kalerkantho


আলোকের এই ঝরনাধারায়

... আমি থাকি হায় অকর্মণ্য দাম্ভিকের অক্ষম ঈর্ষায়

আলী যাকের

১২ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০



... আমি থাকি হায় অকর্মণ্য দাম্ভিকের অক্ষম ঈর্ষায়

আজকের লেখাটি শুরু করছি একটি মজার গল্প দিয়ে। গল্পটি বহুল প্রচারিত।

অতএব পাঠক, আপনি যদি একাধিকবার এই গল্প শুনে থাকেন, তাহলে নিজ গুণে ক্ষমা করে দেবেন। কোনো এক শহরে দুই প্রতিবেশী একে অন্যকে দুই চোখে দেখতে পারতেন না। সব ব্যাপারেই এক প্রতিবেশী ছিল অন্যজনের বিষয়ে সমালোচনামুখর। এই সমালোচনা তাঁদের নিজস্ব যোগ্যতার মাপকাঠি ছাড়িয়ে তাঁদের বংশধরদের ওপরও বিস্তৃত ছিল। আমরা গল্পের স্বার্থে ধরে নিই, এঁদের একজনের নাম বজলু। আরেকজনের নাম ফজলু। এঁরা দুজন পাশাপাশি বাস করে আসছেন বহু বছর ধরে। যখন তাঁরা এই পাড়ায় বাস করতে এসেছিলেন, তখন তাঁদের সন্তানেরা ছিল শিশু। ক্রমে তারা পরিণত বয়সে পৌঁছায় এবং শত্রুর মুখে ছাই দিয়ে উভয়ের সন্তানেরা সর্ব বিষয়ে বেশ কৃতিত্ব অর্জন করে। এই দুজনেরই প্রথম সন্তান মেয়ে। এরই মধ্যে বজলু সাহেবের মেয়ের বিয়ে ঠিক হয়। তিনি তাঁর প্রথম সন্তানের বিয়ের ব্যবস্থা করেন খুবই ধুমধামের সঙ্গে। শহরের শ্রেষ্ঠ হোটেলে অনুষ্ঠানাদির বন্দোবস্ত করা হয়। বিয়ের দিন বজলু সাহেব তাঁর সব আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী, বন্ধু-বান্ধবকে নিমন্ত্রণ জানান। বলা বাহুল্য, এই নিমন্ত্রণ থেকে ফজলু সাহেবও বাদ পড়েননি। অনুষ্ঠানের দিন সন্ধ্যায় ফজলু সাহেব দাওয়াত রক্ষা করতে তাঁর আরেক বন্ধু মজনু সাহেবকে সঙ্গে নিয়ে বিবাহ আসরে উপস্থিত হন। যথারীতি অতি সুন্দরী বাচ্চা মেয়েরা তাঁদের ক্ষীরের মোয়া এবং লাল গোলাপ দিয়ে অভ্যর্থনা জানায়। তারপর সঙ্গে নিয়ে গিয়ে অতি যত্ন করে নির্দিষ্ট স্থানের আসন গ্রহণ করার অনুরোধ করে। এরপর চর্ব-চোষ্য-লেহ্য-পেয় সমভিব্যাহারে একটি অত্যন্ত উদরগ্রাহী নৈশভোজে অংশগ্রহণ করেন তাঁরা। আহারান্তে ফজলু ও মজনু সাহেব সুগন্ধি পান চিবোতে চিবোতে বিয়ের আসর থেকে বেরিয়ে আসেন। তারপর দুজনের মধ্যে কথোপকথন চলে এই রকম :

মজনু : বিয়ের আসরের সাজগোজ ভারি সুন্দর ছিল।

ফজলু : হ্যাঁ, অভ্যর্থনাও ছিল সুন্দর।

মজনু : শামি কাবাবটা খুবই ভালো ছিল।

ফজলু : রোস্টটাও।

মজনু : আর কাচ্চি বিরিয়ানি?

ফজলু : অসাধারণ।

মজনু : সবশেষে শাহি টুকরাও জিভে লেগে থাকার মতো।

ফজলু : এরপর বিদায়ের সময় ভদ্রতার মাত্রাটা দেখলে? অসাধারণ।

মজনু : হ্যাঁ, কোনো বিষয়েই খুঁত রাখেননি বজলু সাহেব। সব কিছুই খুব ভালো ছিল।

ফজলু : হ্যাঁ, সব কিছুই। তবে...

