kalerkantho


একটি নির্বাচনমুখী অর্থবহ সংলাপ চাই

গাজীউল হাসান খান

৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



একটি নির্বাচনমুখী অর্থবহ সংলাপ চাই

এ কথা অনস্বীকার্য যে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য একটি অত্যন্ত নিরপেক্ষ, সাহসী ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন প্রয়োজন। আমাদের নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে অতীতে বহু কথা উঠেছে।

তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে কোনো নির্দিষ্ট দল বা ক্ষমতাসীন সরকারের পক্ষে কাজ করার দায়ে। সত্য-মিথ্যা প্রমাণ হওয়ার আগেই যার যেভাবে সুবিধা নির্বাচনের সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বিভিন্ন কারচুপি কিংবা অনিয়মকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে থাকে। আমাদের দেশে এটিও নির্বাচনী কর্মকাণ্ডের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়ে গেছে। আমাদের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিরই প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য কমিশনারদের নিয়োগ দেওয়ার কথা। তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (বিদায়ী) হিসেবে কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ ও তাঁর নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনের অন্য কমিশনারদের নিয়োগ দেওয়ার আগেও একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে এবারই প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রপতি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বঙ্গভবনে মতবিনিময় করেছেন। গত ১৮ ডিসেম্বর থেকে এ বছরের ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আবদুল হামিদ মোট ৩১টি রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে দেশের ১২তম নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে এক সংলাপে মিলিত হয়েছিলেন। শুধু তা-ই নয়, উল্লিখিত দলগুলো মোটামুটি সবাই নির্বাচন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে বিভিন্ন ব্যক্তির নাম প্রস্তাব করেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও বিশিষ্ট নাগরিকদের প্রস্তাবিত নামের তালিকা থেকে অনুসন্ধান বা ‘সার্চ কমিটি’ সোমবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতির কাছে বাছাই করে মোট ১০টি নাম সুপারিশ করে। সে নামের তালিকা থেকে সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সাবেক সচিব এম নুরুল হুদাকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও সাবেক সচিব রফিকুল ইসলাম, সাবেক অতিরিক্ত সচিব মাহবুব তালুকদার, সাবেক বিচারক বেগম কবিতা খানম ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদৎ হোসেন চৌধুরীসহ চারজনকে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে পাঁচ বছর মেয়াদে নিয়োগ দিয়েছেন।

আর যা-ই হোক, এবারের নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রক্রিয়ায় মহামান্য রাষ্ট্রপতি দেশের সব রাজনৈতিক দলকে সম্পৃক্ত করেছেন। এটি অবশ্যই একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। এতে এ দেশের হতাশাগ্রস্ত রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক ধারার সূচনা হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন। তবে সে ধারা যদি সুষ্ঠুভাবে অগ্রসর না হয়, অর্থাৎ অব্যাহত না থাকে তাহলে সবই হবে পণ্ডশ্রম। একটি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক কিংবা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ৫ জানুয়ারি, ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অংশ নেয়নি। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগপ্রধান শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন প্রস্তাবিত একটি নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচনে যেতে রাজি হয়নি তারা। তাদের ধারণা ছিল, আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী রেখে কোনো নির্বাচনই অবাধ ও নিরপেক্ষ হতে পারে না। বিএনপি ও তার নেতৃত্বাধীন জোটের অনেকে এখনো মনে করে তাদের সেদিনের নির্বাচন বর্জন করার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। তাহলে সংগত কারণেই প্রশ্ন ওঠে, আগামী ৩১ অক্টোবর, ২০১৮ ও ২৮ জানুয়ারি, ২০১৯ সালের মধ্যে জাতীয় সংসদের অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনে তারা অংশগ্রহণ করবে কোন পদ্ধতিতে? তাদের আগের প্রস্তাবিত একটি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক অথবা দলনিরপেক্ষ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, না বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি সর্বদলীয় অন্তর্বর্তীকালীন (নির্বাচনকালীন) সরকারের অধীনে? এ প্রশ্নের ফয়সালা না হলে নির্বাচন কমিশন গঠন তাদের কাছে অর্থহীন হয়ে দাঁড়াতে পারে। সে জন্য এখন থেকেই একটি অর্থবহ আলোচনার সূত্রপাত হওয়া সমীচীন বলে রাজনৈতিক তথ্যাভিজ্ঞ মহল মনে করে। তাতে একদিকে যেমন দেশে বিরাজমান রাজনৈতিক (বিরোধীদলীয়) অচলাবস্থার অবসান ঘটবে, অন্যদিকে দেশের সাধারণ মানুষ আগামী সাধারণ নির্বাচন নিয়ে একটি স্বচ্ছ ধারণা পাবে। এবারের নির্বাচন কমিশন গঠনপ্রক্রিয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। অনেকে মনে করে, এই ধারা গঠনশীলভাবে এগোলে অর্থাৎ একটি সঠিক নির্বাচনী ব্যবস্থা নির্ধারণ করা গেলে সত্যিকার অর্থেই দেশে হয়তো প্রকৃত গণতন্ত্রের সুবাতাস বইতে শুরু করবে। হিংসাত্মক কার্যকলাপ কিংবা আন্দোলনের নামে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপপ্রয়াস কমে আসবে। পাশাপাশি পুলিশি তৎপরতা, গুম, হত্যা ও মিথ্যা মামলার পরিমাণও কমে আসবে বলে আশা করা যায়।

