kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


এনআইবিতে শেষ হলো শুভসংঘ দ্বিতীয় জাতীয় বায়োক্যাম্প

লক্ষ্য এবার ভিয়েতনাম জয়

জাকারিয়া জামান   

২০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



লক্ষ্য এবার ভিয়েতনাম জয়

অতিথিদের সঙ্গে বায়োক্যাম্পে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা। ছবি : সাজ্জাদ সাজু

শীতের ঝরা পাতাগুলোর শূন্যস্থান পূরণে ফাল্গুনে গাছে গাছে যখন নতুন পাতা উঁকি দিচ্ছে, তখন সাভারের আশুলিয়ায় নতুনের সম্ভাবনার সন্ধানে ব্যস্ত সারা দেশের নামকরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কিছু শিক্ষার্থী। ১১ মার্চ শুক্রবার দিনের শুরুটাই যেন অন্য রকম ছিল তাদের জন্য।

সকাল ৮টা বাজার আগেই সাভারের গণস্বাস্থ্য পিএইচএ কনভেনশন সেন্টারে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সমাগম শুরু হয়ে গেছে। দ্বিতীয় জাতীয় বায়োক্যাম্প শুরু হতে যাচ্ছে আর কিছুক্ষণের মধ্যেই। ভিয়েতনামে অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে প্রতিযোগী বাছাইয়ের জন্য গত ৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় জাতীয় জীববিজ্ঞান উৎসব। সেখানে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিতদের নিয়ে জীববিজ্ঞানবিষয়ক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ ও চূড়ান্ত বাছাইয়ের জন্য অনুষ্ঠিত হয়েছে দ্বিতীয় জাতীয় বায়োক্যাম্প। সেখানকার প্রশিক্ষণোত্তর মূল্যায়নের মাধ্যমে নির্ধারিত হলো কারা ভিয়েতনামে এ বছর বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করছে।

১৩ মার্চ রবিবার বিকেলে আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণের জন্য নির্বাচিত হলো চার খুদে বিজ্ঞানী। বাংলাদেশ থেকে প্রথমবারের মতো এ বছর ভিয়েতনামে দেশের হয়ে লড়বে তারা। আশুলিয়ার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজি (এনআইবি) মিলনায়তনে দ্বিতীয় জাতীয় বায়োক্যাম্পে যোগ্যতা যাচাইয়ের মাধ্যমে তাদের নির্বাচিত করা হয়। নির্বাচিত চার শিক্ষার্থী হলো—সেন্ট জোসেফ স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী আইমান ওয়াদুদ, মাস্টারমাইন্ডের ওয়াসিক হাসান, অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের মাইশা এম প্রমি এবং স্কলাস্টিকার ওয়াসি রহমান চৌধুরী।

আশুলিয়ার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজিতে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয় ‘দ্বিতীয় জাতীয় বায়োক্যাম্প ২০১৬’। ক্যাম্পের আয়োজন করে বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড কমিটি। রবিবার ছিল ক্যাম্পের সমাপনী দিবস এবং বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় সমাপনী অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কালের কণ্ঠ’র নির্বাহী সম্পাদক কথাসাহিত্যিক মোস্তফা কামাল। বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড কমিটির চেয়ারম্যান ও শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শাহিদুর রশীদ ভূইয়ার সভাপতিত্বে সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজির মহাপরিচালক ড. মো. সলিমুল্লাহ, বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. জীবন কৃষ্ণ বিশ্বাস, বিজ্ঞানী ড. জাহাঙ্গীর আলম ও কেশব চন্দ্র দাস। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোস্তফা কামাল বলেন, ‘এই ক্যাম্পে যারা এসেছে তারা স্বপ্ন দেখে। এদের মধ্য থেকেই কেউ একদিন নোবেল প্রাইজ পাবে বলে আমি বিশ্বাস করি। বড় স্বপ্ন দেখতে হবে। আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখতে হবে। স্বপ্ন মানুষকে অনেক দূর নিয়ে যায়। এই ক্যাম্পে যারা এসেছে তারা কিছু শেখার জন্য অনেক বড় আগ্রহ নিয়ে এসেছে। এটাই বিশাল, এরা অনেক দূর যাবে। বিশ্বের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে এরা টিকে যাবে। ’ ড. মো. শাহিদুর রশীদ ভূইয়া বলেন, ‘আমাদের সবচেয়ে বেশি সাফল্য এসেছে জীববিজ্ঞানের গবেষণায়। মৌলিক গবেষণা ও আবিষ্কার সর্বত্রই জীববিজ্ঞানের সাফল্য। আজ আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ, আমরা উদ্ভাবন করি নতুন প্রজাতি—এ সবই সম্ভব হয়েছে জীববিজ্ঞান গবেষণার কারণে। ’ শিক্ষার্থীদের এই পথ চলা এবং জীববিজ্ঞানকে ভালোবাসার জন্য ধন্যবাদ জানান তিনি। বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডা. সৌমিত্র চক্রবর্তী বলেন, এ ক্যাম্পের উদ্দেশ্য বাংলাদেশের স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানমনষ্কতা এবং জীববিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহের বিকাশ ঘটানো। যেন তারা পরবর্তী সময়ে মুক্তচিন্তার মানুষ হিসেবে বেড়ে উঠতে পারে। নির্বাচিত চার খুদে বিজ্ঞানীর মধ্যে একমাত্র নারী শিক্ষার্থী অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের মাইশা এম প্রমি বলেন, দেশের প্রতিনিধি হয়ে যাচ্ছি, দেশকে যেন ভাল কিছু উপহার দিতে পারি সে চেষ্টাই করে যাব। বিদেশের মাটিতে আমরা উড়াবো লাল সবুজের পতাকা।

এই আয়োজনের মিডিয়া পার্টনার ছিল কালের কণ্ঠ এবং সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেছে কালের কণ্ঠ শুভসংঘ।


মন্তব্য