kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো

সুখের দিনেও চাই সতর্ক জীবনাচার

১৯ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



সুখের দিনেও চাই সতর্ক জীবনাচার

২১. মানুষকে দুঃখ-দুর্দশা স্পর্শ করার পর আমি যখন তাদের অনুগ্রহের স্বাদ দিই তখন তারা আমার আয়াতের বিরুদ্ধে অপকৌশল করে। বলে দাও, ‘আল্লাহ অপকৌশলের শাস্তি দানে সবচেয়ে বেশি তত্পর।

’ তোমরা যে অপকৌশল করো তা আমার ফেরশতারা লিখে রাখে। (সুরা : ইউনুস, আয়াত : ২১)

তাফসির : আগের আয়াতে বলা হয়েছিল, কাফিররা নিত্যনতুন মোজেজা ও অলৌকিক নিদর্শন দাবি করে। আলোচ্য আয়াতে বলা হয়েছে, তারা যে দুঃখ-দুর্দশার মুখোমুখি হয়, এটাই নিদর্শন হিসেবে যথেষ্ট। বিপদে পড়লে অবিশ্বাসীরাও আল্লাহকে ডাকতে থাকে। যখনই বিপদ চলে যায়, তারা আল্লাহকে ভুলে যায়। আল্লাহর বিরুদ্ধাচরণ শুরু করে। একবার মক্কায় প্রচণ্ড খরা ও দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। ফলে ভয়াবহ খাদ্য সংকটে মানুষ দিশাহারা হয়ে পড়ে। এ অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য মহানবী (সা.) দোয়া করেন।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাঁর দোয়া কবুল করেন। এরপর মক্কায় বৃষ্টি হওয়ায় স্বস্তি ফিরে আসে। কিন্তু মুশরিকরা প্রচার করতে থাকে, তাদের দেব-দেবীর কল্যাণে এই বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আলোচ্য আয়াত অবতীর্ণ হয়। ঘটনাটি হাদিস শরিফে এভাবে এসেছে : হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, “কোরাইশরা যখন অব্যাহত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বিরুদ্ধাচরণ করে, তখন তিনি তাদের ওপর দুর্ভিক্ষ আসার জন্য বদদোয়া করেন, যেভাবে দুর্ভিক্ষ এসেছিল হজরত ইউসুফ (আ.)-এর যুগে। অতঃপর তারা কঠিন দুর্ভিক্ষে পতিত হয়। এমনকি দুর্ভিক্ষের কারণে তারা হাড্ডি, মৃত জন্তু আহার করতে শুরু করে। ক্ষুধার তাড়নায় তারা নিজেদের সামনে ধোঁয়া দেখতে থাকে। ...অতঃপর (ওই সময়ের কোরাইশ নেতা) আবু সুফিয়ান রাসুল (সা.)-এর কাছে এসে বললেন, ‘হে মুহাম্মদ! আপনি তো আত্মীয়তা সম্পর্ক বজায় রাখার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। অথচ লোকেরা (না খেয়ে) ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে (এরা তো আপনারই আত্মীয়স্বজন)। সুতরাং আপনি তাদের জন্য একটু দোয়া করুন। ’ তারপর রাসুলুল্লাহ (সা.) তাদের জন্য দোয়া করেন। আল্লাহ তাআলা তাদের থেকে আজাব উঠিয়ে নেন এবং বৃষ্টি অবতীর্ণ করেন। এর পরও কাফিররা আগের অবস্থায় ফিরে যায় এবং (ইসলামের বিরুদ্ধে) অপকৌশল করতে থাকে। আল্লাহর নিদর্শন নিয়ে বিদ্রূপ করতে থাকে। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে শত্রুতা করতে থাকে। ” (বুখারি ও মুসলিম)

পৃথিবীতে মানুষের স্বভাব হচ্ছে, যখন সে বিপদে পড়ে তখন কায়মনোবাক্যে আল্লাহর সাহায্য কামনা করে। কিন্তু যখনই আল্লাহ তাকে অনুগ্রহ করেন, বিপদ-বিপর্যয় দূর করে দেন, তখনই সে আল্লাহকে ভুলে যায়। নানা কৌশল অবলম্বন করতে থাকে। এসব লোক বুঝতে পারে না যে আল্লাহর বিশ্বজনীন পরিকল্পনা রোধের ক্ষমতা এই বিশ্বজগতের কারো নাই। আল্লাহর যা ইচ্ছা তা বাস্তবায়িত হবেই। দেখা যায়, আল্লাহর ক্ষমতার সামনে তাদের সব পরিকল্পনা স্রোতের মতো ভেসে যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন তুমি দেখবে, আল্লাহ তাআলা কোনো লোককে দুনিয়ার প্রয়োজনীয় সব উপকরণ দান করেছেন; কিন্তু সে পাপাচারে অবিচল আছে (তাহলে বুঝতে হবে), এটা তাকে ধীরে ধীরে ধ্বংস করে দেবে। ’ (মুসনাদে আহমাদ : ৪/১৪৫)

তাই সুখের দিনেও চাই সতর্ক জীবনাচার। কেননা বেপরোয়া জীবনযাপন ধ্বংসের পথ ত্বরান্বিত করে।

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য