kalerkantho


মোবাইলে বাংলা লেখার সহজ পাঠ

স্মার্টফোনে এসএমএস-চ্যাট কিংবা অনলাইনে নানা কাজে বাংলা টাইপ করার দরকার হয়। এ জন্য আছে বিভিন্ন লে-আউটে বাংলা লেখার অ্যাপ। বিস্তারিত জানাচ্ছেন হাবিব তারেক

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



মোবাইলে বাংলা লেখার সহজ পাঠ

মডেল : আইরিন ছবি : শেখ হাসান

স্মার্টফোনে বাংলায় কিছু লেখার দরকার হলে আমরা ইংরেজি হরফেই বাংলা শব্দগুলো লেখি। যেমন : Kemon achen? এভাবে লিখতে গেলে অনেক সময় একই কথায় ভিন্ন ভিন্ন অর্থ প্রকাশ পায়। বিপত্তিও ঘটতে পারে। তাই বাংলা কথা বাংলা হরফে লেখাই ভালো। এর জন্য অ্যাপস্টোরে আছে সহজে বাংলা লেখার বহু অ্যাপ। আবার অ্যাপ ছাড়া যাতে বাংলা লেখা যায়, এর জন্য ইংরেজির পাশাপাশি বিল্টইন বাংলা কি-বোর্ডও রাখা হয়েছে মোবাইল অপারেটিং সিস্টেমগুলোর (অ্যানড্রয়েড, উইন্ডোজ মোবাইল) সাম্প্রতিক সংস্করণগুলোতে।

 

বাংলা লেখার অ্যাপ

অ্যাপস্টোরগুলোর মধ্যে অ্যানড্রয়েড উপযোগী করে তৈরি করা বাংলা অ্যাপের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। অন্যান্য অপারেটিং সিস্টেমের জন্যও কিছু অ্যাপ আছে। জনপ্রিয় অ্যাপগুলোর মধ্যে আছে রিদ্মিক, মায়াবী, বিজয়। এসব অ্যাপ ইনস্টল করা যাবে কোনো রকম খরচ ছাড়াই।

 

রিদমিক

অ্যানড্রয়েড সেট থেকে গুগল প্লে স্টোরে (play.google.com) গিয়ে Ridmik Keyboard লিখে সার্চ দিলেই পাওয়া যাবে।

সেখান থেকে ইনস্টল করুন। এরপর সেটের সেটিংস অপশনে যান। ‘ল্যাংগুয়েজ ও কি-বোর্ড’ অংশে গিয়ে রিদমিক কি-বোর্ড সচল (Enable) করুন। এরপর মেসেজ কিংবা লেখালেখি বা ইনপুটের যেকোনো ফিল্ডে গিয়ে কিছু টাইপ করতে গেলে ‘ইনপুট মেথড’-এ গিয়ে কি-বোর্ড বাংলা (রিদমিক কি-বোর্ড) কিংবা ইংরেজি (ইন্টারন্যাশনাল কি-বোর্ড) বাছাই করা যাবে। রিদমিক ইনস্টলের আগে যদি মায়াবী বা অন্য কোনো বাংলা কি-বোর্ড বা লেখার অ্যাপ ইনস্টল করা থাকে, তাহলে সেগুলো আনইনস্টলের দরকার নেই।

অ্যাপটিতে লেখার ধরনে ভিন্নতা আনতে আছে কয়েকটি ডিজাইনের কি-বোর্ড থিম। সেটিংসে গিয়ে ওয়ার্ড সাজেশন ও অটোকমপ্লিট, ক্যাপিটালাইজেশন সচল করা যাবে। যাতে কোনো ভুল শব্দ লিখলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঠিক হয়। চাইলে কি-বোর্ডে প্রতিটি কি চাপলে ভাইব্রেশনও পাওয়া যাবে।

