ার মতো কোনো জায়গা না থাকায় বৃষ্টির মধ্যে ভাঙা ঘরে দিন কাটাচ্ছে। সরকারি গাছ হওয়ায় আমরা প্রতিবেশীরাও গাছটি সরাতে পারছি না। সরকারি লোকজনকে জানানো হলেও তারা কর্ণপাত করছে না।'</p> <p>খোকশাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামান প্রধান বলেন, 'গাছটি অপসারণ করা জরুরি। আমরা গাছটি কাটার ব্যাপারে ইউনিয়ন পরিষদে রেগুলেশন করে গত রবিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে দিয়েছি। ইউএনও লোক পাঠাবেন বলেছিলেন। সোমবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত কোনো লোক পাঠাননি। সরকারি গাছ হওয়ায় উপজেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত ছাড়া কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না।'</p> <p>এ বিষয়ে বিকেল সোয়া ৫টার দিকে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন নাহার বলেন, 'আমি জানার পর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে গাছটি অপসারণ করতে বলেছি। এটা সব জায়গায় জরুরি অপসারণ করা হয়। কিন্তু তিনি এখনো সেটি না করার কারণ জানি না। আমি সেটি অপসারণে দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছি।'</p>