মজনু : তবে?

ফজলু : তবে এত ভালো ভালো নয়।

দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে এই পরশ্রীকাতরতা আমাদের সমাজের প্রায় সর্বত্র বিদ্যমান। আমরা কখনোই প্রাণ খুলে কারো সম্পর্কে প্রশংসা করতে পারি না। শুধু প্রশংসা কেন, কোনো মানুষের কৃতকর্মের যথাযথ স্বীকৃতি দিতেও আমরা কণ্ঠাবোধ করি। এর কী কারণ তা আমি বলতে পারব না। এবং তা বলার জন্য এই লেখা নয়। ওই কাজটি সমাজবিজ্ঞানীদের। হতে পারে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সময় আমরা ঔপনিবেশিক শাসনের মধ্য দিয়ে গেছি বলেই এই মানসিকতার সৃষ্টি। সে যা হোক, সত্য এই যে আমরা ক্ষুদ্র স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য সত্য বলতে দ্বিধাগ্রস্ত হই।

একটা ব্যাপার লক্ষণীয় যে আমাদের এই যে পরশ্রীকাতরতা, তা যদিও আমাদের সমাজে মাইক্রো লেভেলে অর্থাৎ অণুপর্যায়ে শুরু হয়, এর ছায়া কিন্তু সমাজের সর্বত্র একধরনের অস্থিরতার সৃষ্টি করে। এক পক্ষ কোনো কাজ করলে প্রতিপক্ষ ভাবে তার বুঝি হার হয়ে গেল। ফলে কোনো যুক্তি থাকুক বা না থাকুক কেউ কোনো একটা কাজ সূচারুভাবে সম্পন্ন করলে তার বিরোধিতা করে যুক্তিহীন একটি বিতর্ক করা আমাদের সহজাত প্রবৃত্তি। এটা দলমত-নির্বিশেষে সবার বেলায় প্রযোজ্য। এই যে পরশ্রীকাতরতা এটি শুধু ব্যক্তিগত পর্যায়ে যদি সীমাবদ্ধ থাকত, তাহলেও একটা কথা ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে এই ধরনের মনোবৃত্তি ব্যক্তি বা সমাজকে ছাড়িয়ে দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতেও বিস্তৃতি লাভ করেছে। চারটি তাত্পর্যপূর্ণ ঘটনা আমাদের জাতীয় জীবনে পর পর ঘটেছে সম্প্রতি, যার উল্লেখ আমার ওপরের বক্তব্যকে জোরদার করবে বলে আমি মনে করি।

এক. একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে পরিবেশ নিয়ে এই প্রথমবারের মতো অত্যন্ত তাত্পর্যপূর্ণ আলোচনা সংঘটিত হয়েছে। যেসব দেশ তাদের নিঃসৃত কার্বন দ্বারা সমগ্র মানবজাতিকে এক ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন করেছে, সেসব দেশ দরিদ্রতর এবং দুর্বল দেশ ও জাতির আবেদন-নিবেদনে প্রথমবারের মতো কার্যকর সাড়া দিয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোও বাংলাদেশ, মালদ্বীপ, নেপালের মতো ক্ষুদ্র দেশগুলোর বিপদের প্রতি সংবেদনশীল হয়ে একটি কার্যকর সমাধানের দিকে অগ্রসর হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। আমরা সবাই জানি যে একটি সম্মেলনে এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ এবং সর্বব্যাপী সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে প্রক্রিয়াটির শুরু হতে হবে। সেই ঘটনাটি ঘটল কোপেনহেগেনে। সামনের বছর মেক্সিকোতে বিষয়টি একটি কার্যকর সিদ্ধান্তের দিকে আরো একধাপ এগিয়ে যাবে বলে সবার বিশ্বাস।

দুই.

