kalerkantho


মোবাইল গেইম

গেইমে অ্যাপে দেশের স্বাধীনতা

গেল স্বাধীনতার মাস। বাংলাদেশের স্বাধীনতা নিয়ে তৈরি হয়েছে একাধিক মোবাইল গেইম। কিছু অ্যাপে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন তথ্য ও দলিল। এগুলো নিয়ে লিখেছেন ইমরান হোসেন মিলন

২ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



গেইমে অ্যাপে দেশের স্বাধীনতা

মুক্তিযুদ্ধ ৭১ : অগ্নিঝরা দিনের ইতিহাস

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাত। ঢাকার ঘুমন্ত নিরীহ মানুষের ওপর অতর্কিত আক্রমণ করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। আগুনে পুড়তে থাকে রাতের ঢাকা। ভারী বোমার আওয়াজ, মেশিনগানের গুলির শব্দে ঘুম থেকে জেগে উঠে শহুরে মানুষ। পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে রাজারবাগ পুলিশ লাইনের ঘরবাড়ি ও মানুষ। এরই মধ্যে হানাদারদের প্রতিরোধ করতে রাইফেল তাক করে এগিয়ে যাচ্ছেন দু-একজন করে। গুলি চালাচ্ছেন গাছের আড়াল থেকে। লুটিয়ে পড়ছে শত্রুসেনার দেহ।

এমন ঘটনা নিয়ে তৈরি হয়েছে মোবাইল গেইম ‘মুক্তিযুদ্ধ ৭১’। শুধু যুদ্ধ নয়, গেইমটির মধ্যে ফুটে উঠেছে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। কিছু দিনক্ষণ ও স্থান ধরে গেইমটি তৈরি হয়েছে।

তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অনুদানে গেইমটি তৈরি করছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটারবিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী সাখাওয়াত হোসেন। গেইমটি তৈরিতে তাঁর তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হানিফ সিদ্দিকী। ১৪ লেভেলের গেইমটিতে যুদ্ধ করতে হবে ১১টি সেক্টরে। পাশাপাশি চালাতে হবে তিনটি বিশেষ অভিযান। অভিযানগুলো সফলভাবে শেষ করতে পারলেই মুক্তিযোদ্ধা পাবেন গাজির মর্যাদা।

গেইমটির পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ বাজারে আসে এ বছরের ২৬ মার্চ। উন্নত এনিমেশন, সাউন্ড আর গ্রাফিকসের গেইমটি তৈরিতে প্রোগ্রামিং ভাষা হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে সি শার্প ও জাভা স্ক্রিপ্ট।

ম্যাক, লিনাক্স, অ্যানড্রয়েড, আইফোন ও উইন্ডোজ ফোনে গেইমটি খেলা যাবে বলে জানিয়েছে নির্মাতা সূত্র।

https://play.google.com/ store/apps/details?id=com. MidDayDreams. muktijudhdho71 থেকে অ্যানড্রয়েড সংস্করণ ডাউনলোড করা যাবে।

লিবারেশন ৭১

মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে তৈরি আরেক গেইম ‘লিবারেশন ৭১’। ২০১৪ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে গেইমটি উন্মুক্ত করে ‘টিম ৭১’।

১৯৭১-এর যুদ্ধের পটভূমি নিয়ে তৈরি। এটি ফার্স্ট পারসন শ্যুটার গেইম। মূল চরিত্র মুক্তিযোদ্ধার। রয়েছে মোট ১৬টি মিশন। শুরু ২৬ মার্চ আর শেষ ১৬ ডিসেম্বর। গেইমটি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে ‘ক্রাই ইঞ্জিন-থ্রি’ প্রোগ্রামিং ইঞ্জিন।

টিম-৭১ দলের সদস্য ৪০ জন। তরুণ প্রজন্মের কাছে দেশের মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস পৌঁছে দিতে এবং তাদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের সত্যিকার চেতনা জাগিয়ে তোলার লক্ষ্যে গেইমটি তৈরি করা হয়েছে বলে জানান সদস্যরা।

http://liberation71.com পড়স থেকে গেইমটি ডাউনলোড করে বিনা মূল্যে খেলা যাবে।

হিরোজ অব ৭১

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তৈরি মোবাইল গেইমের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ‘হিরোজ অব ৭১’। বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদের যুদ্ধকালীন একটি ঘটনা নিয়ে কাল্পনিক গল্পের মিশেল ঘটিয়ে গেইমটি তৈরি করা হয়েছে। গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে উন্মুক্ত হয় গেইমটি। তৈরি করেছে দেশীয় প্রতিষ্ঠান ‘পোর্টব্লিস’।

‘হিরোজ অব ৭১’-এ রয়েছে ১৬টি লেভেল। খেলা যাবে তিনটি চরিত্র নিয়ে। অস্ত্র ও দক্ষতা ব্যবহার করে নিজেদের ক্যাম্প রক্ষা করতে হবে গেইমারকে।

প্রথম লেভেলে অল্পসংখ্যক পাকিস্তানি সেনা আসবে। লেভেল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেনার সংখ্যা বাড়তে থাকবে। বাড়বে নৃশংসতার মাত্রাও। প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে ১৬টি লেভেল খেলতে পারলেই ক্যাম্প রক্ষা করা যাবে।

অ্যানড্রয়েড সংস্করণে খেলা যাবে গেইমটি। গুগল প্লেস্টোরের https://play.google.com/store/apps/details?id=com.portbliss.ho71  থেকে ডাউনলোড করা যাবে।

এরই মধ্যে গেইমটি প্রায় চার লাখবার ডাউনলোড হয়েছে।

‘হিরোজ অব ৭১’-এর সিক্যুয়াল ‘রিটেলিয়েশন’ আসে এ বছরের ২৬ মার্চ। আগের পর্বের শেষ থেকে শুরু এর কাহিনী। এই পর্বের কাহিনীতে, বরিশালের শনিরউল্লার হাটের পাকিস্তানি টর্চার ক্যাম্পে কয়েকজন নারীকে অপহরণ করে বন্দি করে রাখা হয়েছে। এদের উদ্ধার করতে প্রস্তুত হচ্ছে শামসু বাহিনী। ঘটনাচক্রে তাদের সঙ্গে পরিচয় হয় অনিলার। শামসু বাহিনীতে যোগ দেয় সে। খালের ওপরে থাকা পাকিস্তানি কনভয়ে ব্যবহৃত একটি ব্রিজ উড়িয়ে দিতে এগিয়ে যায় তারা। কিন্তু শামসু বাহিনীর অবস্থান জেনে যায় পাকিস্তানি সেনারা। শামসু বাহিনীর সামনে একটাই পথ—মরো নয়তো মারো।


মন্তব্য