রিদমিক কি-বোর্ডের লে-আউট তিন ধরনের—ডিফল্ট ইংরেজি, ফোনেটিক বাংলা ও ইউনিজয়। স্পেস বারে প্রেস করে ডান দিকে বা বাম দিকে হালকা টানলে (সোয়াপ) এসব লে-আউটের মধ্যে পছন্দেরটি বাছাই করা যাবে। ‘কি-বোর্ড লে-আউট’ মানে কি-বোর্ডের অক্ষর কাঠামো। কোন অক্ষর কোন পাশে, কোন কোন কি (key) চাপলে কোন অক্ষর আসবে, তা লে-আউটে নির্ধারিত থাকে। বাংলায় বর্ণমালা ইংরেজির চেয়েও বেশি। অপারেটিং সিস্টেমগুলোর কি-বোর্ডে ইংরেজি বর্ণমালার সংখ্যা বিবেচনা করে কি-বোর্ড লে-আউট তৈরি করা হয়। এসব কি-বোর্ডে যখন অ্যাপ বা বিল্টইন অপশনের মাধ্যমে বাংলায় টাইপ করা হয়, তখন অনেক অক্ষর পর্দায় দেখা যায় না। তখন কোনো অক্ষর চাপ দিয়ে ধরে রাখলে ওই কি’র বিকল্প অক্ষর এবং শিফট চাপলে আরো কিছু অক্ষর আসবে। তার পরও বেশ কিছু অক্ষর বাদ পড়ে যায়। কোন কি চাপলে কোন অক্ষর আসবে, তা অ্যাপগুলোর নির্দেশনা বা কি-বোর্ড লে-আউট খেয়াল করলে পাওয়া যাবে। অ্যাপ নির্মাতারা সাধারণত জনপ্রিয় লে-আউটগুলো অনুসরণ করে অ্যাপ তৈরি করেন। ফলে ব্যবহারকারী এক অ্যাপ ছেড়ে অন্য অ্যাপ ব্যবহার করলেও লে-আউট কমন থাকায় লেখালেখিতে সমস্যা হয় না।

যাঁরা প্রচলিত কি-বোর্ড লে-আউটের কোন অক্ষর কোন কি-তে মনে রাখতে পারেন না, তাঁদের জন্য সহজ সমাধান ফোনেটিক পদ্ধতিতে টাইপ করা। আমরা সাধারণত বাংলা কথা ইংরেজি বর্ণ দিয়ে যেভাবে লিখি, ফোনেটিকে সেভাবেই টাইপ করলে তা বাংলায় পরিবর্তন হবে।

যেমন—‘bangla’ টাইপ করলে তা পরিবর্তিত হয়ে ‘বাংলা’ হয়ে যাবে। আর যদি একই রকম একাধিক শব্দ থাকে, তাহলে টাইপ করার সময় সেগুলো দেখাবে; তখন যেটা দরকার সিলেক্ট করা যাবে। যেমন : pari টাইপ করলে দেখাবে—পারি/পাড়ি

রিদমিক ইনস্টল করতে ক্লিক করুন- https://play.google.com/store/apps/details?id=net.hasnath.android.keyboard

 

কি-বোর্ড লে-আউট

ব্যবহারকারী যেভাবে কিভাবে লিখে অভ্যস্ত, তার ওপর নির্ভর করছে কি-বোর্ড-লে-আউট বা লেখার অক্ষর কাঠামো। প্রচলিত লে-আউট সম্পর্কে ধারণা না থাকলে বা বাংলা লেখায় অভ্যস্ত না হলে ফোনেটিক পদ্ধতিই সহজ। সাধারণ আমরা ইংরেজি অক্ষরে টাইপ করে যেভাবে বাংলা কথা প্রকাশ করি, সেটাই ফোনেটিক। তবে পার্থক্য হচ্ছে, এখানে ফোনেটিক পদ্ধতিতে টাইপ করলে আউটপুট বাংলায় রূপান্তর হবে।

