kalerkantho


বিএনপির কাউন্সিলের কাছে প্রত্যাশা

গাজীউল হাসান খান

১৮ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



বিএনপির কাউন্সিলের কাছে প্রত্যাশা

ছয় বছর পর অনুষ্ঠেয় বিএনপির জাতীয় কাউন্সিলটি বিভিন্ন কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিএনপি ভবিষ্যতে কিভাবে টিকে থাকবে আগামীকালের জাতীয় কাউন্সিল যেন তার একটি সঠিক দিকনির্দেশ দেয়।

এ ক্ষেত্রে ব্যর্থ হলে বিএনপির অস্তিত্ব বিপন্নও হতে পারে। বিএনপি প্রকৃত অর্থে একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিশালী গণসংগঠনে পরিণত হোক

 

বিভিন্ন কারণে বিএনপির এবারের জাতীয় কাউন্সিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। কারণ ১৯৭৮ সালে অর্থাৎ প্রায় ৩৮ বছর আগে গঠিত এ দলটি এর মধ্যে এমন বহুমুখী বিপর্যয়ের সামনে হয়তো আর কোনো দিনই পড়েনি। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রায় ৯ বছরের স্বৈরশাসনামলে দলটির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বহুভাবে পর্যুদস্ত করা হলেও তখন গণতন্ত্রকামী মানুষের উদ্যম ও স্পৃহা ছিল বিস্ফোরণোন্মুখ। দলের নেতৃত্ব নিয়ে ১৯৮৩ থেকেই খালেদা জিয়া দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এক আপসহীন আন্দোলনের সূচনা করেন, যা পরবর্তীতে এরশাদের পতন ঘটায়। জনগণের বিপুল সাড়া ও অংশগ্রহণের মধ্যে সংগঠিত এক বৃহত্তর গণ-আন্দোলনে বিদায় নেয় স্বৈরশাসন। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ১৯৯১ সালে দেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল একটি নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার। প্রতিষ্ঠার পর দলীয়ভাবে পূর্ণাঙ্গ তিন টার্মে মোট ১৪ বছর ক্ষমতায় ছিল বিএনপি।

তা ছাড়া প্রকৃত অর্থে ১৯৮৩ সাল থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৩৩ বছর দলের নেতৃত্বে রয়েছেন খালেদা জিয়া।

গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে তিন দশক এক দীর্ঘ সময়। গণতান্ত্রিক আন্দোলন কিংবা জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে খালেদা জিয়া এর মধ্যেই আপসহীন নেত্রীর অবস্থানে পৌঁছে গেছেন। কিন্তু ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট গঠন ও তার নির্বাচিত সরকারে অর্থাৎ মন্ত্রিসভায় মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী কতিপয় ব্যক্তিকে স্থান দেওয়া নিয়ে বিএনপির ভেতরে ও বাইরে শুরু হয়েছিল এক নীতি ও আদর্শিক বিতর্ক। দলের ভেতরে সে বিতর্ক দৃশ্যত নীরব হলেও ছিল সুস্পষ্ট।

কারণ বিভিন্ন বিবেচনায় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের একটি দল হিসেবে বিএনপি ছিল অনেকটাই চিহ্নিত। রাজনৈতিক স্বার্থে যে যাই বলুক, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানসহ এ দলটির অনেক নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিই ছিলেন স্বীকৃত ও জনপ্রিয় মুক্তিযোদ্ধা। জিয়াউর রহমানের জীবদ্দশায় আজকের অনেক বিতর্কিত বিষয়ই মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি। বিএনপি ছিল একটি মধ্য-ডান উদারনৈতিক গণতান্ত্রিক দল। এর নীতি-আদর্শের সঙ্গে উগ্র ডান, বাম কিংবা মৌলবাদের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না।

সে কারণেই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের কিংবা প্রকৃত অর্থে স্বাধীনতাকামী অনেক প্রগতিশীল ও এমনকি বামঘেঁষা মানুষ শুরুতে বিএনপিতে যোগ দিয়েছিলেন। প্রতিবেশী কিংবা বৃহৎ শক্তি হিসেবে ভারতের আধিপত্য কিংবা আগ্রাসন-সংশয়ী অনেক রাজনৈতিক নেতাকর্মী তখন বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের রক্ষাকবচ হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন। সে সুযোগে কিছু ভারতবিদ্বেষী কিংবা পাকিস্তানঘেঁষা মানুষ বুঝে হোক, আর না বুঝেই হোক, বিএনপিতে ঢুকে পড়েছিল।