যে দেশে ৩০০ আসনের মধ্যে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় ১৫৪ জন আওয়ামী লীগ ও তার মিত্র সংগঠনের প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে যান, সেখানে নির্বাচন কমিশন থাকা আর না থাকায় প্রভেদ কী? একটি গৃহপালিত বিরোধী দল নিয়ে সরকার পরিচালনা কিংবা দেশে গণতন্ত্রের চর্চা করার কি আদৌ কোনো যুক্তি বা গ্রহণযোগ্যতা থাকতে পারে? বিরোধী দলের আন্দোলনের সময় পেট্রলবোমা নিক্ষেপ কিংবা গাড়ি ভাঙচুরকে কেন্দ্র করে বিএনপির যে প্রবীণ নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে তাকে দেশের নিরপেক্ষ মানুষ কিভাবে পর্যালোচনা করবে? জামায়াতের অভিযুক্ত সন্ত্রাসী রাজনীতি, পেট্রলবোমা নিক্ষেপ ও গাড়ি ভাঙচুর নিয়ে দেশে নিন্দার ঝড় উঠেছিল। বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের রাজনৈতিক গাঁটছড়া বাঁধা নিয়েও যথেষ্ট বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে তাদের নিজ নিজ দলের ভেতরেই। রাজনৈতিক গণজমায়েত থেকে সভা-সমিতির ব্যাপারে তাদের মাঠ উন্মুক্ত করে দিলেই বোঝা যাবে তাদের জনপ্রিয়তা এখন কোন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে আর জনগণ তাদের কাছে কী চায়। রাজনীতিতে বিরোধী দলকে ভয় করলে চলে না। বিরোধী দলকে অপবাদ দিয়ে নয়, রাজনীতিগতভাবেই মোকাবিলা করতে হবে। এ সত্যটি দেশের সর্বপ্রাচীন দল হিসেবে আওয়ামী লীগের চেয়ে বেশি কেউ বোঝে না। সুতরাং ভবিষ্যতের জন্য বিএনপি ও তার নেতৃত্বাধীন শরিক দলগুলোকে তাদের নিজ নিজ রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণ করতে হবে। সব রাজনৈতিক দলকেই নির্ধারণ করতে হবে তারা কিসের জন্য রাজনীতি করে, কাদের নেতৃত্ব দিতে চায় এবং ভবিষ্যতে জাতির ইতিহাসে কোথায় নিজেদের স্থান করে নিতে চায়। একবিংশ শতাব্দীর রাজনীতি এখন আর আগের অবস্থানে নেই। সার্বিক প্রেক্ষাপটে দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে রাজনীতির ক্ষেত্রে কৌশল ও কর্মসূচির। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ দেশের সব রাজনৈতিক সংগঠনকেই সময়োপযোগী গণতান্ত্রিক রাজনীতি চর্চা করতে হবে। তাদের হতে হবে সহনশীল, গঠনশীল ও একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।