যেমন : Ami Bangladeshi টাইপ করলে আউটপুট হবে ‘আমি বাংলাদেশি’। ফোনেটিক লে-আউট সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে অ্যাপস্টোরে থাকা অ্যাপগুলোর প্রিভিউ বা ইনফরমেশন অংশে। ফায়ারফক্স অপারেটিং সিস্টেমের স্মার্টফোনে বিল্টইন অবস্থায় আছে দুটি বাংলা কি-বোর্ড লে-আউট।

 

বিজয় বাংলা

কম্পিউটারে বাংলা লেখার সবচেয়ে জনপ্রিয় সফটওয়্যার বিজয়। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ‘বিজয় বাংলা’ স্মার্টফোন (অ্যানড্রয়েড) উপযোগী সংস্করণ গুগল প্লে-তে উন্মুক্ত করা হয়।

ব্যবহারকারীরা বিনা মূল্যেই ইনস্টল করতে পারবে অ্যাপটি। ইনস্টল করার পর অ্যানড্রয়েড ডিভাইসের সেটিংস অপশনের Language & Input-এ গিয়ে Bijoy keyboard সিলেক্ট করলে বাম পাশে একটি টিকচিহ্ন দেখা যাবে। এটি সচল করলেই বাংলা লেখা যাবে।

ইনস্টল লিংক- https://play.google.com/store/apps/details?id=bijoy.keyboard

 

মায়াবি কি-বোর্ড

সহজে বাংলা লেখার অ্যাপগুলোর একটি মায়াবি (Mayabi keyboard)। অ্যানড্রয়েড সেটের জন্য গুগল প্লে থেকে ফ্রি ইনস্টল করেই ব্যবহার করা যাবে। ইনস্টল করার পর সেটিংস অপশনের ল্যাংগুয়েজে গিয়ে মায়াবি কি-বোর্ড নির্বাচন করলেই বাংলা লেখার অপশন সচল হবে। এই কি-বোর্ডে বাংলার পাশাপাশি ইংরেজিতেও টাইপ করা যায়। তবে ডিফল্ট হিসেবে সব সময় ইংরেজি নির্ধারণ থাকে। যখন বাংলা লেখার দরকার হবে তখন শুধু বাংলা অপশনটি চালু করে নিলেই হবে। অ্যাপটির বৈশিষ্ট্য হলো—ফোনেটিক পদ্ধতিতে বাংলা লেখা যায়, প্রচলিত অক্ষর ছাড়াও বেশ কিছু চিহ্ন আছে, যা টেক্সটে ইনপুট করা যায়।

 

আইফোনে বাংলা

আইফোনের অপারেটিং সিস্টেমের (আইওএস) সাম্প্রতিক সংস্করণে বাংলা যুক্ত আছে। বাংলা লিখতে চাইলে সেটিংসের ল্যাংগুয়েজে গিয়ে ভাষা ঠিক করে দিতে হবে।

আইফোনের পাশাপাশি আইপ্যাডেও বাংলা ব্যবহার করা যাবে। বিল্টইন এই লে-আউট মনমতো না হলে অ্যাপল স্টোর থেকে রিদমিক কি-বোর্ড ইনস্টল করতে পারেন। ইনস্টল লিংক :

https://itunes.apple.com/us/app/ridmik-keyboard/id929121891?mt=8

 

মোবাইল থেকে ওয়ার্ডে

ইন্টারনেট নেই, এমন অবস্থায় কেউ যদি বাংলায় বড়সড় টেক্সট লিখে এসএমএস করে স্মার্টফোনে পাঠায়, তাহলে টেক্সটটিকে কপি করে মাইক্রোসফট (এমএস) ওয়ার্ড ফাইলে পেস্ট করা যাবে। স্মার্টফোনে এমএস ওয়ার্ড বা এ ধরনের অ্যাপ সাধারণত ইনস্টল অবস্থায় থাকে, না থাকলেও ফ্রি ডাউনলোড করা যাবে অ্যাপস্টোর থেকে—goo.gl/79nWiM


মন্তব্য