kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো

মুহাম্মদ (সা.) কোরআনের রচয়িতা নন

১২ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



মুহাম্মদ (সা.) কোরআনের রচয়িতা নন

১৬. বলে দাও, ‘আল্লাহ যদি চাইতেন আমিও তোমাদের কাছে তা (কোরআন) পাঠ করতাম না, আর তিনিও তোমাদের এ বিষয়ে অবহিত করতেন না। আমি তো এর আগেও তোমাদের মধ্যে জীবনের দীর্ঘকাল অবস্থান করেছি, তবুও কি তোমরা বুঝতে পারো না?’ (সুরা : ইউনুস, আয়াত : ১৬)

তাফসির : আগের আয়াতে বলা হয়েছিল, অবিশ্বাসীরা কোরআনের বিধান পরিবর্তনের দাবি করে।

আরবের কাফিররা এ দাবি জানিয়েছিল মহানবী (সা.)-এর কাছে। অবিশ্বাসীদের কারো কারো ধারণা ছিল, ‘মুহাম্মদ (সা.) নিজেই কোরআন রচনা করেছেন’! আলোচ্য আয়াতে যুক্তি ও প্রমাণের আলোকে তাদের অমূলক ধারণার জবাব দেওয়া হয়েছে। এখানে বলা হয়েছে, কোরআন আল্লাহর কিতাব। তিনি অনুগ্রহ করে মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি তা অবতীর্ণ করেছেন। আল্লাহ চাইলে এই কিতাব অন্য কারো ওপর অবতীর্ণ করতে পারতেন। তা ছাড়া মুহাম্মদ (সা.)-এর পক্ষে কোরআন রচনা করা কিছুতেই সম্ভব ছিল না। খোদ আরববাসীরাই এর সাক্ষী। মুহাম্মদ (সা.)-এর গোটা জীবন তাদের সামনেই ছিল। নবুওয়াত লাভের আগে পুরো ৪০ বছর তিনি তাদের মধ্যেই অতিবাহিত করেছিলেন। তিনি তাদের শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তাদের চোখের সামনে তাঁর শিশুকাল অতিবাহিত হয়। সেখানেই তিনি বড় হন। যৌবনে পদার্পণ করেন; তারপর প্রৌঢ়ত্বে পৌঁছেন। থাকা-খাওয়া, ওঠা-বসা, লেনদেন, বিয়েশাদি ইত্যাদি সামাজিক সম্পর্ক তাদের সঙ্গেই ছিল। তাঁর জীবনের কোনো দিক তাদের কাছে গোপন ছিল না। ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগেই তিনি পিতৃহারা হন। জন্মগ্রহণ করেন এতিম হয়ে। মাত্র সাত বছর বয়সেই তাঁর মাতৃবিয়োগ ঘটে। পিতৃ-মাতৃহীন অবস্থায় নিতান্ত কঠোর দারিদ্র্যের মধ্যে লালিত-পালিত হন তিনি। তত্কালীন আরবে শিক্ষাদীক্ষার কোনো ব্যবস্থা ছিল না। যদি লেখাপড়ার চর্চা থাকত, তবুও এ কঠোর দারিদ্র্যপূর্ণ জীবনে লেখাপড়া করার কোনো সুযোগ গ্রহণ করা তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না। সুতরাং তাঁর পক্ষে কোরআনের মতো অলৌকিকগ্রন্থ রচনা কিছুতেই সম্ভব নয়।

মিথ্যা, প্রতারণা, জালিয়াতি, ধোঁকা, শঠতা, ছলনা ও কোনো ধরনের অসৎ গুণাবলির সামান্যতম গন্ধও তাঁর চরিত্রে পাওয়া যায় না। তাঁর সততা, বিশ্বস্ততা ও আমানতদারির বিষয়ে আরবের কারো দ্বিমত ছিল না। তাই তো তারা তাঁকে ‘আল-আমিন’ (বিশ্বস্ত) ও ‘আস-সাদিক’ (সত্যবাদী) উপাধিতে ভূষিত করে। এমন ব্যক্তি নিজে কোনো কিতাব রচনা করে অন্যের নামে চালিয়ে দেবেন—এটা অবিশ্বাস্য, অকল্পনীয় ও অসম্ভব।

কোরআনের শেষ্ঠত্ব এখানেই যে এর মধ্যে জ্ঞানের সাগর পুঞ্জীভূত করা হয়েছে। এত জ্ঞানের সমাহার পৃথিবীর অন্য কোনো গ্রন্থে ঘটেনি। কোরআনের শব্দসম্ভার সংক্ষিপ্ত ও সীমিত। কিন্তু এর মধ্যে এত জ্ঞান ও বিষয়বৈচিত্র্যের সমাবেশ ঘটেছে যে তাতে মানবজীবনের সর্বকালের সব দিক পরিপূর্ণভাবে আলোচিত হয়েছে। বিশ্বপরিচালনার সুন্দরতম নিয়ম এবং ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত জীবন থেকে শুরু করে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনের নির্ভুল বিধান বর্ণিত হয়েছে এই মহাগ্রন্থে। ইহকাল, পরকাল ছাড়াও জীববিজ্ঞান, উদ্ভিদবিজ্ঞান এমনকি রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমাজনীতির পথনির্দেশসংবলিত এমন সমাহার বিশ্বের অন্য কোনো আসমানি কিতাবেও দেখা যায় না।

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য