বাংলাদেশে কখনোই ধর্মভিত্তিক কিংবা ধর্মীয় মূল্যবোধের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা যাবে না। যদি তা সম্ভব হতো, তাহলে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার এত দিনে তা করে ফেলত। তবে ধর্মীয় মূল্যবোধের রাজনীতি করতে গিয়ে কোনোমতেই সন্ত্রাস কিংবা জঙ্গিবাদকে ডেকে আনা যাবে না। দেশে উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য চাই শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল পরিবেশ। তথাকথিত রাজনীতির নামে তা ধ্বংস করা যাবে না। তবে তার অর্থ এই নয় যে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও উৎপাদনের নামে গণতন্ত্র চর্চাকে কিংবা রাজনৈতিক দলগুলোর আন্দোলনের অধিকারকে অবদমিত করতে হবে। উন্নয়ন গণতন্ত্রের বিকল্প হতে পারে না। আজকাল অনেকে না বুঝেই স্লোগান দিয়ে থাকেন ‘উন্নয়নের গণতন্ত্রে’র নামে। সেটি কী তা কারো কাছেই পরিষ্কার নয়। বর্তমানে সব রাজনৈতিক দলের মধ্যেই ভবিষ্যৎ সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট নেত্রী খালেদা জিয়া গত মাসে তাঁর নিজ দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের ও ভাইস চেয়ারপারসনদের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে সভা করেছেন। তা ছাড়া আওয়ামী লীগ নেতা ও অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক সম্প্রতি বলেছেন, নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে দলের তৃণমূল পর্যায়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমসহ সরকারি দলের অনেক নেতাই এখন সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির কথা বলছেন। সে কারণেই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, এবার নির্বাচন কমিশন গঠনকে কেন্দ্র করে দেশে একটি গণতান্ত্রিক আবহ সৃষ্টি হয়েছে। এতে মহামান্য রাষ্ট্রপতির প্রতি জনগণের সন্তুষ্টির ভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। দেশের বিশিষ্ট নাগরিকসহ সাধারণ মানুষও চেয়েছে আমাদের নির্বাচন কমিশনকে হতে হবে বিতর্কের ঊর্ধ্বে, মেরুদণ্ড হতে হবে সোজা। যাতে চাপ কিংবা হুমকির মুখেও প্রভাবমুক্ত হয়ে তারা তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারে। ১৯৭২ সাল থেকে এ পর্যন্ত সিইসি হিসেবে যাঁরা নিয়োগ পেয়েছেন তাঁদের মধ্যে সাতজন ছিলেন বিচারপতি ও চারজন সাবেক সচিব। তাঁদের মধ্যে ২০০৫ সালের ২০ মে আপিল বিভাগের কর্মরত একজন বিচারপতি, এম এ আজিজ সিইসি হিসেবে নিয়োগ পেলেও ব্যাপক আন্দোলনের মুখে ২০০৭ সালের ২১ জানুয়ারি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। বর্তমান অর্থাৎ নবঘোষিত নির্বাচন কমিশনকে সব ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধি। কারণ সবাই চায় বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হোক একটি কারচুপিমুক্ত অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। বাংলাদেশে গণতন্ত্রের একটি শক্ত ভিত প্রতিষ্ঠিত হোক, এটিই সবার কামনা।

আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এর মধ্যেই বিএনপির ভেতরে ও বাইরে যথেষ্ট রাজনৈতিক আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে। হামলা-মামলা ও জেল-জুলুমের কারণে বিএনপির নেতাকর্মীদের এক বিশাল অংশ এখন রাজনীতির প্রায় বাইরেই বলা চলে। দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান বর্তমানে দেশের বাইরে এবং এরই মধ্যে একটি মামলায় তাঁর সাজা হয়েছে। তদুপরি তাঁর ও দলনেত্রী  খালেদা জিয়ার ওপর এখনো বহু জটিল মামলা ঝুলে আছে। এ অবস্থায় দলের ভেতরে ও বাইরে অনেকে মনে করেন বিএনপির মধ্যে বিকল্প নেতৃত্ব দাঁড় করানো অত্যন্ত আবশ্যক। খালেদা জিয়াকে পেছনে রেখে নির্বাচনে লড়ার জন্য একটি যোগ্য ও বলিষ্ঠ নেতৃত্ব গড়ে তোলা প্রয়োজন। প্রবীণ নেতাদের অনেকেই শারীরিক দিক থেকে অসুস্থ। এবং আরো অনেকে একাধিক মামলা মাথায় নিয়ে রাজনীতিগতভাবে প্রায় নিষ্ক্রিয়। নির্বাচনের সময় তাঁদের কার কী হাল হবে কেউ জানে না। সে কারণেই একটি সত্যিকার নির্বাচনী পরিবেশ ও একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে না পারলে কোনো নির্বাচনই অর্থবহ হবে না। বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সাজানো মামলা প্রত্যাহার ও কারাবন্দিদের মুক্তি দিয়ে সরকারকে প্রথমে একটি গণতান্ত্রিক স্বচ্ছ পরিবেশ তৈরি করতে হবে। হুলিয়া মাথায় নিয়ে বাড়িঘর ছেড়ে যাঁরা নিরুদ্দেশ জীবন যাপন করছেন তাঁদের নির্ভয়ে এলাকায় ফিরে আসার ব্যবস্থা করতে হবে। নতুবা আসন্ন নির্বাচনও ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত ভোটারবিহীন নির্বাচনের মতো প্রহসনে পরিণত হবে। গত নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ২২ শতাংশ। তাতে নির্বাচিত একটি সরকারকে কতটুকু প্রতিনিধিত্বশীল বলা যাবে সেটা নিয়ে তর্ক করে এখন আর কোনো ফায়দা হবে না। সে নির্বাচন থেকে বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার ও বিরোধী দলকে শিক্ষা নিতে হবে। পৃথিবীর বিভিন্ন সংসদীয় গণতন্ত্রের দেশে ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। তবে আমাদের দেশে সরকারের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসযোগ্যতার অভাবেই একটি নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দাবি করা হয়ে থাকে। মানুষ চায় একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও কারচুপিমুক্ত নির্বাচন, যা হবে সর্বাঙ্গীণভাবে নিরপেক্ষ। গত নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর নেতৃত্বে একটি সর্বদলীয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তিনি আশ্বাস দিয়েছিলেন, তাতে বিএনপি স্বরাষ্ট্রসহ অন্য যেকোনো পদ নিতে পারে। নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের (সাময়িক) বিধান সাংবিধানিকভাবেই সংশোধন করে নিয়েছে বর্তমান সরকার। তাতে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে নির্বাচন থামাতে পারেনি বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট। সে অবস্থায় নির্বাচন বর্জন করে এখন সংসদের ভেতরে কিংবা বাইরে কোথাও নেই বিএনপি। কখনো দলীয় কার্যালয়ে আবার কখনো নিজ বাসগৃহে অবরুদ্ধ থেকে দলকে পক্ষান্তরে অনেকটা নিষ্ক্রিয়তার দিকেই ঠেলে দিয়েছিলেন দলনেত্রী। এবারও কি শেষ পর্যন্ত তাই হবে? দলের বিলুপ্তি কিংবা চরম পরিণতি ঠেকাতে হলে অতীতে তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে সরকারের সঙ্গে একটি রাজনৈতিক সমঝোতায় আসতে হবে। কারণ সংবিধান পরিবর্তন কিংবা গণ-অভ্যুত্থান, কোনোটিরই আপাতত কোনো সম্ভাবনা নেই।

এবারের নির্বাচন কমিশন গঠন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে একটি সংলাপের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে। এখন সে রাজনৈতিক সংলাপকে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের স্বার্থে অব্যাহত রাখতে হবে।

 

লেখক : বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) সাবেক প্রধান সম্পাদক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক

gaziulhkhan@gmail.com


মন্তব্য