আমরা সবাই অবগত আছি যে বাংলাদেশের মানুষ যখন পাকিস্তানিদের দ্বারা বর্বরোচিত আক্রমণের শিকার হয়েছিল এবং আমাদের প্রতিবেশী ভারতে এক কোটিরও বেশি বাঙালি আশ্রয় গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছিল, তখন ভারত এসব দুর্গত মানুষকে শুধু আশ্রয় প্রদানই করেনি, তাদের নানাবিধ জাগতিক প্রয়োজন নিরসনে সচেষ্ট হয়েছিল এবং পরবর্তী সময় পরোক্ষভাবে বাঙালির মুক্তিযুদ্ধে সব ধরনের সহায়তা প্রদান করেছিল। যুদ্ধের শেষভাগে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করার পর ভারতের সেনাবাহিনী মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আমাদের দেশ স্বাধীন করার জন্য প্রত্যক্ষ সমরে অংশগ্রহণ করেছে। এই যুদ্ধে হাজারো ভারতীয় সেনা আত্মদান করেছে এই বাংলাদেশের মাটিতে। কিন্তু এ সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার পর ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্ক শীতল হয়ে যায়। এর পেছনে হয়তো কিছু রাজনৈতিক কারণ আছে। তবে মূলত যে কারণে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়, সেই পাকিস্তানি চেতনা আবারও ভারতকে আমাদের শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করেছে। লক্ষণীয় যে আমাদের দেশের তিন দিকেই ভারতের অবস্থান। এটাই স্বাভাবিক ছিল যে আমাদের সরকার ভারতের সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে সব ভুল-বোঝাবুঝির অপসারণ করবে। এ কাজটি বঙ্গবন্ধু পরবর্তী সরকারগুলো করেনি। পাকিস্তানি আদলে ভারত আমাদের শত্রু—এ ধরনের একটি মনোভাব সর্বদাই তাদের থলের ভেতরে রেখে দিয়েছে। যখনই আমরা আমাদের দেশে গণতান্ত্রিক, রাজনৈতিক অধিকারের কথা বলেছি, তখনই ওই পাকিস্তানমনস্ক সরকারগুলো থলে থেকে বের করে এনেছে ভারতভীতির জুজু। এ বৈকল্য এক অদ্ভুত পাকিস্তানি মানসিকতা। এখন যে পাকিস্তান প্রায় অন্তিম অবস্থায় উপনীত, তবুও তারা কথায় কথায় তাদের অধিবাসীদের দেখায় ভারতীয় জুজুর ভয়। যাহোক, এই পরিস্থিতি থেকে বাংলাদেশের বেরিয়ে আসার অত্যন্ত প্রয়োজন ছিল। অতি সম্প্রতি এ বিষয়ে বর্তমান সরকার একটি বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যদিও পাকিস্তানিমনস্ক বিরোধী কিছু দল আবারও তাদের সহজাত ভারতবিদ্বেষী কথা বলছে, তবুও বাংলার জনসাধারণ এই কথা এখন আর বিশ্বাস করছে না। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনের আগে বলা হয়েছিল যে ভারতীয় আদেশ-নির্দেশে আমাদের দেশে আজানের পরিবর্তে উলুধ্বনি শোনা যাবে। বলা হয়েছিল, পাবর্ত্য চট্টগ্রাম থেকে ফেনী পর্যন্ত ভারতকে দাসখত লিখে দিয়ে দেওয়া হবে। বলা হয়েছিল, ভারতের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাক্ষরিত ২৫ বছরের বন্ধুত্ব চুক্তি আমাদের সার্বভৌমত্ববিরোধী। আমাদের দেশের মানুষ দেখেছে যে আজানের বদলে উলুধ্বনি পরিবর্তিত হয়নি, পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে ফেনী পর্যন্ত ভারতকে দিয়ে দেওয়া হয়নি এবং বঙ্গবন্ধু কৃত সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দেওয়া ওই চুক্তি বাতিল করার কোনো প্রচেষ্টাই বিএনপি সরকার নেওয়া প্রয়োজন মনে করেনি। অতএব এখন এটা প্রমাণিত সত্য যে ভারতের সঙ্গে একটা সম্মানজনক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেই আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

তিন.

আমাদের দেশের সবাই জানে যে বঙ্গবন্ধু, তাঁর পরিবারের সদস্যরা ও জেলখানায় চার জাতীয় নেতার হত্যা ছিল একটি হীন চক্রান্ত। আমি এর আগেও লিখেছি, ‘হত্যাই খুলে দেয় হত্যার দরজা। ’ এই হত্যার কোনো বিচারকাজ ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার আগে পর্যন্ত শুরু করা হয়নি। হত্যাকারীদের পুনর্বাসিত করেছিল বিএনপি সরকার। তাদের বিভিন্ন দেশে আমাদের দূতাবাসগুলোতে দূতিয়ালির চাকরি প্রদান করা হয়েছিল। অর্থাৎ খুনিরা বহাল তবিয়তেই ছিলেন। ১৯৯৬ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে প্রথাসিদ্ধভাবে এই জঘন্য অপরাধের বিচারকাজ শুরু করে। সেই বিচারকাজের মাধ্যমে হত্যাকারীদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়, যা কার্যকর করা সম্ভব হলো এত বছর পরে, ২০১০ সালে। আশা করা যাচ্ছে যে প্রতিটি অনিয়মতান্ত্রিক বিষয়ের বিরুদ্ধে এভাবে নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সম্ভব হবে। অপরাধী আর বিচারের আওতার বাইরে থাকবে না।

চার.

