kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

মেহেদী হাসান গালিব   

২৭ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

প্রতিযোগিতার ভেন্যুতে দেশের পতাকা হাতে ‘টিম কুইবলার’

প্রতিবছরের মতো এবারও ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, রুরকিতে অনুষ্ঠিত হলো এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম প্রযুক্তি উত্সব ‘কগনিজেন্স’। তিন দিনের এই উত্সব নানা কর্মশালা, প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পরিণত হয়েছিল তরুণ উদ্ভাবকদের মিলনমেলায়। বিভিন্ন দেশের তরুণরা তাঁদের আইডিয়া ও উদ্ভাবন নিয়ে হাজির হয়েছিলেন এখানে। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলেছে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের যুদ্ধে। তেমনই একটি লড়াইয়ের মঞ্চ ‘টেকনোক্যাড’। এটি যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজিত কম্পিউটার এইডেড ডিজাইন প্রতিযোগিতা। এখানে প্রতিযোগীদের সামনে একটি করে ইঞ্জিনিয়ারিং সমস্যা রাখা হয়। তিন ঘণ্টার মধ্যে সেটির সমাধান করে বানাতে হয় ডিজাইন। শুধু তা-ই নয়, বিচারকদের পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বুঝিয়ে দিতে হয় নিজেদের করা সেই ডিজাইন। এবার এই প্রতিযোগিতায় প্রতিদ্বন্দ্বী ১৬টি দলকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী মাকসুদুল আলম ইমরান ও সুমিত চন্দের ‘টিম কুইবলার’।

‘টিম কুইবলারে’র দুই তরুণের এই স্বপ্নপূরণের গল্পটা একটু পেছন থেকে শুরু করা যাক। গত বছরের সেপ্টেম্বরে আহছানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয় প্রযুক্তি উত্সব ‘মাইন্ডস্পার্কসে’ অংশ নিতে একটি দল গঠন করেছিলেন সুমিত। আচমকাই উত্সবটির তারিখ পিছিয়ে গেলে তাঁকে বিপদে পড়তে হয়। কেননা পরিবর্তিত তারিখে ছিল তাঁদের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা। এর মধ্যেই একদিন ইমরান জানতে পারেন, ‘মাইন্ডস্পার্কসে’র চ্যাম্পিয়ন দল সরাসরি অংশ নিতে পারবে ‘কগনিজেন্স’-এর ফাইনাল রাউন্ডে। একদিকে সেমিস্টার ফাইনালের চাপ, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অংশ নেওয়ার সুযোগ। দোটানায় পড়ে যায় ‘টিম কুইবলার’। শেষ পর্যন্ত পরীক্ষা দিয়ে সেই রাতেই খুলনা থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয় তিন সদস্যের ‘টিম কুইবলার’। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি দলের সঙ্গে চলে মেধার লড়াই। তাঁদের কাছে কম্পিউটার যেন পরিণত হয় ক্যানভাসে! তাঁরা বনে যান একেকজন দক্ষ আঁকিয়ে। প্রতিযোগিতা শেষে সেদিনই খুলনার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তাঁরা। পরদিন ঘোষণা করা হয় ফল। চ্যাম্পিয়ন দল—‘টিম কুইবলার’!

সময়মতো পাসপোর্ট না পাওয়ায় দলের সদস্য সাকিব তানভীরকে রেখেই ১৫ মার্চ ভারতের উদ্দেশে যাত্রা করে ‘টিম কুইবলার’। পরদিন ভোরেই তাঁরা হাজির প্রতিযোগিতার মঞ্চে। দুজনকে দুটি কম্পিউটার ও সঙ্গে একটি প্রবলেম শিট দেওয়া হয়। মুহূর্তেই তাঁরা পরিকল্পনা আঁটতে থাকেন। কিন্তু বিপত্তি বাধে অন্য জায়গায়। এর আগে যত প্রতিযোগিতায় তাঁরা অংশ নিয়েছিলেন, সবগুলোতেই মডেলের ডাইমেনশন আনুমানিক ধরে কাজ করেছেন। কিন্তু এখানে ডিজাইনের পাওয়ার, স্ট্রেন্থ, ওয়ার্কস্পেস—সব কিছুই নির্দিষ্ট করে দেওয়া। ফলে ডিজাইন করতে গিয়ে ডাইমেনশনগুলো হিসাব করে বের করতে হচ্ছিল তাঁদের।

মূল সমস্যা দেখা দেয় সফটওয়্যারে কাজ শুরু করার পর। বারবার কম্পিউটার হ্যাং হওয়ায় বেশ বেগ পোহাতে হচ্ছিল তাঁদের। তাঁরা খেয়াল করলেন, কম্পিউটার দুটি পেন্টিয়াম প্রসেসর ও মাত্র ১.৫ গিগাবাইট র্যামের; অথচ প্রতিপক্ষ দলগুলো কাজ করছিল হাই কনফিগারেশনের গেমিং কম্পিউটারে। এতে খানিকটা হতাশ হলেও হাল ছাড়েননি ইমরান ও সুমিত। তাঁদের তখন শুধুই মনে ভাসছিল ছোটবেলায় পড়া খরগোশ-কচ্ছপের গল্পটা। নির্ধারিত সময়ের পর শুরু হলো ফল ঘোষণা। ‘টেকনোক্যাডে চ্যাম্পিয়ন টিম কুইবলার’—ঘোষণাটি কানে আসতেই আবেগাপ্লুত ইমরান চিত্কার করে উঠলেন, ‘আমরা বাংলাদেশ থেকে এসেছি!’

মন্তব্য