kalerkantho


স্মার্ট মিটারের যুগে বাংলাদেশ

দেশে এরই মধ্যে স্মার্ট মিটারের ব্যবহার শুরু হয়েছে। কুমিল্লার ৫০০ বাড়ি ও ১০০ কারখানায় এই মিটার চলছে। সাধারণ মিটারের সঙ্গে স্মার্ট মিটারের পার্থক্য ও সুবিধা নিয়ে বিস্তারিত জানাচ্ছেন নাদিম মজিদ

৬ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



স্মার্ট মিটারের যুগে বাংলাদেশ

চাকরির সুবাদে ঢাকায় থাকেন আরিফ আহমেদ, মা-বাবা গ্রামের বাড়িতে। এই বাড়ির বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেন তাঁর চাচাতো ভাই। মাসে বিল আসে ৩০০ টাকার কাছাকাছি। কিন্তু একমাসে হঠাৎ বিল এলো এক হাজার ২০০ টাকা। অথচ বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হয়েছে বরাবরের মতোই। বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করেও লাভ হলো না। জানানো হলো, মিটার রিডার চেক করেই তারা বিল বানিয়েছে, তাই পুরো বিলই পরিশোধ করতে হবে; না হয় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে। বেশ ঝামেলায়ই পড়লেন আরিফের মা-বাবা। তবে স্মার্ট মিটার থাকলে মুক্তি পাওয়া যাবে এ ধরনের ঝামেলা থেকে। ওয়েবসাইট বা স্মার্টফোন থেকে মিনিট, ঘণ্টা, দিন, সপ্তাহ, মাস—এমনকি বছর অনুযায়ী বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ জানতে পারবেন ব্যবহারকারী। বিদ্যুৎ বিল পরিশোধও অনেক সহজ। দেওয়া যাবে মোবাইল থেকেই। স্মার্ট মিটারে একটি মোবাইল সিমকার্ড সংযুক্ত থাকে। এই সিমকার্ডের সাহায্যে স্মার্ট মিটার ও স্মার্টফোনের মধ্যে সংযোগ ঘটে। মাসে ইন্টারনেট ডাটা খরচ হয় গড়ে ৫ মেগাবাইট।

 

নতুন কী

সাধারণ মিটারে শুধু বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ জানা যায়। বিদ্যুৎ অফিসের মিটাররিডার এসে ব্যবহারের পরিমাণ জেনে নিয়ে সেই অনুযায়ী বিল প্রস্তুত করার নির্দেশনা দেন। কিছুটা বাড়তি সুবিধা আছে প্রিপেইড মিটারে—অগ্রিম বিল দেওয়া যায়। টাকা (ক্রেডিট) শেষ হয়ে গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগে কোনো সতর্কসংকেত না থাকা এই ব্যবস্থার একটি দুর্বলতা। রাতবিরাতে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে ঝামেলায় পড়েন অনেকে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল কাদের জানান, সাধারণ মিটারের তুলনায় স্মার্ট মিটারে সুবিধা অনেক বেশি। কোথায় কতটুকু বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হচ্ছে বিতরণকারী কর্তৃপক্ষ অফিসে বসেই তাৎক্ষণিক জানতে পারেন। ব্যবহারকারীও দেখতে পান মিনিট, ঘণ্টা, দিন, সপ্তাহ, মাস, বছর অনুযায়ী অতীত ও বর্তমান বিদ্যুৎ খরচের তথ্য। আরেক সুবিধা হচ্ছে, ব্যবহারের পরিমাণ আগে থেকে নির্দিষ্ট করে দেওয়া যাবে। শেষ পর্যায়ে এলে স্মার্টফোনে অ্যালার্ম ও ই-মেইলে নোটিফিকেশনের মাধ্যমে সতর্ক করবে। সাধারণ হ্যান্ডসেটের ক্ষেত্রে অপারেটরের মাধ্যমে (আপাতত শুধু রবি সংযোগ) সুবিধাগুলো নেওয়া যাবে।