বঙ্গবন্ধু হত্যার পর আমাদের পবিত্র সংবিধান পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে বিকৃত করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় যে আদর্শ এবং মূল্যবোধের জন্য অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিলাম, যেই যুদ্ধে ৩০ লাখ মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হয়েছিলেন, অসংখ্য নারী সম্ভ্রম হারিয়েছিলেন, সেই আদর্শ ও মূল্যবোধ বিধৃত সংবিধানকে অপবিত্র করা হয়। একটি এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় যে বঙ্গবন্ধুকে হত্যাকারী মানুষগুলোর বিচার করা যাবে না। শুধু তা-ই নয়, এই পঞ্চম সংশোধনী দ্বারা ১৯৭৫ সালে সংঘটিত সব বর্বরোচিত ঘটনাকে বিচারবহির্ভূত রাখার বন্দোবস্ত গ্রহণ করা হয়েছিল। এই হুকুমকে বলা হতো ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার জাতীয় সংসদে প্রথাসিদ্ধভাবে এই অর্ডিন্যান্স বাতিল করে এবং পঞ্চম সংশোধনীকে বাতিল করা হয় এ বছর বাংলাদেশের উচ্চতর আদালতের নির্দেশবলে।

আমি এসব বিষয়ে একাধিকবার লিখেছি। তবুও আরেকবার এসব বিষয়ে আলোকপাত করার প্রয়োজন অনুভব করছি এই কারণে যে উল্লিখিত চারটি পদক্ষেপের পক্ষে যখন বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণ রায় দিয়েছে তখনো আমাদের বিরোধী দল এ বিষয়ে কোনো উচ্চবাচ্য করছে না। অথচ এটাই আশা করা গিয়েছিল যে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় যে রাজনৈতিক দল বিশ্বাস করে সে রাজনৈতিক দল অনিয়ম ও আইনবিরোধী সব অবস্থার বিরুদ্ধে স্বভাবতই তাদের রায় প্রদান করে। বিশ্বের সর্বত্র ক্ষমতাসীন দল এবং বিরোধী দলের মধ্যে নানা বিষয়ে মতবিরোধ থাকে। এবং তা থাকতেই পারে। কিন্তু আইনসিদ্ধ মৌল বিষয়গুলোতে যে সিদ্ধান্ত আদালত অথবা সংসদ গ্রহণ করে সে বিষয়ে ক্ষমতাসীন দল এবং বিরোধী দল উভয়ে সব মতবিরোধের ঊর্ধ্বে গিয়ে সমর্থন প্রদান করে। এটাই গণতন্ত্র চর্চার সবচেয়ে উজ্জ্বল দিক। অথচ আমাদের দেশে বিরোধী দল ক্ষমতাসীনদের যেকোনো উদ্যোগকে সমর্থন দেয় না, এটি শুধু গর্হিত অন্যায় নয়, গণতন্ত্রবিরোধী একটি অবস্থানও বটে। তাহলে কি আমরা ধরে নেব যে বাংলাদেশে সব অপকর্মের প্রতি আজকের বিরোধী দলের সহযোগিতা ছিল এবং সমর্থন রয়েছে? তা না হলে তারা চুপ কেন? কিসের লজ্জা বা সংকোচ? কাজগুলো কি আরো ভালো হতে পারত না? আকারে-ইঙ্গিতে অবশ্য তারা এমত ধারণাই দিয়েছে।

তাদের নিস্তব্ধতা দেখে মনে হয় রবীন্দ্রনাথের কণিকা থেকে ধার করে বলি :

‘যথাসাধ্য ভালো বলে, ওগো আরো ভালো,

কোন স্বর্গপুরি তুমি করে থাক আলো?

আরো-ভালো কেঁদে কহে, আমি থাকি হায়

অকর্মণ্য দাম্ভিকের অক্ষম ঈর্ষায়’

 

লেখক : সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব


মন্তব্য