kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো

ইহুদিরা প্রথমদিকে বায়তুল মুকাদ্দাস প্রবেশে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল!

   

৩ জানুয়ারি, ২০১৫ ০০:০০



ইহুদিরা প্রথমদিকে বায়তুল মুকাদ্দাস প্রবেশে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল!

২১. (মূসা আ. বলল), হে আমার সম্প্রদায়, পবিত্র ভূমিতে প্রবেশ করো, যা আল্লাহ তোমাদের জন্য নির্ধারিত করে দিয়েছেন। আর পেছন দিকে প্রত্যাবর্তন করো না। অন্যথায় তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়বে।

২২. তারা বলল, 'হে মূসা! সেখানে একটি প্রবল পরাক্রম জাতি রয়েছে। আমরা কখনো সেখানে যাব না, যে পর্যন্ত না তারা সেখান থেকে বের হয়ে যায়। তারা যদি সেখান থেকে বের হয়ে যায়, তবে নিশ্চিতই আমরা প্রবেশ করব।'

২৩. খোদাভীরুদের মধ্য থেকে দুই ব্যক্তি বলল, যাদের প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করেছিলেন, তোমরা তাদের ওপর আক্রমণ করে দরজায় প্রবেশ করো। অতঃপর তোমরা যখন তাতে প্রবেশ করবে, তখন তোমরাই বিজয়ী হবে। আর আল্লাহর ওপর ভরসা করো, যদি তোমরা বিশ্বাসী হও। (সুরা আল মায়েদা : ২১-২৩)।

তাফসির : আগের আয়াতে বলা হয়েছিল, বনি ইসরাঈল ও ইহুদি জাতি আল্লাহর সর্বাধিক নেয়ামতপ্রাপ্ত হয়েছিল। আলোচ্য আয়াতগুলোতে আল্লাহ তায়ালা একটি বিশেষ ঘটনার অবতারণা করে দেখিয়ে দিচ্ছেন, কিভাবে তারা সর্বাধিক নেয়ামত পেয়ে সর্বাধিক অবাধ্য ও অকৃতজ্ঞ জাতিতে পরিণত হয়েছিল।

ইহুদিদের প্রতি পবিত্র ভূমিতে প্রবেশের আদেশ

আলোচ্য প্রথম আয়াতে বলা হয়েছে, মূসা (আ.) ইহুদিদের পবিত্র ভূমিতে প্রবেশের আদেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু ইহুদিরা সেখানে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। এখানে পবিত্র ভূমি বলতে কোন ভূমিকে বোঝানো হয়েছে, এ প্রশ্নে কোরআন ব্যাখ্যাদাতাদের মতামত বাহ্যত ভিন্ন ভিন্ন। কারো কারো মতে, বায়তুল মুকাদ্দাস, কারো মতে কুদস শহর ও ইলিয়া। কেউ কেউ বলেন, আরিহা শহর, যা জর্দান নদী ও বায়তুল মুকাদ্দাসের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। এটি বিশ্বের একটি প্রাচীনতম শহর, যা আগেও ছিল, এখনো আছে। কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে, এ শহরের এক হাজার ভিন্ন ভিন্ন অংশ ছিল। প্রতি অংশে এক হাজার করে বাগান ছিল। অন্য বর্ণনায় এসেছে, পবিত্র ভূমি বলে দামেস্ক ও ফিলিস্তিনকে বোঝানো হয়েছে। হজরত কাতাদাহ বলেন, সমগ্র সিরিয়াই পবিত্র ভূমি। উপরোক্ত মতামত পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, আলোচনা ফিলিস্তিন ও বায়তুল মুকাদ্দাসকে ঘিরেই। এমনকি বিশুদ্ধ বর্ণনায় পাওয়া যায়, আল্লাহর নির্দেশ পালনের জন্য মূসা (আ.) সিরিয়া অভিমুখে রওনা হয়েছেন; কিন্তু তাঁর উদ্দেশ্য ছিল বায়তুল মুকাদ্দাস পৌঁছা। এ বর্ণনা মতে, এ কথা অনুমান করা খুবই সহজ যে প্রথমবার যখন ইহুদিদের বায়তুল মুকাদ্দাস প্রবেশের আদেশ দেওয়া হয়েছিল, তখন তারা কেবল নবীর আদেশ অমান্যই করেনি; চরম ঔদ্ধত্য ও ধৃষ্টতাপূর্ণ বাক্য ব্যবহার করেছিল। আর ইতিহাসের নির্মম সত্য কথা হলো, আজকে সেই ইহুদিরাই সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে ফিলিস্তিন ও বায়তুল মুকাদ্দাসের ওপর আধিপত্য বজায় রাখতে যুগ যুগ ধরে হত্যা-গণহত্যার মাধ্যমে রক্তের হোলি খেলায় মেতে উঠেছে। তখনকার দুর্বল ইহুদিরা বিজয়ের গ্যারান্টি পেয়েও প্রতাপশালী জাতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে অপারগতা প্রকাশ করেছিল। আজকের ইহুদিরা হয়তো শৌর্যে-বীর্যে, অস্ত্রশস্ত্রে অনেকটা ক্ষমতাধর। কিন্তু পৃথিবীর ইতিহাস পালাবদলের। ক্ষমতা চিরস্থায়ী কোনো বস্তু নয়; তাই ক্ষমতার যথেচ্ছ ব্যবহার অধঃপতনকেই ত্বরান্বিত করে।

(তাফসিরে মা'আরেফুল কোরআন ও ইবনে কাছির অবলম্বনে)

 

 

 



মন্তব্য