বিএনপির দলীয় রাজনীতিতে ২০০১-২০০৬ শাসনকাল ও ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করাটা ছিল অনেক তথ্যাভিজ্ঞ মানুষের বিবেচনাতেই একটি মারাত্মক ভুল সিদ্ধান্ত। আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে দূরে রাখা ও তাদের ভারতবিরোধী ভূমিকাকে চাঙ্গা রাখার লক্ষ্যে ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যবর্তী সময়ে দলীয় তাত্পর্যপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ভুলে বিএনপি ও জামায়াত অনেকটা একাত্ম হয়ে পড়েছিল বলে বিভিন্ন মহলে অভিযোগ উঠেছিল। জামায়াত তার ধর্মভিত্তিক রাজনীতিকে পাশ কাটিয়ে যুদ্ধাপরাধসংক্রান্ত বিচারের দাবিকে ঠেকিয়ে রাখার জন্য বিএনপির ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল বলে ধারণা করা হয়েছে। অপরদিকে ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য বিএনপির কাছে তখন জামায়াতের বিকল্প কিছুই ছিল না। এ ধারণা অনেকের। তবে ২০০১ সালে জামায়াতের সম্মিলিত আসন ছাড়া বিএনপি নিজেই দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেছিল। বিভিন্ন রাজনৈতিক কারণে ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচন বর্জন করা বিএনপির জন্য অত্যন্ত গর্হিত কাজ হয়েছে বলে দলেরও অনেকে মনে করেন। তা ছাড়া কারো কারো ধারণা, যুদ্ধাপরাধের চলমান বিচার ঠেকানোর জন্য জামায়াত বিএনপিকে নির্বাচন বর্জন করতে বাধ্য করেছে। জামায়াত নাকি বিএনপি নেতৃত্বকে ধারণা দিয়েছিল যে তুমুল আন্দোলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ঘোষিত নির্বাচন ঠেকানো হবে। আওয়ামী লীগের অবস্থান ও দেশের নিরাপত্তা (অভ্যন্তরীণ) তছনছ করে দেওয়া হবে। কিন্তু দেশে কমবেশি আন্দোলন যা-ই হয়েছে তাতে নির্বাচন ঠেকানো যায়নি। বরং আন্দোলনের সময় নিক্ষিপ্ত পেট্রলবোমা, যাতে অসংখ্য নিরপরাধ মানুষ নিহত ও আহত হয়েছে, তাতে দেশব্যাপী নৈরাজ্য সৃষ্টির জন্য বিএনপিকেও দায়ী করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন মহাজোট এ সুযোগটি লুফে নিয়ে বিএনপিকে একটি ‘দেশবিরোধী’ ও ‘গণবিরোধী’ দল হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করেছে। পাশাপাশি জামায়াতকে একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে এ দেশে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার জন্য বারবার দাবি জানিয়েছে, যা এখনো বহাল রয়েছে।

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের নেতারা কোনো নির্বাচন নিয়ে বিএনপির সঙ্গে আলোচনায় বসতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য হচ্ছে, ক্ষমতাসীন সরকারের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক বিষয়ে আলোচনা করতে হলে বিএনপিকে প্রথমে জামায়াতের সঙ্গ বা সংস্পর্শ ত্যাগ করতে হবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ঠেকানো যাবে না। এ বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনেক দূর গড়িয়েছে। আন্দোলনের নামে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে অধিকাংশ বিএনপি নেতার নামে মামলা দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে জেলে নেওয়া হচ্ছে নেতাকর্মীদের। ফলে দেশে এখন আন্দোলন তো দূরের কথা, নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণভাবে সভা-সমিতি কিংবা সম্মেলন করতেও বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। দেশ থেকে গণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ড একরকম উঠে গেছে বললেও অত্যুক্তি করা হবে না। তাতে বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থা এখন কী দাঁড়িয়েছে? সরকারি দলের নেতারা বলেন, বিএনপির ডাকে এখন দেশের মানুষ আন্দোলনের মাঠে নামে না। রাজধানীতে একটা বড় প্রতিবাদ মিছিল করার ক্ষমতাও নেই তাদের। গণ-অভ্যুত্থানের হুমকি-ধমকি এখন পরিহাসে রূপান্তরিত হয়েছে। খালেদা জিয়া এখন অনেকটা নিজ গৃহে অন্তরীণ এবং তাঁর পুত্র বিএনপির ভবিষ্যৎ র্কণধার তারেক রহমান বিদেশের মাটিতে স্বেচ্ছানির্বাসনে রয়েছেন। দলের প্রবীণ নেতাদের কেউ কেউ মারা গেছেন, আর কেউ কেউ অবসরে যাচ্ছেন। বাকিরা মামলা মাথায় নিয়ে কিছু দিন জেলে থাকেন তো আবার জামিনে বেরিয়ে আসেন। অপেক্ষা করেন আবার জেলে যাওয়ার জন্য।