স্মার্ট মিটারের ক্ষেত্রে মিটার ও কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার মধ্যে দ্বিমুখী যোগাযোগ হয়ে থাকে। উন্নত দেশে বিদ্যুতের পাশাপাশি গ্যাস ও পানির হিসাবের জন্যও স্মার্ট মিটার ব্যবহার করা হয়। স্মার্ট মিটার ব্যবহার বিদ্যুৎসাশ্রয়ী হওয়ায় বিভিন্ন দেশ স্মার্ট মিটার সংযোগের প্রকল্প হাতে নিয়েছে। যুক্তরাজ্যে ২০২০ সালের মধ্যে সব বাসাবাড়িতে স্মার্ট মিটার লাগানোর কাজ এগিয়ে চলছে।

 

লোডশেডিং নয়, লোডশেয়ারিং

সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বেশি থাকলে লোডশেডিং হয়। স্মার্ট মিটারের ক্ষেত্রে লোডশেয়ারিং করে লোডশেডিং কমানো সম্ভব। যখন সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বেশি হবে, তখন বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান স্মার্ট মিটার ব্যবহারকারীদের মেসেজ পাঠিয়ে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহারের কথা বলতে পারবে। যেমন—বিকেল ৩টায় পাঠানো মেসেজে লেখা থাকবে, ‘সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ব্যবহার ২০০ কিলোওয়াটে নামিয়ে আনুন। এর বেশি ব্যবহার করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।’ এতে খুব জরুরি নয় এমন সরঞ্জাম বন্ধ করে জরুরি জায়গায় বিদ্যুতের লোড শেয়ার করা যাবে।

 

পিক-অফপিক আলাদা বিল

বর্তমানে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ বিলের পরিমাণ পিক-অফপিক আওয়ারে সমান। পিক আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা বেশি থাকে। এ সময় কম ব্যবহারের জন্য আলাদা বিদ্যুৎ বিল প্রণয়ন করতে পারে। স্মার্ট মিটারের সাহায্যে নিখুঁতভাবে কার্যকর করা যাবে। এতে মানুষ বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সচেতন হবে। ওয়াশিং মেশিন, পানির পাম্পসহ বিভিন্ন পণ্যের ব্যবহার অফপিক আওয়ারে করবে।

অ্যাপ ব্যবহার করে ব্যবহারকারী স্মার্টমিটারের তথ্য পান

চলা শুরু

২০১৬ থেকে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) বিক্রয় ও বিতরণ কুমিল্লা-২-এর অধীনে স্মার্ট মিটার বাস্তবায়নে পাইলট প্রকল্প শুরু করে দেশীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপলম্বটেকবিডি। স্মার্ট মিটার তৈরি, স্থাপন, ওয়েব ও অ্যাপের সঙ্গে সংযোগ, তথ্যের যাচাই-বাছাই শেষে গত বছরের ২৫ মে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয় ‘বিপিডিবি স্মার্ট মিটার’-এর। অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, এতে বিলসংক্রান্ত অনেক সমস্যা দূর হবে। তাই ভবিষ্যতে আমাদের স্মার্ট মিটার প্রযুক্তিতেই যেতে হবে। তথ্য-প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহেমদ বলেন, স্মার্ট মিটার বাংলাদেশে এখন চালু হলেও অন্যান্য দেশে আরো আগে চালু হয়েছে। এই মিটারে ত্রুটিমুক্ত হিসাব-নিকাশ করা যাবে। এতে গ্রাহকের ভোগান্তি কমবে।

 

অ্যাপের ডাউনলোড লিংক

অ্যানড্রয়েড ও আইফোন থেকে অ্যাপ ব্যবহার করে ব্যবহারকারী তাঁর নিজের স্মার্ট মিটারের তথ্য পাচ্ছেন।

অ্যানড্রয়েড ফোনের জন্য ডাউনলোড লিংক : https://goo.gl/iHF3RJ

আইফোনের জন্য ডাউনলোড লিংক : https://goo.gl/pwz5og



মন্তব্য