চীনের উত্থান কি সত্যিই দুঃস্বপ্নের-334878 | উপ-সম্পাদকীয় | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

শনিবার । ১ অক্টোবর ২০১৬। ১৬ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৮ জিলহজ ১৪৩৭


বহে কাল নিরবধি

চীনের উত্থান কি সত্যিই দুঃস্বপ্নের কারণ হবে

এম আবদুল হাফিজ

১২ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



চীনের উত্থান কি সত্যিই দুঃস্বপ্নের কারণ হবে

আফ্রিকায়ও এই এশীয় শক্তি সম্পর্কে একটি ইতিবাচক ধারণা আছে যে তার কতখানি ক্রমবর্ধমান শক্তি সঞ্চয় হতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মিত্ররা বোঝে যে তাদের সূর্যাস্ত কতটা আসন্ন। একটি ইউরোপীয় সরকারের সাবেক উচ্চপদস্থ আমলা লেখককে সম্প্রতি বলেছেন যে উত্তর ইউরোপ তামাটে, অর্থাৎ ভীষণ রক্ষণশীল হয় এবং দক্ষিণ ইউরোপ লাল হলে চরম বামপন্থী হয়। ইত্যবসরে পশ্চিমে ব্রিটেন আর ইইউতেই থাকে না। এবং পূর্বে রাশিয়া সব কিছুকে ছেয়ে ফেলে; যদিও সে বলতে পারত, চীন যুক্তরাষ্ট্রকে গ্রহণ বিবেচনা করতে এবং বিশ্ব পরিচালনার দায়িত্ব নিতে পারে।

যদি মনে হয় যে এমন সম্ভাবনা অস্বাভাবিক, আপনি কিন্তু সংখ্যালঘিষ্ঠের দলে প্রায় সর্বত্র। প্রায় সর্বত্র লোকে ভাবছে যে বৈশ্বিক স্টেজে একটি রি-শাফ্ল্-এর কথা। কখন তা হয় বা আদৌ না হয় এমন একটা পরিবর্তনই আসন্ন সময়ের ভাবনায় রয়েছে। এ রকম একটি ধারণা সম্প্রতি পিউ গবেষণা কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে এখন হাওয়ায় ভাসছে। এমন ভাসমান মতামত? ক্ষমতার আন্তর্জাতিক ভারসাম্য ঠিক করতে যাচ্ছে। চীন কি শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে? অথবা স্থলাভিষিক্ত হতে যাচ্ছে। বিশ্বজুড়ে জরিপ চলছে, বিশেষ করে ইউরোপে পশ্চিমা শক্তি কাঠামোতে, যার অনেকটাই গুরুত্ব আছে।

অবশ্য এই জরিপ বা বিতর্ক এ কথা বলে না যে ক্ষমতার ভারসাম্য যদি তা হয়—তা ভালো কী মন্দ। কিন্তু যদি তা ঘটে তা বিশ্ব সম্প্রদায় অবশ্য এর পরিবর্তনে ব্যাপকভাবে ভালোর দিকেই তাকিয়ে থাকে। এযাবৎ জরিপের ফল অনুযায়ী ৫৯ শতাংশ ব্রিটেন ও জার্মানিবাসী ভারসাম্যে পরিবর্তনের পক্ষপাতী। ফরাসিদের ৬৬ শতাংশ ও স্প্যানিশদের একই প্রকার অধিবাসী ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ণীত হওয়া চায়। যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে ক্ষমতার ভারসাম্য বিচারে প্রচণ্ড বিভক্তি।

জরিপের এই পুরো ব্যাপারটাই জরিপের অনেক উপাদানের জটাজালে গত কয়েক বছরে চীনের স্থান স্থিতিশীল থাকে। অনেকের মতে, চীনের উত্থানের সর্বোচ্চ চূড়া পেরিয়ে গেছে। এখন চীনা নেতা প্রেসিডেন্ট জি পিং বিগত দিনের ক্ষতির পরিমাণ পুষিয়ে নিতে বদ্ধপরিকর। ক্ষমতা পরিমাপে যেসব অনুষঙ্গ বিচার্য তার অধিকাংশই আবার Abstract, যেমন—স্ট্র্যাটেজি ও সামরিক কৌশল। তবে ভারসাম্যের বিচারের শেষ খেলাটি এশিয়া প্যাসিফিকে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

দক্ষিণ চীন সাগর চীনের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর ইস্যু। যেমন—যুক্তরাষ্ট্রের জন্য চীনকে পরাশক্তির স্বীকৃতি দেওয়া কঠিন, বিশেষ করে সোভিয়েত ইউনিয়নের স্নায়ুযুদ্ধে পরাজয়ের পর, যখন জাপানি বংশোদ্ভূত মার্কিন গবেষক ফ্রান্সিস ফুকুয়ামা গ্লাসনস্ত ও পেরেস্ত্রয়কার পথ ধরে তাঁর বিতর্কিত এবং বিখ্যাত ‘অ্যান্ড অব দ্য হিস্টরি’র তত্ত্ব প্রচার করেন। তবে ফুকুয়ামার তত্ত্বের পর পৃথিবী অনেক বদলেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রেষ্ঠত্ব এসেছিল ধনতন্ত্রের সঠিক প্রয়োগ ও মার্কিন মূল্যবোধের কারণে। নয়-এগারোর পর যুক্তরাষ্ট্র তার মূল্যবোধ হারিয়েছে গুয়ানতানামো, বাগমারা ও আবু গারাইবের দুষ্কার্যের ও অমানবিকতার ভেতর দিয়ে। চীন মাও-এর পর ১৯৪৯ সালের চীনের স্থানে নেই। চীনের অর্থনীতি, প্রযুক্তি, এমনকি দক্ষিণ চীন সমুদ্রে দেশটির সংযম দেশটিকে অনেক উঁচুতে উঠিয়েছে। তা ছাড়া আছে যুক্তরাষ্ট্রের আরব বিশ্বে একটি অসমাপ্ত ইরাক যুদ্ধের অনেক ভুলের মাসুল, যার জের থাকবে বহু দিন।

লেখক : সাবেক মহাপরিচালক, বিআইআইএসএস

মন্তব্য