এ অবস্থায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল অধিবেশন। বিএনপির বর্তমান চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আবার স্বপদে বহাল হয়েছেন। তবে তাঁদের ওপরও ঝুলছে বিচারাধীন মামলা। অদূর ভবিষ্যতে হয়তো বা তাঁদেরও গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠানো হবে। তখন নেতৃত্বের প্রশ্নে বিএনপিতে এক নিশ্চিত শূন্যতা দেখা দেবে। এ অবস্থায় দলের সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীরা চায় সৎ, কর্মঠ ও শিক্ষিত তরুণদের নিয়ে বিকল্প নেতৃত্ব গড়ে তুলতে, যাঁরা দেশব্যাপী সাংগঠনিকভাবে বিএনপিকে আবার চাঙ্গা করতে পারবেন। শুধু তাই নয়, একবিংশ শতাব্দীর চাহিদা অনুযায়ী যাঁরা যুগোপযোগীভাবে জাতীয় জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও দক্ষতার সঙ্গে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হবেন। দেশ ও জনগণের মূল সমস্যা বা ইস্যুকে পাশ কাটিয়ে ‘নন-ইস্যু’ নিয়ে অহেতুক বিতর্ক সৃষ্টি করবেন না। শিষ্টাচারবর্জিত রাজনৈতিক বিতর্ক ও কাদা ছোড়াছুড়ি জাতির জন্য কোনো কল্যাণ বলে আনবে না। উন্নয়ন, উত্পাদন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সাফল্য বয়ে আনবে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন ও প্রকৃত সমৃদ্ধি। অশোভন আচরণ ও বিতর্ক জনপ্রতিনিধি ও বৃহত্তরভাবে রাজনীতিকদের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করে। অধিবেশন শেষে গঠন করা নতুন কমিটিতে প্রকৃত অর্থে সৎ, ত্যাগী ও কর্মঠ তরুণদের যাতে স্থান করে দেওয়া যায় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। বিএনপির গঠনতন্ত্র সংশোধনকল্পে তৃণমূল পর্যায় থেকে এর মধ্যেই বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব এসেছে। দলের কাউন্সিল সামনে রেখে গঠিত বিএনপির গঠনতন্ত্র সংশোধন উপকমিটিতে সেগুলো পেশ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। উপকমিটির বাছাই করা সংশোধনী প্রস্তাবগুলো দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। দলীয় প্রধানের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেগুলো কাউন্সিলে উত্থাপন করা হবে কাউন্সিলরদের ভোটে পাস করানোর জন্য। দলকে সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক, সচল ও প্রতিনিধিত্বশীল করার লক্ষ্যে বর্তমান গঠনতন্ত্র যেভাবে সংশোধিত হওয়া উচিত তাতে যেন কোনো বাধা না আসে। বিএনপি এখন আর কোনো শিশুসংগঠনের পর্যায়ে নেই। বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে দলটি প্রায় চার দশক সক্রিয় রয়েছে, তাকে আরো প্রতিনিধিত্বশীল, গণতান্ত্রিক ও যুগোপযোগী করতে যে যে নিয়ম-নীতি প্রয়োজন, তাই সংযোজন করতে হবে। দলের সব পর্যায়ের নেতা নির্বাচিত হতে হবে দলীয় সদস্য ও কর্মীদের সরাসরি ভোটে, কোনো নেতা বা নেত্রীর ইচ্ছানুযায়ী নয়। যোগ্য লোকের হাতে নেতৃত্ব যাওয়া প্রয়োজন এবং সেখানে দলীয় সদস্য ও কর্মীদের সিদ্ধান্তের প্রতিফলন ঘটা অত্যন্ত আবশ্যক।

আগেই বলেছি, ছয় বছর পর অনুষ্ঠেয় বিএনপির জাতীয় কাউন্সিলটি বিভিন্ন কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিএনপি ভবিষ্যতে কিভাবে টিকে থাকবে আগামীকালের জাতীয় কাউন্সিল যেন তার একটি সঠিক দিকনির্দেশ দেয়। এ ক্ষেত্রে ব্যর্থ হলে বিএনপির অস্তিত্ব বিপন্নও হতে পারে। বিএনপি প্রকৃত অর্থে একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিশালী গণসংগঠনে পরিণত হোক, এটি দলের ব্যাপক সমর্থক, কর্মীবাহিনী ও শুভানুধ্যায়ীদের ইচ্ছা। তা ছাড়া একটি আদর্শ গণসংগঠন হিসেবে বিএনপি সব ধরনের অপশক্তির প্রভাব থেকে মুক্ত হোক—এটিও তাদের কামনা। যে দলের প্রতি দেশের ব্যাপক জনগোষ্ঠীর সমর্থন থাকে তাদের আর কারো সাহায্যের প্রয়োজন পড়ে না। সুতরাং বিএনপিকে সত্যিকার অর্থে একটি প্রতিনিধিত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক গণসংগঠনে পরিণত করতে পারলে তাতে নেতৃত্বের শূন্যতা কখনোই সৃষ্টি হতে পারে না। সুতরাং আমাদের কাম্য হচ্ছে, এ মুহূর্তে বিএনপিকে কোনো মহল কিংবা গোষ্ঠীর কাছে আবদ্ধ না রেখে নীতি ও আদর্শগতভাবে মুক্ত করে দেওয়া; সম্পূর্ণভাবে জনগণের বিএনপিতে পরিণত করা। তা হলে তার অস্তিত্ব রক্ষা নিয়ে কোনো সংশয় থাকবে না।  

লেখক : বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) সাবেক প্রধান সম্পাদক ও

ব্যবস্থাপনা পরিচালক

gaziulhkhan@gmail.com


মন্তব্য